ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

করোনা চিকিৎসায় ফল দিচ্ছে চার ওষুধের মিশ্রণ!

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সংক্রমণের একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় কাজ করে এমন একটি ওষুধ তৈরির দাবি করেছে হংকংয়ের একদল চিকিৎসা বিজ্ঞানী। চার রকম অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের সংমিশ্রণে এই সমন্বিত (ককটেল) ওষুধ বানিয়েছেন তারা।

চিকিৎসা বিষয়ক বিশ্বখ্যাত জার্নাল ‘ল্যানসেট’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এ-সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি। গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত এই গবেষণা চলে। তাতে বলা হয়, রোগ অল্প থাকতে-থাকতে এ ওষুধে প্রয়োগে করোনা ভাইরাস দূর হয়ে যায়।

শরীরে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে গেলে এই ওষুধ কাজ করবে কি না, বা আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা করোনা-রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমন্বিত ওষুধ কতটা কাজ করবে, তা জানতে বড় ধরনের গবেষণা দরকার বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধী কিংবা প্রতিকারের কোনো ওষুধ এখনো বিশ্বের কাছে নেই। আজ রবিবার অবধি পৌনে তিন লাখ মানুষ মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে ৪১ লাখের বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিষেধকের সন্ধানে গবেষণা চলছে। ব্রিটেন, জার্মানি, চিন ও আমেরিকায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কার্যকর ওষুধ কিংবা ভ্যাকসিন হাতে আসবে তা বলতে পারছে না কেউ।

এরই মধ্যে খবর এলো হংকংযের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত সমন্বিত ওষুধের। সংক্রমণবিরোধী কয়েকটি পুরনো ওষুধের সমন্বয় ঘটিয়ে করোনা চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছেন তারা।

তাদের একজন হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কোক-ইয়াং ইউয়েন বলেন, ‘সদ্য আক্রান্ত রোগীদের অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের ওই ককটেলটি দেওয়া হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, দ্রুত শরীর থেকে ভাইরাস নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।’

তার মানে সংক্রমণরোধী তিনটি ওষুধ ও মাল্টিপল স্কলেরোসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধের সমন্বিত প্রয়োগ নতুন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের তুলনামূলকভাবে দ্রুত সারিয়ে তুলতে পারে।

সংক্রামক ব্যাধির ওপর কোকো-ইয়ুং ইউয়েনের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। ওষুধের এই সমন্বয়ের গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক।

ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণাটির বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, তারা যে ওষুধগুলোর সমন্বয়ে করোনা রোগীর চিকিৎসার কথা বলছেন তা চিকিৎসার একটি পদ্ধতি হতে পারে। এটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলে এক্ষেত্রে যুগান্তকারী ফল আসতে পারে।

আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বলেছে, কোকো-ইয়ুং ইউয়েন ও তার সহকর্মীরা এইচআইভির ওষুধ রিটোনাভির ও লোপানিভিরের সঙ্গে সাধারণ সংক্রমণরোধী ওষুধ রিবাভিরিন এবং মাল্টিপল স্কলেরোসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ বেটা ইন্টারফেরের সমন্বয় ঘটান।

গবেষণাকালে তারা এমন রোগীদের বাছাই করেন যাদের সাত দিন আগে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের করোনা উপসর্গ ছিল হালকা থেকে মাঝারি মাত্রায়। এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন স্থানীয় ছয়টি হাসপাতালের ১২৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী। এর মধ্যে ৮৬ জনকে দুই সপ্তাহ এইচআইভির দুটি ওষুধসহ সাধারণ সংক্রমণরোধী ও মাল্টিপল স্কলেরোসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের ককটেল প্রয়োগ করা হয়। বাকি ৪১ জনকে কন্ট্রোল গ্রুপে রেখে শুধু এইচআইভির চিকিৎসায় ব্যবহৃত দুটি ওষুধের প্রয়োগ করেন ইউয়েনের সহকর্মীরা।

যাদের ককটেল দেওয়া হয়েছিল, তারা গড়ে ৭ দিনে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কন্ট্রোল গ্রুপের রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগছে অনেক বেশি।

ইউয়েন জানান, এই ককটেল ওষুধ শুধু সদ্য আক্রান্তের চিকিৎসায় কাজ দেবে তাই নয়, স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সাহায্য করবে। ওষুধটি নিরাপদ। স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্রমাগত রোগীদের সংস্পর্শে থাকতে হচ্ছে। সংক্রমণের আশঙ্কা তাদের সবচেয়ে বেশি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

করোনা চিকিৎসায় ফল দিচ্ছে চার ওষুধের মিশ্রণ!

