ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

লিবিয়ায় হত্যাকাণ্ডে ভৈরবে গ্রেফতার বাহারুল ৫ দিনের রিমান্ডে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে গ্রেফতার ভৈরবের শ্রীনগর গ্রামের মো. বাহারুল আলম ওরফে বাচ্চু মিলিটারির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন কিশোরগঞ্জের আদালত।

কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার দুপুরে তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে কিশোরগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অর্গানাইজ ক্রাইম (টিএইচবি) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান।

২নং জিআর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রকিবুল বারী জামিন আবেদন শুনানি শেষে তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে লিবিয়ায় নিহত সাদ্দাম হোসেন আকাশের বড় ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে রোববার দুপুরে সাত জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এতে ভৈরবের মানবপাচারকারী তানজিরুলকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়াও আজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর ভৈরব থেকে সিআইডি বাচ্চু মিলিটারিকে গ্রেফতার করে। তিনি ওই মামলার দ্বিতীয় আসামি।

মামলার আসামিরা হলেন, ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে তানজিরুল ওরফে তানজিদ (৩৫), একই গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে মো. বাচ্চু মিলিটারি, তানজিদের ভাতিজা নাজমুল (২৪), মৌটুপি গ্রামের ঈদু মিয়ার ছেলে জবুর আলী (৫৫), লক্ষ্মীপুর গ্রামের জাফর (৩৫), শম্ভুপুর গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে স্বপন ও গোছামারা গ্রামের মিন্টু মিয়া (৩৫)।

গত ২৮ মে লিবিয়ায় অপহরণকারীদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে ভৈরবের সাতজন নিহত ও তিনজন আহত হন। নিহতরা হলেন- রাজন, সাকিল, সাকিব মিয়া, আকাশ, মো. আলী, মাহবুব ও মামুন। আহত অবস্থায় লিবিয়ায় চিকিৎধীন আছেন সোহাগ আহমেদ, মো. সুজন মিয়া ও মো. জানু মিয়া।

মানবপাচারীদেরকে ধরতে বাড়ি বাড়ি পুলিশি অভিযান

এদিকে ভৈরব প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক জানিয়েছেন,লিবিয়ায় গুলিতে ভৈরবের ৬ জন নিহত ও ৩ জন আহতের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর রোববার রাত থেকে পুলিশ মানবপাচারীদেরকে গ্রেফতার করতে তাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়েছে।

এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। লিবিয়ার ঘটনায় ভৈরবের নিহত যুবক আকাশের বড় ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে গতকাল রোববার ৭ জন মানবপাচারকারীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে একটি মামলা করে।

মামলায় ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এজাহারে মানবপাচারকারীদের মধ্যে যাদেরকে আসামি করা হয় তারা হলো ভৈরবের শ্রীনগর গ্রামের তানজিরুল (৩৫), তার ভাই বাচ্চু মিলিটারী (৬৫), একই গ্রামের নাজমুল (২৪), মৌটুপী গ্রামের জোবর আলী (৫৫), ভৈরব শহরের লক্ষীপুর এলাকার জাফর (৩৫), সম্ভুপুর গ্রামের স্বপন (৩০), গোছামারা গ্রামের মিন্টু মিয়া (৩৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভৈরবের নিহত ও আহতরা প্রত্যেকে ৪/৫ লাখ টাকা মানবপাচারকারীদের দিয়ে লিবিয়ায় গিয়েছিল অবৈধ পথে ইতালি যেতে। সেখানে তাদেরকে নিয়ে লিবিয়ার অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেয়। অপহরণকারীরা তাদের প্রত্যেকের কাছে ৫/১০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করলে তারা দিতে পারেনি। অপহরণকারীরা তাদের আটকিয়ে অত্যাচার, নিপীড়ন চালায়। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের কেউ একজন অপহরণকারীকে মেরে ফেলে। পরে অপহরণকারী চক্র বাংলাদেশের ২৬ জনসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করে। এসময় ১১ জন আহত হয়।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, মামলার আসামি মানবপাচারকারীদের ধরতে পুলিশ দুদিন ধরে তাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়েছে। তবে এদের কয়েকজন লিবিয়ায় রয়েছে। যারা দেশে আছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান চলবে বলে তিনি জানান। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লিবিয়ায় হত্যাকাণ্ডে ভৈরবে গ্রেফতার বাহারুল ৫ দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় ০৭:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে গ্রেফতার ভৈরবের শ্রীনগর গ্রামের মো. বাহারুল আলম ওরফে বাচ্চু মিলিটারির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন কিশোরগঞ্জের আদালত।

কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার দুপুরে তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে কিশোরগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অর্গানাইজ ক্রাইম (টিএইচবি) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান।

২নং জিআর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রকিবুল বারী জামিন আবেদন শুনানি শেষে তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে লিবিয়ায় নিহত সাদ্দাম হোসেন আকাশের বড় ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে রোববার দুপুরে সাত জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এতে ভৈরবের মানবপাচারকারী তানজিরুলকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়াও আজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর ভৈরব থেকে সিআইডি বাচ্চু মিলিটারিকে গ্রেফতার করে। তিনি ওই মামলার দ্বিতীয় আসামি।

মামলার আসামিরা হলেন, ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে তানজিরুল ওরফে তানজিদ (৩৫), একই গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে মো. বাচ্চু মিলিটারি, তানজিদের ভাতিজা নাজমুল (২৪), মৌটুপি গ্রামের ঈদু মিয়ার ছেলে জবুর আলী (৫৫), লক্ষ্মীপুর গ্রামের জাফর (৩৫), শম্ভুপুর গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে স্বপন ও গোছামারা গ্রামের মিন্টু মিয়া (৩৫)।

গত ২৮ মে লিবিয়ায় অপহরণকারীদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে ভৈরবের সাতজন নিহত ও তিনজন আহত হন। নিহতরা হলেন- রাজন, সাকিল, সাকিব মিয়া, আকাশ, মো. আলী, মাহবুব ও মামুন। আহত অবস্থায় লিবিয়ায় চিকিৎধীন আছেন সোহাগ আহমেদ, মো. সুজন মিয়া ও মো. জানু মিয়া।

মানবপাচারীদেরকে ধরতে বাড়ি বাড়ি পুলিশি অভিযান

এদিকে ভৈরব প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক জানিয়েছেন,লিবিয়ায় গুলিতে ভৈরবের ৬ জন নিহত ও ৩ জন আহতের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর রোববার রাত থেকে পুলিশ মানবপাচারীদেরকে গ্রেফতার করতে তাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়েছে।

এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। লিবিয়ার ঘটনায় ভৈরবের নিহত যুবক আকাশের বড় ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে গতকাল রোববার ৭ জন মানবপাচারকারীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে একটি মামলা করে।

মামলায় ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এজাহারে মানবপাচারকারীদের মধ্যে যাদেরকে আসামি করা হয় তারা হলো ভৈরবের শ্রীনগর গ্রামের তানজিরুল (৩৫), তার ভাই বাচ্চু মিলিটারী (৬৫), একই গ্রামের নাজমুল (২৪), মৌটুপী গ্রামের জোবর আলী (৫৫), ভৈরব শহরের লক্ষীপুর এলাকার জাফর (৩৫), সম্ভুপুর গ্রামের স্বপন (৩০), গোছামারা গ্রামের মিন্টু মিয়া (৩৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভৈরবের নিহত ও আহতরা প্রত্যেকে ৪/৫ লাখ টাকা মানবপাচারকারীদের দিয়ে লিবিয়ায় গিয়েছিল অবৈধ পথে ইতালি যেতে। সেখানে তাদেরকে নিয়ে লিবিয়ার অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেয়। অপহরণকারীরা তাদের প্রত্যেকের কাছে ৫/১০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করলে তারা দিতে পারেনি। অপহরণকারীরা তাদের আটকিয়ে অত্যাচার, নিপীড়ন চালায়। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের কেউ একজন অপহরণকারীকে মেরে ফেলে। পরে অপহরণকারী চক্র বাংলাদেশের ২৬ জনসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করে। এসময় ১১ জন আহত হয়।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, মামলার আসামি মানবপাচারকারীদের ধরতে পুলিশ দুদিন ধরে তাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়েছে। তবে এদের কয়েকজন লিবিয়ায় রয়েছে। যারা দেশে আছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান চলবে বলে তিনি জানান। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে।