ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু

বরিশালে স্ট্যাম্প-চেকে জোর করে স্বাক্ষরের ঘটনায় দুজন গ্রেফতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে মারধর, নির্যাতন এবং জোর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রবিবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাটপট্টি রোড এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান লিটু (৫২) এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া এলাকার আবুল কালাম আজাদ (৫৫)।

কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানায়, ভাইরাল ভিডিওটি পর্যালোচনার পর ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মামলা রুজু করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় নগরীর সদর রোডে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে কয়েকটি স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ৭০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, প্রথমে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আদালতে মামলা করি। আদালতে ভিডিও উপস্থাপনের পর মামলা এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার পর আজ রবিবার বিকেল চারটায় মহানগর পুলিশ কমিশনার আশিক সাইদ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি জানান, সকালে মামলা রুজুর তিন ঘণ্টা পর দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িতরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদলের নেতা হিসেবে অপপ্রচারের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা ও মহানগর যুবদল। সম্মেলনে বলা হয়, অভিযুক্ত কখনোই সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতা বা সদস্য ছিলেন না। একই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নাও।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর দাবি, পাওনা টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, অর্থ আদায়ের বিরোধ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

বরিশালে স্ট্যাম্প-চেকে জোর করে স্বাক্ষরের ঘটনায় দুজন গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৬:৩০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে মারধর, নির্যাতন এবং জোর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রবিবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাটপট্টি রোড এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান লিটু (৫২) এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া এলাকার আবুল কালাম আজাদ (৫৫)।

কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানায়, ভাইরাল ভিডিওটি পর্যালোচনার পর ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মামলা রুজু করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় নগরীর সদর রোডে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে কয়েকটি স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ৭০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, প্রথমে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আদালতে মামলা করি। আদালতে ভিডিও উপস্থাপনের পর মামলা এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার পর আজ রবিবার বিকেল চারটায় মহানগর পুলিশ কমিশনার আশিক সাইদ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি জানান, সকালে মামলা রুজুর তিন ঘণ্টা পর দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িতরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদলের নেতা হিসেবে অপপ্রচারের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা ও মহানগর যুবদল। সম্মেলনে বলা হয়, অভিযুক্ত কখনোই সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতা বা সদস্য ছিলেন না। একই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নাও।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর দাবি, পাওনা টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, অর্থ আদায়ের বিরোধ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।