আপডেট সময় ১২:৫৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সংক্রমণের একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় কাজ করে এমন একটি ওষুধ তৈরির দাবি করেছে হংকংয়ের একদল চিকিৎসা বিজ্ঞানী। চার রকম অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের সংমিশ্রণে এই সমন্বিত (ককটেল) ওষুধ বানিয়েছেন তারা।

চিকিৎসা বিষয়ক বিশ্বখ্যাত জার্নাল ‘ল্যানসেট’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এ-সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি। গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত এই গবেষণা চলে। তাতে বলা হয়, রোগ অল্প থাকতে-থাকতে এ ওষুধে প্রয়োগে করোনা ভাইরাস দূর হয়ে যায়।

শরীরে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে গেলে এই ওষুধ কাজ করবে কি না, বা আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা করোনা-রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমন্বিত ওষুধ কতটা কাজ করবে, তা জানতে বড় ধরনের গবেষণা দরকার বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধী কিংবা প্রতিকারের কোনো ওষুধ এখনো বিশ্বের কাছে নেই। আজ রবিবার অবধি পৌনে তিন লাখ মানুষ মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে ৪১ লাখের বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিষেধকের সন্ধানে গবেষণা চলছে। ব্রিটেন, জার্মানি, চিন ও আমেরিকায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কার্যকর ওষুধ কিংবা ভ্যাকসিন হাতে আসবে তা বলতে পারছে না কেউ।

এরই মধ্যে খবর এলো হংকংযের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত সমন্বিত ওষুধের। সংক্রমণবিরোধী কয়েকটি পুরনো ওষুধের সমন্বয় ঘটিয়ে করোনা চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছেন তারা।

তাদের একজন হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কোক-ইয়াং ইউয়েন বলেন, ‘সদ্য আক্রান্ত রোগীদের অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের ওই ককটেলটি দেওয়া হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, দ্রুত শরীর থেকে ভাইরাস নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।’

তার মানে সংক্রমণরোধী তিনটি ওষুধ ও মাল্টিপল স্কলেরোসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধের সমন্বিত প্রয়োগ নতুন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের তুলনামূলকভাবে দ্রুত সারিয়ে তুলতে পারে।

সংক্রামক ব্যাধির ওপর কোকো-ইয়ুং ইউয়েনের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। ওষুধের এই সমন্বয়ের গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক।

ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণাটির বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, তারা যে ওষুধগুলোর সমন্বয়ে করোনা রোগীর চিকিৎসার কথা বলছেন তা চিকিৎসার একটি পদ্ধতি হতে পারে। এটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলে এক্ষেত্রে যুগান্তকারী ফল আসতে পারে।

আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বলেছে, কোকো-ইয়ুং ইউয়েন ও তার সহকর্মীরা এইচআইভির ওষুধ রিটোনাভির ও লোপানিভিরের সঙ্গে সাধারণ সংক্রমণরোধী ওষুধ রিবাভিরিন এবং মাল্টিপল স্কলেরোসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ বেটা ইন্টারফেরের সমন্বয় ঘটান।

গবেষণাকালে তারা এমন রোগীদের বাছাই করেন যাদের সাত দিন আগে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের করোনা উপসর্গ ছিল হালকা থেকে মাঝারি মাত্রায়। এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন স্থানীয় ছয়টি হাসপাতালের ১২৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী। এর মধ্যে ৮৬ জনকে দুই সপ্তাহ এইচআইভির দুটি ওষুধসহ সাধারণ সংক্রমণরোধী ও মাল্টিপল স্কলেরোসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের ককটেল প্রয়োগ করা হয়। বাকি ৪১ জনকে কন্ট্রোল গ্রুপে রেখে শুধু এইচআইভির চিকিৎসায় ব্যবহৃত দুটি ওষুধের প্রয়োগ করেন ইউয়েনের সহকর্মীরা।

যাদের ককটেল দেওয়া হয়েছিল, তারা গড়ে ৭ দিনে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কন্ট্রোল গ্রুপের রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগছে অনেক বেশি।

ইউয়েন জানান, এই ককটেল ওষুধ শুধু সদ্য আক্রান্তের চিকিৎসায় কাজ দেবে তাই নয়, স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সাহায্য করবে। ওষুধটি নিরাপদ। স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্রমাগত রোগীদের সংস্পর্শে থাকতে হচ্ছে। সংক্রমণের আশঙ্কা তাদের সবচেয়ে বেশি।