আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রিশিপমেন্ট বা পণ্য জাহাজীকরণের আগে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে ৬ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়া হবে। এ বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রফতানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দিতে ৫০০ কোটি ডলারের একটি রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) রয়েছে। যা দিয়ে ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানি করা হয়।
করোনা ভাইরাসের কারণে রফতানিমুখী শিল্পকে সহযোগিতা করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফলে উদ্যোক্তারা স্থানীয় মুদ্রায় কম সুদে ঋণ নিতে পারবেন। এতে রফতানির আদেশের বিপরীতে পণ্য তৈরির পর সেগুলো রফতানি করাসহ আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে পারবেন এ ঋণের টাকায়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ তহবিল থেকে রফতানিকারকরা পণ্য জাহাজীকরণের আগে আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঋণ নিতে পারবেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সব ধরনের রফতানিমুখী শিল্পে এ তহবিল থেকে ঋণ দেয়া যাবে। ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ দিতে হবে। তবে কোনো খেলাপি গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানকে এ ঋণ দেয়া যাবে না। এতে বলা হয়, রফতানি ঋণপত্রের মূল্য থেকে ব্যাক টু ব্যাক এলসির মূল্য, অ্যাক্সেসরিজের জন্য নেয়া ঋণের অর্থ এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য ঋণ বাবদ অর্থ বাদ দিয়ে বাকি মূল্যের ওপর ব্যাংক তার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ দিতে পারবে। তবে রফতানি মূল্যের ১০ শতাংশের বেশি ঋণ দেয়া যাবে না। রফতানি পণ্য তৈরির পর জাহাজীকরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ব্যাংক এ ঋণ বিতরণ করবে। এই অর্থে পণ্য জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট ব্যয় মেটাতে ব্যয় করতে পারবেন উদ্যোক্তারা। ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর। ওই সময়ে কোনো গ্রাহক একাধিকবার এ তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, পণ্য জাহাজীকরণের পর চার মাসের মধ্যে সাধারণত রফতানি বিল দেশে আসে। এরপরই ঋণ সমন্বয় করে ফেলে ব্যাংক। তবে কোনো কারণে রফতানির অর্থ দেশে আসতে দেরি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মাস বাড়ানো যাবে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ তহবিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৩ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে। ব্যাংক উদ্যোক্তাকে দেবে ৬ শতাংশ সুদে। এর মধ্যে ৩ শতাংশ পাবে বাণিজ্যিক ব্যাংক। যেহেতু চার মাসের মধ্যে রফতানি বিল দেশে চলে আসে সে কারণে চার মাস পরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ঋণের অর্থ কেটে নেবে। কোনো কারণে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো হলে বাড়তি সময়ের পর এ অর্থ কেটে নেয়া হবে। গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের দায়িত্ব সম্পূর্ণ ব্যাংকের। এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংককে সম্পৃক্ত করা যাবে না। যথাসময়ে গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তা খেলাপি করে এর বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হবে। ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। সময় সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবহার সম্পর্কে তদন্ত করবে। এতে ঋণের সদ্ব্যবহার হয়নি বলে প্রমাণিত হলে আলোচ্য ঋণের বিপরীতে ব্যাংক রেটের সঙ্গে আরও ৫ শতাংশ যোগ করে একসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা চলতি হিসাব থেকে কেটে নেয়া হবে। অর্থাৎ বর্তমানে ব্যাংক রেট ৫ শতাংশ। এর সঙ্গে আরও ৫ শতাংশ সুদ যোগ করে মোট ১০ শতাংশ সুদ কেটে নেয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















