ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে পুলিশের গাড়ি, দেশজুড়ে সতর্কতা জারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে ইরানের ভবিষ্যৎ: পেজেশকিয়ান সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, হজের বিমান ভাড়া আরও কমবে: পর্যটনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে : মির্জা ফখরুল জুলাই সনদ নয়, সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত সরকার: মাহমুদা মিতু গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না আ.লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতার মৃত্যু গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি: মঞ্জু মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী

পল্লবীতে বিস্ফোরণ: আহত সোর্সের ক্ষতবিক্ষত কব্জি-আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত পুলিশের সোর্স রিয়াজের বাঁ হাতের ক্ষতবিক্ষত কব্জি কেটে বাদ দেয়া হয়েছে। ডান হাতের আঙুলও কেটে ফেলতে হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)অস্ত্রোপচারের সময় তার কব্জি ও আঙুল কেটে ফেলা হয়।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, রিয়াজের অবস্থা ক্রিটিক্যাল। বাঁ হাতের কব্জি ক্ষতবিক্ষত ছিল। অস্ত্রোপচারের সময় কব্জিটি কেটে বাদ দিতে হয়েছে। এছাড়া তার ডান হাতের একটি আঙুলও কেটে বাদ দেয়া হয়েছে। তার পেটেও আঘাত লেগেছে।

ডা. আলাউদ্দিন জানান, রুমি নামের একজন পুলিশ কর্মকর্তাও ভর্তি আছেন। তার পেটে আঘাত লেগেছে। পেটেও বড় ধরনের ইনজুরি হতে পারে। এছাড়া তার পা ও হাতে জখম রয়েছে। তারা দুজনই ঢাকা মেডিকেলের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি।

রিয়াজ পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরান ইসলামের সোর্স হিসেবে বহু দিন ধরে কাজ করেন। থানার ভেতরে বিস্ফোরণের ঘটনার সময় তিনি সেখানেই ছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন জানিয়েছেন, বোমা বহনকারী তিনজনকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়া হয়েছে। এর পর বিস্ফোরণ ঘটে। তারা ‘ভাড়াটে খুনি’।

পুলিশের এ কর্মকর্তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য ছিল যে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা পল্লবীর স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করবে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।

ওই তিনজনের নাম বা বিস্তারিত পরিচয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। কাকে তারা হত্যার পরিকল্পনা করেছিল, সে বিষয়েও কিছু বলেননি পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় দুপুরে পল্লবী থানার সামনে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, কালশী কবরস্থানের কাছে ‘একদল সন্ত্রাসী’ অবস্থান করছে, এমন খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। আরও কয়েকজন ছিল, তারা পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি এবং একটি ডিভাইস পাওয়া যায়, যেটি দেখতে ওজন মাপার মেশিনের মতো।

থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গ্রেফতার ব্যক্তিদের তিনজন পুলিশকে জানায়, ওই ওজন মাপার যন্ত্রে ‘বোমা রয়েছে’। এর পর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেয়া হলে তারা এসে ডিউটি অফিসারের কক্ষে ওই ওজন মাপার মেশিন পরীক্ষা করেন।

পরে আরেকটি বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়, তারা পৌঁছানোর আগেই বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুজন ঢামেকে ও একজন চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকি দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে পুলিশের গাড়ি, দেশজুড়ে সতর্কতা জারি

পল্লবীতে বিস্ফোরণ: আহত সোর্সের ক্ষতবিক্ষত কব্জি-আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে

আপডেট সময় ০৫:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত পুলিশের সোর্স রিয়াজের বাঁ হাতের ক্ষতবিক্ষত কব্জি কেটে বাদ দেয়া হয়েছে। ডান হাতের আঙুলও কেটে ফেলতে হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)অস্ত্রোপচারের সময় তার কব্জি ও আঙুল কেটে ফেলা হয়।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, রিয়াজের অবস্থা ক্রিটিক্যাল। বাঁ হাতের কব্জি ক্ষতবিক্ষত ছিল। অস্ত্রোপচারের সময় কব্জিটি কেটে বাদ দিতে হয়েছে। এছাড়া তার ডান হাতের একটি আঙুলও কেটে বাদ দেয়া হয়েছে। তার পেটেও আঘাত লেগেছে।

ডা. আলাউদ্দিন জানান, রুমি নামের একজন পুলিশ কর্মকর্তাও ভর্তি আছেন। তার পেটে আঘাত লেগেছে। পেটেও বড় ধরনের ইনজুরি হতে পারে। এছাড়া তার পা ও হাতে জখম রয়েছে। তারা দুজনই ঢাকা মেডিকেলের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি।

রিয়াজ পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরান ইসলামের সোর্স হিসেবে বহু দিন ধরে কাজ করেন। থানার ভেতরে বিস্ফোরণের ঘটনার সময় তিনি সেখানেই ছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন জানিয়েছেন, বোমা বহনকারী তিনজনকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়া হয়েছে। এর পর বিস্ফোরণ ঘটে। তারা ‘ভাড়াটে খুনি’।

পুলিশের এ কর্মকর্তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য ছিল যে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা পল্লবীর স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করবে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।

ওই তিনজনের নাম বা বিস্তারিত পরিচয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। কাকে তারা হত্যার পরিকল্পনা করেছিল, সে বিষয়েও কিছু বলেননি পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় দুপুরে পল্লবী থানার সামনে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, কালশী কবরস্থানের কাছে ‘একদল সন্ত্রাসী’ অবস্থান করছে, এমন খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। আরও কয়েকজন ছিল, তারা পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি এবং একটি ডিভাইস পাওয়া যায়, যেটি দেখতে ওজন মাপার মেশিনের মতো।

থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গ্রেফতার ব্যক্তিদের তিনজন পুলিশকে জানায়, ওই ওজন মাপার যন্ত্রে ‘বোমা রয়েছে’। এর পর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেয়া হলে তারা এসে ডিউটি অফিসারের কক্ষে ওই ওজন মাপার মেশিন পরীক্ষা করেন।

পরে আরেকটি বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়, তারা পৌঁছানোর আগেই বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুজন ঢামেকে ও একজন চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকি দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন।