আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তৈরি কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ ঔষধ প্রশাসন গ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
এ বিষয়ে আজ রোববার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে ওই কিটের আবিষ্কারকদের একজন ড. মো. ফিরোজ নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিট নিয়ে তার মন্তব্য এখানে তুলে ধরা হলো :
আমি যদি ডিজি মহোদায়কে প্রশ্ন করি, আপনার স্কয়ার ফার্মায় তো দুটা প্ল্যান্ট। একটা প্ল্যান্টে ওষুধ তৈরি করে অন্যান্য দেশে পাঠান। আরেকটায় বাংলাদেশে খাওয়ান। একটার ম্যাটেরিয়াল ইন্ডিয়া থেকে আনেন, সেটি আমরা খাই। আরেকটার ম্যাটেরিয়াল যখন আসে, সেটি পাঠিয়ে দেন বিদেশে। কই এগুলো তো আপনাদের চোখে পড়ে না। আমরা আবিষ্কার করলে আপনাদের খারাপ লাগে?
আমরা বিদেশ থেকে আমদানি করলে কি চাইনিজ কিট বন্ধ হবে, ইন্ডিয়ান কিট বন্ধ হবে? এগুলা আপনাদের খারাপ লাগে। কেন আপনি তো আয়োজন করবেন, আপনি মহা আয়োজন করবেন, আপনি সিআরও ডাকেন, আপনি সবাইকে ডাকেন বাংলাদেশের, আমি কিট দেব। এখানে কোনো বড় সাইন্স নেই। আমরা অনেক জায়গা থেকে অনেক কিছু ম্যানেজ করে সুন্দর একটা ফর্মুলা দিয়েছি, সামান্য একটু রক্ত দেব, একটা স্পট থাকবে। আপনারা দেখতে পাবেন, পজিটিভ আসলে আসবে, নেগেটিভ হলে আসবে না।
এর জন্য তো এত কিছুর দরকার নেই। যে ল্যাবরেটরিতে বিএসএম ২, বায়োসেফটি কেবিনেট আছে, ওখানে বসে আপনি এক হাজারটা স্যাম্পল দেন, আর লোকজনকে টেস্ট করে এখন বলো, এক হাজারটার মধ্যে ১০০টার মধ্যে, কয়টা পজিটিভ আসে? আপনি যে কয়টা স্যাম্পল পান তার ওপর সেন্সিভিটি করেন। এবার যাদের রোগ নেই তাদের রক্ত নেন। তাদেরটা করে নিয়ে স্পেসিফিকলি বলেন যে, ১০০টার মধ্যে কতটা নেগেটিভ আসছে। কাজ তো হয়ে গেল।
সরকারকে ডিস্ট্যাবিলাইজ করব, ওই ধরনের কোনো রাজনীতি আমরা করছি না। এখানে রাজনীতি আনার কিছু নেই। যে বিষয়টি আপনাদের বলি, এইসব নিয়ে কথা বন্ধ। সেটা হচ্ছে, আমাদের আবিষ্কার নিয়ে। আমরা যে আবিষ্কারটি করেছি, সেটা কোথাও মিশিয়ে দেওয়ার পরে আমরা সুন্দর একটা ঘর দিলে আপনার প্যাকিং করতে পারবেন। আমরা লাখ লাখ ভলান্টিয়ার নিয়োগ করে আগে জাতিকে বাঁচাব, এটা ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।
প্রক্রিয়াটি হচ্ছে, আমি ১ হাজার কিট তৈরি করে দেব। এখানে টেবিলের ওপর রাখবেন, ওই সিআরও বলেন, বা একজন মানুষ আসবেন। উনারা অনেকগুলো পজিটিভ স্যাম্পল আনবেন। রোগী আমাদের আছে, সিরাম নিয়ে আসবেন, একদিন এসে বসে সবার সামনে টেস্ট করে দিলেই তো হয়ে যায়! আজকে এই মুহূর্তে একটা ভূমিকম্প হলো, এখন-এই জায়গায়। আমরা কে কোথায় দৌঁড়ায় পালাব, তার কি কোনো ঠিক আছে? আমি মনে করছি, বাংলাদেশ এমন একটা সংকটাপন্ন অবস্থায় যাচ্ছে।
কালকে আমি বলেছিলাম, খুব সুন্দর করে। আমরা দেশটাকে বাঁচাতে চাচ্ছি। আমরা বিজ্ঞানীরা, আমরা যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি, সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি, শোষণহীন সমাজের স্বপ্ন দেখি, আমরা যারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন করি, আমরা যারা সাবেক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-তারাই বলছি যে, সরকারকে আমরা বাঁচাতে চাচ্ছি। আমরা দেশটাকে বাঁচাতে চাচ্ছি। জনগণকে বাঁচাতে চাচ্ছি। দেরি করার কী দরকার। আমরা কিট দিচ্ছি-এটার জন্য এত বড় কিছুর দরকার নেই। মানুষের শরীরে তো পুশ করব না।
মূল ঘটনা আপনাদেরকে বলি, আমাদের মানুষকে বাঁচাতে গেলে অনেক কিছু টেস্ট করতে হবে। যারা একটু অসুস্থ মনে হবে উনারা রেস্টে যাবেন। বাকিরা আমাদের কাজে যেতে হবে। নাহলে আমরা এ দেশটাকে আর রক্ষা করতে পারবো না। অর্থনৈতিকভাবে আমরা পঙ্গু হয়ে যাব। আমাদের ছাত্ররা ক্লাসে যেত পারছে না, সমস্ত কিছু বন্ধ। এভাবে একটা রাষ্ট্র চলতে পারে না।
আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, আপনি বিষয়টা ব্যক্তিগতভাবে হলেও দেখেন। দেশকে বাঁচাতে হলে যদি মনে হয় আমাদেরটা খারাপ, বাদ দিয়ে দেন। আমরা যেটা করছিলাম, সাশ্রয়ী খুব কম দামে বাংলাদেশের মানুষকে টেস্ট করাতে চেয়েছিলাম। এটাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা কোনো রকেট সাইন্স করিনি। খুব সিম্পল কিছু জিনিস করেছি। যেটা দিয়ে টেস্ট করা সম্ভব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















