ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যারা ভালোবাসতেন তারাই দিলেন না ঠাঁই, লাশ নিয়ে স্বামী দিশাহারা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে মারা গেছেন মনোয়ারা বেগম (৩০)। একসময় যে মানুষগুলো তাকে এত আদর-স্নেহ ও ভালবাসতেন, আজ তারাই তার মরদেহ নিজ গ্রামে প্রবেশ করতে দেননি। এর পর মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে তার স্বামী শরিফুল ইসলাম দিশাহারা হয়ে পড়েন।

পরে জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুরের হস্তক্ষেপে প্রশাসনের সহায়তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগকৃত মওলানার মাধ্যমে জানাজা হয়। এর পর সন্ধ্যায় জলঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মনোয়ারা বেগমের মরদেহ দাফন করা হয়।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার জলঢাকা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বগুলাগাড়ী গ্রামে। মনোয়ারা ওই গ্রামের মোজদুলের মেয়ে। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মনোয়ারা তার স্বামী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। স্বামীর বাড়ি জলঢাকার কাঁঠালি ইউনিয়নে।

গত ৫ মে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ ঢাকা থেকে রাতের বাসে গ্রামের বাড়ি রওনা দেন মনোয়ারা। পথে মনোয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা রংপুরে নেমে যান এবং মনোয়ারাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সেখানে ৬ মে তাদের নমুনা নেয়া হয়। ৮ মে রংপুর পিসিআর ল্যাবের রিপোর্টে মনোয়ারা বেগমের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মনোয়ারার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে তার স্বামী ও সন্তান জলঢাকায় গেলে গ্রামবাসীর বাধার মুখে পড়েন। তারা গ্রামে মনোয়ারার মরদেহ প্রবেশ করতে দেননি। পরে স্বামী শরিফুল ইসলাম স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে নিজের ইউনিয়ন কাঁঠালিতে নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হন।

এর পর মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে স্বামী দিশাহারা হয়ে পড়েন।

জলঢাকা পৌর মেয়রকে এ ব্যাপারে বারবার মোবাইল করে অসহায় পরিবারটি। কিন্তু মেয়র মোবাইল রিসিভ করেননি। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুরকে বিষয়টি জানানো হয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর জানান, বিষয়টি জেনে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহায়তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগকৃত মওলানার মাধ্যমে জানাজা হয়। এরপর মাগরিবের আগে জলঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানের শেষ মাথায় আউলিয়াখানা নদীর ধারে মনোয়ারা বেগমের মরদেহ দাফন করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

যারা ভালোবাসতেন তারাই দিলেন না ঠাঁই, লাশ নিয়ে স্বামী দিশাহারা

আপডেট সময় ০৪:২৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে মারা গেছেন মনোয়ারা বেগম (৩০)। একসময় যে মানুষগুলো তাকে এত আদর-স্নেহ ও ভালবাসতেন, আজ তারাই তার মরদেহ নিজ গ্রামে প্রবেশ করতে দেননি। এর পর মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে তার স্বামী শরিফুল ইসলাম দিশাহারা হয়ে পড়েন।

পরে জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুরের হস্তক্ষেপে প্রশাসনের সহায়তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগকৃত মওলানার মাধ্যমে জানাজা হয়। এর পর সন্ধ্যায় জলঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মনোয়ারা বেগমের মরদেহ দাফন করা হয়।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার জলঢাকা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বগুলাগাড়ী গ্রামে। মনোয়ারা ওই গ্রামের মোজদুলের মেয়ে। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মনোয়ারা তার স্বামী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। স্বামীর বাড়ি জলঢাকার কাঁঠালি ইউনিয়নে।

গত ৫ মে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ ঢাকা থেকে রাতের বাসে গ্রামের বাড়ি রওনা দেন মনোয়ারা। পথে মনোয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা রংপুরে নেমে যান এবং মনোয়ারাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সেখানে ৬ মে তাদের নমুনা নেয়া হয়। ৮ মে রংপুর পিসিআর ল্যাবের রিপোর্টে মনোয়ারা বেগমের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মনোয়ারার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে তার স্বামী ও সন্তান জলঢাকায় গেলে গ্রামবাসীর বাধার মুখে পড়েন। তারা গ্রামে মনোয়ারার মরদেহ প্রবেশ করতে দেননি। পরে স্বামী শরিফুল ইসলাম স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে নিজের ইউনিয়ন কাঁঠালিতে নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হন।

এর পর মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে স্বামী দিশাহারা হয়ে পড়েন।

জলঢাকা পৌর মেয়রকে এ ব্যাপারে বারবার মোবাইল করে অসহায় পরিবারটি। কিন্তু মেয়র মোবাইল রিসিভ করেননি। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুরকে বিষয়টি জানানো হয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর জানান, বিষয়টি জেনে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহায়তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগকৃত মওলানার মাধ্যমে জানাজা হয়। এরপর মাগরিবের আগে জলঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানের শেষ মাথায় আউলিয়াখানা নদীর ধারে মনোয়ারা বেগমের মরদেহ দাফন করা হয়।