অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নির্বাচনকে সামনে রেখে বাজারে নগদ অর্থের সরবরাহ বেড়ে গেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেটাতে সরকারি খাতে টাকা খরচের পাশাপাশি প্রার্থীরাও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে টাকা খরচ করছেন নানাভাবে। এ ছাড়া প্রবাসীরাও নিকটজন বা দলীয় প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে বিদেশ থেকে টাকার জোগান দিচ্ছেন।
এসব মিলে টাকার প্রবাহ বেড়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাতের অর্থ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে ব্যাংকের বাইরের নগদ টাকা।
নির্বাচনের সময় টাকার প্রবাহ বাড়ার কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা জানান, এ সময়ে নির্বাচনী ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারের দায়দেনাগুলো পরিশোধ হয়ে থাকে। এ ছাড়া জনতুষ্টির জন্য সরকারও বাড়তি অর্থ খরচ করে। প্রার্থীদের খরচ তো আছেই। সব মিলিয়েই ব্যাংক থেকে যেমন টাকা বের হয়, তেমনি ব্যাংকের বাইরে থাকা মজুদ অর্থেরও সঞ্চালন বেড়ে যায়। ফলে অর্থনীতিতে বাড়তি টাকার জোগান আসে।
এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যাংকের মাধ্যমে যেমন টাকার প্রবাহ বাড়ে, তেমনি বাড়ে ব্যাংকবহির্ভূত মুদ্রাও। এর বাইরে রেমিটেন্স বা কার্ব মার্কেটের মাধ্যমেও বাজারে আসে। এসব কারণে টাকার প্রবাহ বাড়ে। তবে এই টাকার বড় অংশই ব্যয় হয় অনুৎপাদনশীল খাতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে টাকার প্রবাহ বা ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ (এম ২) বেড়ে গেছে। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে বাজারে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ ছিল ঋণাত্মক। যার পরিমাণ (০.৬৪ শতাংশ)।
কিন্তু হঠাৎ করেই এ প্রবণতা পাল্টে গিয়ে আগস্টে নগদ অর্থের সরবরাহ ১ দশমিক ৪৮ শতাংশে উন্নীত হয়। সেপ্টেম্বরে এই বৃদ্ধির গতি (১ দশমিক ২৪ শতাংশ) সামান্য মন্থর হলেও অক্টোবরে তা ১ দশমিক ৬৯ শতাংশে পৌঁছায়। যা নভেম্বরে আরও বেড়ে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত এপ্রিলে টাকার প্রবাহ বাড়ার হার ছিল ৪ দশমকি ২৭ শতাংশ, মে মাসে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ, জুনে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ২৪ শতাশে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরে টাকার প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ শতাংশ। এর মধ্যে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হবে ১০ দশমিক ২ শতাংশ। বাকি ছয় মাসে বাড়ানো হবে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, অর্থবছরে সমান হারে টাকার প্রবাহ না বাড়িয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশি বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত জুলাই থেকেই টাকার প্রবাহ বাড়ছে। জুলাইয়ে বেড়েছিল দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগস্টে ১ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে দশমিক ০৬ শতাংশ।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে টাকার প্রবাহ ছিল ১০ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছর সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকায়। যা আগস্টে ছিল ১১ লাখ ২৮ হাজার কোটি, জুলাইয়ে ১১ লাখ ৬ হাজার কোটি, জুনে ১১ লাখ ১০ হাজার কোটি এবং মে মাসে ছিল ১০ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধারাবাহিকভাবে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়াছে। এর বেশিরভাগই যাচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। যে কারণে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















