ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভেবেছিলাম সবাই খামেনিকে ঘৃণা করে, কিন্তু এতো মানুষকে কাঁদতে দেখে অবাক হয়েছি’: ট্রাম্প কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ : ঢাবি উপাচার্য এমডির অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জনগণের গৌরবের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিনকে প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরাইলকে দেওয়া যাবে না: এরদোগান সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি ৪ নির্দেশনা দিয়ে করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর হামে মেয়ের মৃত্যু, ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

এমডির অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং অফিসে এই ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা ভাইরাল হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আজিজ আদালতে নালিশি মামলা করেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক ঢুকে পড়েন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক যুবক আজিজকে মারধর করেন। একপর্যাযে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মারধরের সময়ে আজিজ ‘বাচ্চু-বাচ্চু’ বলে একজনকে ডাকাডাকি করেন। ডাক শুনে আরেক ব্যক্তি কক্ষের মধ্যে ঢুকলে লিটুর সঙ্গীরা ধাক্কাধাক্কি করে তাকে বের করে দেন। পরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সেটা হস্তান্তরের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত লিটু অগ্রণী হাউজিংয়ের কাছাকাছি কাঠপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ বলেন, লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়। এরপরও তিনি এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অফিসে ঢুকে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

তিনি জানান, ঘটনার পর তিনি ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে নালিশি মামলা করেছেন। নালিশি মামলাটি এফআইআরভুক্ত করতে আদালত কোতোয়ালী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আজিজ স্বীকার করেন, সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ শনিবার রাতে তিনিই প্রকাশ করেছেন।’

ঘটনার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, যারা গিয়েছিলেন তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তার দাবি, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রকাশ্যে এভাবে লাঞ্ছিত করা কাম্য নয়। যদি বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের কেউ জড়িত থাকেন, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।’

আদালতের আদেশের কাগজ রবিবার থানায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেবেছিলাম সবাই খামেনিকে ঘৃণা করে, কিন্তু এতো মানুষকে কাঁদতে দেখে অবাক হয়েছি’: ট্রাম্প

এমডির অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

আপডেট সময় ০২:০৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং অফিসে এই ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা ভাইরাল হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আজিজ আদালতে নালিশি মামলা করেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক ঢুকে পড়েন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক যুবক আজিজকে মারধর করেন। একপর্যাযে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মারধরের সময়ে আজিজ ‘বাচ্চু-বাচ্চু’ বলে একজনকে ডাকাডাকি করেন। ডাক শুনে আরেক ব্যক্তি কক্ষের মধ্যে ঢুকলে লিটুর সঙ্গীরা ধাক্কাধাক্কি করে তাকে বের করে দেন। পরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সেটা হস্তান্তরের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত লিটু অগ্রণী হাউজিংয়ের কাছাকাছি কাঠপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ বলেন, লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়। এরপরও তিনি এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অফিসে ঢুকে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

তিনি জানান, ঘটনার পর তিনি ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে নালিশি মামলা করেছেন। নালিশি মামলাটি এফআইআরভুক্ত করতে আদালত কোতোয়ালী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আজিজ স্বীকার করেন, সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ শনিবার রাতে তিনিই প্রকাশ করেছেন।’

ঘটনার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, যারা গিয়েছিলেন তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তার দাবি, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রকাশ্যে এভাবে লাঞ্ছিত করা কাম্য নয়। যদি বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের কেউ জড়িত থাকেন, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।’

আদালতের আদেশের কাগজ রবিবার থানায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি জানান।