ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

‘মিনি কক্সবাজার’ ভ্রমণই কাল হল একই পরিবারের ৭ জনসহ ১৭ জনের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নেত্রকোনার মদনে মিনি কক্সবাজারে ভ্রমণে এসে হাওরে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে ১৭ জন নিহত ও ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৭ জন রয়েছেন।

মঙ্গলবার ময়মনসিংহ ও গৌরীপুর থেকে ৩৮ জন মদনের আটপাড়া তেলিগাতী মাদ্রাসায় বেড়াতে আসেন। তেলিগাতির ১০ জনসহ ৪৮ জন উচিতপুর মিনি কক্সবাজারে ভ্রমণে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরশিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রাম, গৌরীপুর ও আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী মাদ্রাসা থেকে ৪৮ জন লোক উচিতপুর এসে নৌকা ভ্রমণে বের হয়। নৌকাটি উচিতপুর হাওরের গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে পৌঁছলে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বেলা ১২টার দিকে ডুবে যায়। এতে ১৮ জন নিখোঁজ হয় এবং বাকিরা সাঁতরে কিনারায় উঠেন।

উদ্ধারকৃত পর্যটক আতাউল্লাহ ও ওমর ফারুক জানান, উচিতপুর ঘাট থেকে আমরা ট্রলারযোগে হাওরে ঘুরতে গেলে হঠাৎ বাতাসে প্রচণ্ড ঢেউ শুরু হয়। নৌকার মাঝি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে নৌকাটি ডুবে যায়। আমরা সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও নৌকার ভেতরে থাকায় তারা বের হতে পারেনি।

এলাকাবাসী রিয়াজ উদ্দিন ও ইউসুফ আলী তালুকদার জানান, এ ধরনের ঘটনা পূর্বে কখনও ঘটেনি। তবে নৌকায় লোক বেশি থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের ধারণা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।

মদন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আহমেদুল কবির জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ৩ ঘণ্টা অভিযানে ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ময়মনসিংহের একই পরিবারের ৭ জন রয়েছেন। তারা হলেন- হাফেজ মাহফুজুর রহমান, ছেলে আশিফ, মাহমুদ মিয়া, ভাতিজি জুলফা, লুবনা, ভাতিজা জুবায়ের ও মোজাহিদ। তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সাইফুল ইসলাম রতন, জাহিদ, শামীম হাসান, শফিকুল, শহিদুল, ইসা মিয়া, আজহারুল, সামাআন, রেজাউল করিম, হামিদুলকে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক লাশের পরিবারকে ৭ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। পর্যটন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

‘মিনি কক্সবাজার’ ভ্রমণই কাল হল একই পরিবারের ৭ জনসহ ১৭ জনের

আপডেট সময় ১১:২১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নেত্রকোনার মদনে মিনি কক্সবাজারে ভ্রমণে এসে হাওরে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে ১৭ জন নিহত ও ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৭ জন রয়েছেন।

মঙ্গলবার ময়মনসিংহ ও গৌরীপুর থেকে ৩৮ জন মদনের আটপাড়া তেলিগাতী মাদ্রাসায় বেড়াতে আসেন। তেলিগাতির ১০ জনসহ ৪৮ জন উচিতপুর মিনি কক্সবাজারে ভ্রমণে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরশিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রাম, গৌরীপুর ও আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী মাদ্রাসা থেকে ৪৮ জন লোক উচিতপুর এসে নৌকা ভ্রমণে বের হয়। নৌকাটি উচিতপুর হাওরের গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে পৌঁছলে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বেলা ১২টার দিকে ডুবে যায়। এতে ১৮ জন নিখোঁজ হয় এবং বাকিরা সাঁতরে কিনারায় উঠেন।

উদ্ধারকৃত পর্যটক আতাউল্লাহ ও ওমর ফারুক জানান, উচিতপুর ঘাট থেকে আমরা ট্রলারযোগে হাওরে ঘুরতে গেলে হঠাৎ বাতাসে প্রচণ্ড ঢেউ শুরু হয়। নৌকার মাঝি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে নৌকাটি ডুবে যায়। আমরা সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও নৌকার ভেতরে থাকায় তারা বের হতে পারেনি।

এলাকাবাসী রিয়াজ উদ্দিন ও ইউসুফ আলী তালুকদার জানান, এ ধরনের ঘটনা পূর্বে কখনও ঘটেনি। তবে নৌকায় লোক বেশি থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের ধারণা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।

মদন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আহমেদুল কবির জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ৩ ঘণ্টা অভিযানে ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ময়মনসিংহের একই পরিবারের ৭ জন রয়েছেন। তারা হলেন- হাফেজ মাহফুজুর রহমান, ছেলে আশিফ, মাহমুদ মিয়া, ভাতিজি জুলফা, লুবনা, ভাতিজা জুবায়ের ও মোজাহিদ। তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সাইফুল ইসলাম রতন, জাহিদ, শামীম হাসান, শফিকুল, শহিদুল, ইসা মিয়া, আজহারুল, সামাআন, রেজাউল করিম, হামিদুলকে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক লাশের পরিবারকে ৭ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। পর্যটন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।