ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম শেখ হাসিনা চাচ্ছে না বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক : মেজর হাফিজ ৫৪ বছরে ক্ষমতায় যারা ছিল, তাদের শ্বশুরবাড়ির সম্পদ হু হু করে বেড়েছে:শফিকুর রহমান ৫ দশমিক ৯ মাত্রায় ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থানকারী দলের ইতিহাস বিকৃতিতে জাতি স্তব্ধ: মাহদী আমিন সাপ আর ভারতীয়র দেখা একসঙ্গে পেলে, আগে ভারতীয়কে মারা উচিত: এপস্টেইন নথি ‘আগামীতে এমনও শুনতে হবে জামায়াত দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল’:সালাহউদ্দিন দায়িত্ব শেষে আমি নাগরিক সমাজের কাজে ফিরে যাবো : শিক্ষা উপদেষ্টা আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম, গোপন নথি ফাঁস পাতানো নির্বাচনের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই, অধিকার আদায়ে জনগণ জীবন দিতে প্রস্তুত: আসিফ মাহমুদ

হংকং কব্জায় রাখতে চীনা সংসদে বিতর্কিত আইন পাস

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

হংকংয়ে বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিলো চীনের সংসদ। এ আইন প্রয়োগ করলে চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিএনএন জানায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) এ আইন প্রয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। ২ হাজার ৭৭৮ জন প্রতিনিধি এর পক্ষে এবং মাত্র একজন বিপক্ষে ভোট দেন। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন ছয়জন।

নতুন এ আইন অনুযায়ী, হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাস, বিদেশি হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করা হবে এবং চীনের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অঞ্চলটিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

প্রস্তাবটি অনুমোদন পাওয়ার পর এবার নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করবে এনপিসি। এতে প্রায় দু’মাস সময় লাগবে। এরপর হংকংয়ের আইন পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই এটি সেখানে প্রয়োগ করা হবে।

সংসদের সভা শেষে চীনের প্রিমিয়ার লি কেকিইয়াং বলেছেন, নতুন আইনটি ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি দীর্ঘ মেয়াদে হংকংয়ের স্থিতিশীলতা ও উন্নতি নিশ্চিত করবে।

এদিকে গণতন্ত্রপন্থি আইনপ্রণেতা ক্লডিয়া মো বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তে হংকংয়ে দুঃখ এবং নিপীড়নের সূচনা হলো। তারা আমাদের আত্মাই কেড়ে নিয়েছে। যে আত্মা আমরা এত বছর ধরে লালন করছিলাম, আইনের শাসন, মানবাধিকার, তারা আমাদের প্রধান মূল্যবোধগুলোই কেড়ে নিচ্ছে। এখন থেকে হংকং চীনের মূল ভূখণ্ডের একটি শহর ছাড়া আর কিছু নয়।’

বিবিসি জানায়, বুধবার (২৭ মে) চীন প্রস্তাবিত জাতীয় সঙ্গীত এবং নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে হংকংয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার মানুষ। এসময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে মরিচের গুঁড়া স্প্রে করে। এদিন ৩৬০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বুধবার বিকেলেও বিক্ষোভকারীদের হংকংয়ের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ‘স্বাধীনতাই একমাত্র পথ’ স্লোগানে মুখরিত হয় অঞ্চলটি।

গত সপ্তাহে রাষ্ট্রদ্রোহ, বিচ্ছেদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানায় চীন। এরইমধ্যে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা রুখতে আরেকটি আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেয় চীন।

নতুন জাতীয় সঙ্গীত বিল অনুযায়ী, হংকংয়ে চীনা জাতীয় সঙ্গীতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ বিলে বলা হয়েছে, কেউ জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করলে, তার সর্বাধিক তিন বছরের কারাদণ্ড এবং/বা ৫০ হাজার হংকং ডলার (৬ হাজার ৪৫০ মার্কিন ডলার) জরিমানা হবে। আগামী মাসে বিলটি আইনে পরিণত করার কথা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম

হংকং কব্জায় রাখতে চীনা সংসদে বিতর্কিত আইন পাস

আপডেট সময় ১১:১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

হংকংয়ে বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিলো চীনের সংসদ। এ আইন প্রয়োগ করলে চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিএনএন জানায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) এ আইন প্রয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। ২ হাজার ৭৭৮ জন প্রতিনিধি এর পক্ষে এবং মাত্র একজন বিপক্ষে ভোট দেন। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন ছয়জন।

নতুন এ আইন অনুযায়ী, হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাস, বিদেশি হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করা হবে এবং চীনের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অঞ্চলটিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

প্রস্তাবটি অনুমোদন পাওয়ার পর এবার নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করবে এনপিসি। এতে প্রায় দু’মাস সময় লাগবে। এরপর হংকংয়ের আইন পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই এটি সেখানে প্রয়োগ করা হবে।

সংসদের সভা শেষে চীনের প্রিমিয়ার লি কেকিইয়াং বলেছেন, নতুন আইনটি ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি দীর্ঘ মেয়াদে হংকংয়ের স্থিতিশীলতা ও উন্নতি নিশ্চিত করবে।

এদিকে গণতন্ত্রপন্থি আইনপ্রণেতা ক্লডিয়া মো বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তে হংকংয়ে দুঃখ এবং নিপীড়নের সূচনা হলো। তারা আমাদের আত্মাই কেড়ে নিয়েছে। যে আত্মা আমরা এত বছর ধরে লালন করছিলাম, আইনের শাসন, মানবাধিকার, তারা আমাদের প্রধান মূল্যবোধগুলোই কেড়ে নিচ্ছে। এখন থেকে হংকং চীনের মূল ভূখণ্ডের একটি শহর ছাড়া আর কিছু নয়।’

বিবিসি জানায়, বুধবার (২৭ মে) চীন প্রস্তাবিত জাতীয় সঙ্গীত এবং নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে হংকংয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার মানুষ। এসময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে মরিচের গুঁড়া স্প্রে করে। এদিন ৩৬০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বুধবার বিকেলেও বিক্ষোভকারীদের হংকংয়ের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ‘স্বাধীনতাই একমাত্র পথ’ স্লোগানে মুখরিত হয় অঞ্চলটি।

গত সপ্তাহে রাষ্ট্রদ্রোহ, বিচ্ছেদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানায় চীন। এরইমধ্যে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা রুখতে আরেকটি আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেয় চীন।

নতুন জাতীয় সঙ্গীত বিল অনুযায়ী, হংকংয়ে চীনা জাতীয় সঙ্গীতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ বিলে বলা হয়েছে, কেউ জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করলে, তার সর্বাধিক তিন বছরের কারাদণ্ড এবং/বা ৫০ হাজার হংকং ডলার (৬ হাজার ৪৫০ মার্কিন ডলার) জরিমানা হবে। আগামী মাসে বিলটি আইনে পরিণত করার কথা রয়েছে।