ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

মিয়ানমারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সতর্ক করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর যে আচরণ করা হচ্ছে, তার ফলে দেশটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আজ রোববার জনসন আরো বলেন, রাখাইন রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের অবসান ঘটাতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চির উচিত তার অসাধারণ সব গুণ কাজে লাগানো।

সপ্তাহখানেক আগে রাখাইনে ছড়িয়ে সহিংসতার পর এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার (জাতিসংঘ বলছে ৭৩ হাজার) রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এছাড়া সরকারি হিসেবে চার শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, যার বেশি ভাগই রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ২০টির বেশি পুলিশচৌকিতে হামলার পর তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে।

মিয়ানমারের দরিদ্রতম রাজ্য রাখাইনে ১০ লক্ষাধিক মানুষের আবাস। ২০১৬ সালে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন হতিন কিয়াও। কারণ সংবিধানে সু চিকে প্রেসিডেন্ট হতে নিষেধ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন বলেন, ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচেনা করা হয় সু চিকে, এটা ঠিকই বলা হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ওপর যে আচরণ করা হচ্ছে, তার ফলে মিয়ানমারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি (সু চি) তার দেশকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে বিপুল সমস্যার মুখোমুখি। আমি আশা করি, তিনি এখন তার দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে, রাখাইনে মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর বিদ্বেষ থামাতে অসাধারণ সব গুণ ব্যবহার করবেন।’

জনসন বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বার্মিজ সামরিক বাহিনীর সমর্থন আছে তার এবং তার শান্তি অবস্থা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হতাশাজনক নয়। তিনি ও বার্মার সবাই আমাদের পূর্ণ সমর্থন পাবেন।’

মিয়ানমারে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তদবির চালায় বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে নামের একটি সংগঠন। এর পরিচালক মার্ক ফারমানার বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসনের উচিত ছিল মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিং অং হ্লেইং-এর সমালোচনা করা। তার অধীনস্ত সেনাসদস্যরাই রোহিঙ্গাদের হত্যা করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

মিয়ানমারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সতর্ক করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর যে আচরণ করা হচ্ছে, তার ফলে দেশটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আজ রোববার জনসন আরো বলেন, রাখাইন রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের অবসান ঘটাতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চির উচিত তার অসাধারণ সব গুণ কাজে লাগানো।

সপ্তাহখানেক আগে রাখাইনে ছড়িয়ে সহিংসতার পর এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার (জাতিসংঘ বলছে ৭৩ হাজার) রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এছাড়া সরকারি হিসেবে চার শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, যার বেশি ভাগই রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ২০টির বেশি পুলিশচৌকিতে হামলার পর তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে।

মিয়ানমারের দরিদ্রতম রাজ্য রাখাইনে ১০ লক্ষাধিক মানুষের আবাস। ২০১৬ সালে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন হতিন কিয়াও। কারণ সংবিধানে সু চিকে প্রেসিডেন্ট হতে নিষেধ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন বলেন, ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচেনা করা হয় সু চিকে, এটা ঠিকই বলা হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ওপর যে আচরণ করা হচ্ছে, তার ফলে মিয়ানমারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি (সু চি) তার দেশকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে বিপুল সমস্যার মুখোমুখি। আমি আশা করি, তিনি এখন তার দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে, রাখাইনে মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর বিদ্বেষ থামাতে অসাধারণ সব গুণ ব্যবহার করবেন।’

জনসন বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বার্মিজ সামরিক বাহিনীর সমর্থন আছে তার এবং তার শান্তি অবস্থা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হতাশাজনক নয়। তিনি ও বার্মার সবাই আমাদের পূর্ণ সমর্থন পাবেন।’

মিয়ানমারে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তদবির চালায় বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে নামের একটি সংগঠন। এর পরিচালক মার্ক ফারমানার বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসনের উচিত ছিল মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিং অং হ্লেইং-এর সমালোচনা করা। তার অধীনস্ত সেনাসদস্যরাই রোহিঙ্গাদের হত্যা করছে।