ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্ভরযোগ্য ডাটা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি : অর্থমন্ত্রী ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমার সীমা‌ন্তে নজরদা‌রি বা‌ড়ানো হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিশালে স্ট্যাম্প-চেকে জোর করে স্বাক্ষরের ঘটনায় দুজন গ্রেফতার খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা ইরানের নিউইয়র্কে গোলাগুলি, ৪ শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৮ ফিলিস্তিনে দখলদারত্ব না শেষ হলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক নয় : সিসি জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ছিল একটি বর্বরোচিত ঘটনা : শ্রম প্রতিমন্ত্রী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ডিএসসিসির অভিযান জাইকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী দল ব্রাজিল। আর এ নিয়ে চারবার বিশ্বকাপ খেলছে নরওয়ে। অথচ বিশ্বকাপে নরওয়েকে কোনো দিন হারাতে পারেনি।

এই দুই দলের চারবারের দেখায়, দুবার জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুই ম্যাচ ড্র। মানে আজ ইতিহাস বদলানোর মিশনেই নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল।

১৯৮৮ সালে ওসলোতে দুই দলের প্রীতি ম্যাচ। কার্লোস আলবার্তো সিলভার অধীনে ব্রাজিল তখন নতুন করে দল গোছাচ্ছে। অন্যদিকে নরওয়ে ছিল গড়পড়তা এক দল। প্রথম গোলটা দেয় ব্রাজিলই, গোল করেন রোমারিও। কিন্তু ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হয়।

প্রায় এক দশক পর, ১৯৯৭ সাল। জাগালোর অধীনে রোনালদো-রোমারিওদের নিয়ে গড়া তারকাখচিত ব্রাজিল আবার ওসলো সফরে যায়। সবাই ব্রাজিলের একচেটিয়া জয়ের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে ব্রাজিলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় নরওয়ে। টোরে আন্দ্রে ফ্লোর জোড়া গোলের সঙ্গে ইয়াকবসেন ও ওস্টেনস্টাড গোল–উৎসব করেন। ডেনিলসন ও রোমারিও গোল করলেও নড়বড়ে রক্ষণ সেদিন ব্রাজিলকে বাঁচাতে পারেনি।

১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেই মহানাটক-

১৯৯৮ সালের ২৩ জুন। এই দ্বৈরথের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়টি এদিনই লেখা হয়। ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ভেন্যু ছিল মার্সেইর স্টেড ভেলোড্রম। ব্রাজিল ততক্ষণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে।

তবু কোচ জাগালো মাঠে নামিয়েছিলেন পূর্ণ শক্তির দল। দলে ছিলেন রোনালদো, রিভালদো ও বেবেতো। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে নরওয়ের দরকার ছিল জয়। ম্যাচের ৭৭ মিনিট পর্যন্ত কোনো গোল হয়নি। এরপর ডেনিলসনের চমৎকার এক ক্রস আসে। দুর্দান্ত হেডে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন বেবেতো। কিন্তু ব্রাজিলিয়ানদের সেই আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৬ মিনিট। টোরে আন্দ্রে ফ্লো সমতা ফেরান।

ম্যাচের আসল নাটক তখনো বাকি। ৮৯ মিনিটে বক্সের ভেতর জুনিয়র বাইয়ানো ফ্লোর জার্সি টেনে ধরেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে কেতিল রেকডাল গোল করেন। নরওয়ে পেয়ে যায় ২-১ ব্যবধানের এক ঐতিহাসিক জয়। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন।

সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ দুঙ্গার অধীনে একঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে আবার ওসলো সফরে গিয়েছিল সেলেসাওরা। কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি।

ড্যানিয়েল কারভালহো ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন। কিন্তু মর্টেন গ্যামস্ট পেডারসেনের গোলে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়।

