ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

চাকরি দেয়ার নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ, আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেসহ গ্রেফতার ২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঢাকার ধামরাইয়ে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। আটক ব্যক্তিদের নাম জাহাঙ্গীর আলম ও আপন হোসেন। জাহাঙ্গীর আলম চাকরি করেন ধামরাই উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে। আপন হোসেন আওয়ামী লীগ নেতা আলাল দেওয়ানের ছেলে।

জানা গেছে, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), সমাজ সেবা, পুলিশ, এয়ারপোর্টসহ বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ধামরাইয়ের বাস্তা নয়াচর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সজিব হাসানের কাছ থেকে ১১ লাখ, সমাজ সেবা অধিদপ্তরে মাঠ সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বালিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসান হিটলুর ছেলে মাকদুদুল আলম খানের কাছ থেকে ১১ লাখ, গনকপাড়ার আবদুর রহমানের ছেলে রুবেল হোসেনের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তারা। চাকরি দিতে না পারায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তাদের নানা হুমকি দেন প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুবেল হোসেন মামলা দায়ের করলে বুধবার রাতে ধামরাই উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাঠকর্মী জাহাঙ্গীর আলম ও যাদবপুর গ্রামের আপন হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রতারনার শিকার সজিব হাসান জানান, তাকে কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১১ লাখ টাকা নেন জাহাঙ্গীর আলম। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলাম কিন্তু চাকরি হয়নি। গত দুই বছর ধরে টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।

রুবেল হোসেন জানান, তাকে এয়ারপোর্ট ইনচার্জ পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে জাহাঙ্গীর আলম ও আপন হোসেন মিলে ১২ লাখ টাকা নিয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। কিন্তু তারা চাকরিও দিতে পারেনি, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। তাই মামলা করেছি।

সুয়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহরাব জানান, জাহাঙ্গীর আলম সরকারি চাকুরি দেয়ার নামে বহু লোকের নিকট থেকে টাকা নিয়েছে। যারা এখন প্রায় নিঃস্ব। প্রতারকদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, আপন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে বলে তাকে কেউ কিছু বলে না। কিন্তু ধামরাই থানা পুলিশ তাকে ছাড়েনি। নেতার ছেলেকেও গ্রেফতার করেছে। ধামরাইয়ে অন্য প্রতারকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, জাহাঙ্গীর আলম ও আপন হোসেনসহ একটি চক্র বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাকরি দেয়ার নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ, আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেসহ গ্রেফতার ২

আপডেট সময় ০৩:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঢাকার ধামরাইয়ে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। আটক ব্যক্তিদের নাম জাহাঙ্গীর আলম ও আপন হোসেন। জাহাঙ্গীর আলম চাকরি করেন ধামরাই উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে। আপন হোসেন আওয়ামী লীগ নেতা আলাল দেওয়ানের ছেলে।

জানা গেছে, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), সমাজ সেবা, পুলিশ, এয়ারপোর্টসহ বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ধামরাইয়ের বাস্তা নয়াচর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সজিব হাসানের কাছ থেকে ১১ লাখ, সমাজ সেবা অধিদপ্তরে মাঠ সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বালিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসান হিটলুর ছেলে মাকদুদুল আলম খানের কাছ থেকে ১১ লাখ, গনকপাড়ার আবদুর রহমানের ছেলে রুবেল হোসেনের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তারা। চাকরি দিতে না পারায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তাদের নানা হুমকি দেন প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুবেল হোসেন মামলা দায়ের করলে বুধবার রাতে ধামরাই উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাঠকর্মী জাহাঙ্গীর আলম ও যাদবপুর গ্রামের আপন হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রতারনার শিকার সজিব হাসান জানান, তাকে কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১১ লাখ টাকা নেন জাহাঙ্গীর আলম। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলাম কিন্তু চাকরি হয়নি। গত দুই বছর ধরে টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।

রুবেল হোসেন জানান, তাকে এয়ারপোর্ট ইনচার্জ পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে জাহাঙ্গীর আলম ও আপন হোসেন মিলে ১২ লাখ টাকা নিয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। কিন্তু তারা চাকরিও দিতে পারেনি, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। তাই মামলা করেছি।

সুয়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহরাব জানান, জাহাঙ্গীর আলম সরকারি চাকুরি দেয়ার নামে বহু লোকের নিকট থেকে টাকা নিয়েছে। যারা এখন প্রায় নিঃস্ব। প্রতারকদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, আপন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে বলে তাকে কেউ কিছু বলে না। কিন্তু ধামরাই থানা পুলিশ তাকে ছাড়েনি। নেতার ছেলেকেও গ্রেফতার করেছে। ধামরাইয়ে অন্য প্রতারকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, জাহাঙ্গীর আলম ও আপন হোসেনসহ একটি চক্র বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।