ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বরিশালে স্ট্যাম্প-চেকে জোর করে স্বাক্ষরের ঘটনায় দুজন গ্রেফতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে মারধর, নির্যাতন এবং জোর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রবিবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাটপট্টি রোড এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান লিটু (৫২) এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া এলাকার আবুল কালাম আজাদ (৫৫)।

কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানায়, ভাইরাল ভিডিওটি পর্যালোচনার পর ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মামলা রুজু করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় নগরীর সদর রোডে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে কয়েকটি স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ৭০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, প্রথমে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আদালতে মামলা করি। আদালতে ভিডিও উপস্থাপনের পর মামলা এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার পর আজ রবিবার বিকেল চারটায় মহানগর পুলিশ কমিশনার আশিক সাইদ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি জানান, সকালে মামলা রুজুর তিন ঘণ্টা পর দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িতরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদলের নেতা হিসেবে অপপ্রচারের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা ও মহানগর যুবদল। সম্মেলনে বলা হয়, অভিযুক্ত কখনোই সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতা বা সদস্য ছিলেন না। একই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নাও।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর দাবি, পাওনা টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, অর্থ আদায়ের বিরোধ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বরিশালে স্ট্যাম্প-চেকে জোর করে স্বাক্ষরের ঘটনায় দুজন গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৬:৩০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে মারধর, নির্যাতন এবং জোর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রবিবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাটপট্টি রোড এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান লিটু (৫২) এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া এলাকার আবুল কালাম আজাদ (৫৫)।

কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানায়, ভাইরাল ভিডিওটি পর্যালোচনার পর ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মামলা রুজু করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় নগরীর সদর রোডে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে কয়েকটি স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ৭০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, প্রথমে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আদালতে মামলা করি। আদালতে ভিডিও উপস্থাপনের পর মামলা এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার পর আজ রবিবার বিকেল চারটায় মহানগর পুলিশ কমিশনার আশিক সাইদ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি জানান, সকালে মামলা রুজুর তিন ঘণ্টা পর দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িতরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদলের নেতা হিসেবে অপপ্রচারের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা ও মহানগর যুবদল। সম্মেলনে বলা হয়, অভিযুক্ত কখনোই সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতা বা সদস্য ছিলেন না। একই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নাও।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর দাবি, পাওনা টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, অর্থ আদায়ের বিরোধ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।