এরপর দীর্ঘ ২০ বছর এই দুই দল আর কখনো মুখোমুখি হয়নি। আজ রাতের শেষ ১৬-এর লড়াই কি পারবে ব্রাজিলের এই দুই দশকের ক্ষতে প্রলেপ দিতে? নাকি নরওয়ে ধরে রাখবে তাদের এই ‘অজেয়’ রূপকথা?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মানুষের হৃদয়ে যখন প্রশান্তি ও বরকত নেমে আসে

ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি

আপডেট সময় ০৬:৫৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী দল ব্রাজিল। আর এ নিয়ে চারবার বিশ্বকাপ খেলছে নরওয়ে। অথচ বিশ্বকাপে নরওয়েকে কোনো দিন হারাতে পারেনি।

এই দুই দলের চারবারের দেখায়, দুবার জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুই ম্যাচ ড্র। মানে আজ ইতিহাস বদলানোর মিশনেই নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল।

১৯৮৮ সালে ওসলোতে দুই দলের প্রীতি ম্যাচ। কার্লোস আলবার্তো সিলভার অধীনে ব্রাজিল তখন নতুন করে দল গোছাচ্ছে। অন্যদিকে নরওয়ে ছিল গড়পড়তা এক দল। প্রথম গোলটা দেয় ব্রাজিলই, গোল করেন রোমারিও। কিন্তু ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হয়।

প্রায় এক দশক পর, ১৯৯৭ সাল। জাগালোর অধীনে রোনালদো-রোমারিওদের নিয়ে গড়া তারকাখচিত ব্রাজিল আবার ওসলো সফরে যায়। সবাই ব্রাজিলের একচেটিয়া জয়ের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে ব্রাজিলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় নরওয়ে। টোরে আন্দ্রে ফ্লোর জোড়া গোলের সঙ্গে ইয়াকবসেন ও ওস্টেনস্টাড গোল–উৎসব করেন। ডেনিলসন ও রোমারিও গোল করলেও নড়বড়ে রক্ষণ সেদিন ব্রাজিলকে বাঁচাতে পারেনি।

১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেই মহানাটক-

১৯৯৮ সালের ২৩ জুন। এই দ্বৈরথের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়টি এদিনই লেখা হয়। ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ভেন্যু ছিল মার্সেইর স্টেড ভেলোড্রম। ব্রাজিল ততক্ষণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে।

তবু কোচ জাগালো মাঠে নামিয়েছিলেন পূর্ণ শক্তির দল। দলে ছিলেন রোনালদো, রিভালদো ও বেবেতো। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে নরওয়ের দরকার ছিল জয়। ম্যাচের ৭৭ মিনিট পর্যন্ত কোনো গোল হয়নি। এরপর ডেনিলসনের চমৎকার এক ক্রস আসে। দুর্দান্ত হেডে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন বেবেতো। কিন্তু ব্রাজিলিয়ানদের সেই আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৬ মিনিট। টোরে আন্দ্রে ফ্লো সমতা ফেরান।

ম্যাচের আসল নাটক তখনো বাকি। ৮৯ মিনিটে বক্সের ভেতর জুনিয়র বাইয়ানো ফ্লোর জার্সি টেনে ধরেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে কেতিল রেকডাল গোল করেন। নরওয়ে পেয়ে যায় ২-১ ব্যবধানের এক ঐতিহাসিক জয়। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন।

সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ দুঙ্গার অধীনে একঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে আবার ওসলো সফরে গিয়েছিল সেলেসাওরা। কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি।

ড্যানিয়েল কারভালহো ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন। কিন্তু মর্টেন গ্যামস্ট পেডারসেনের গোলে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়।

এরপর দীর্ঘ ২০ বছর এই দুই দল আর কখনো মুখোমুখি হয়নি। আজ রাতের শেষ ১৬-এর লড়াই কি পারবে ব্রাজিলের এই দুই দশকের ক্ষতে প্রলেপ দিতে? নাকি নরওয়ে ধরে রাখবে তাদের এই ‘অজেয়’ রূপকথা?