ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি বোরো মৌসুমের ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল কিনবে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আবার যুদ্ধ হলে ‘শত্রুর বাকি সম্পদ চূর্ণবিচূর্ণ’ করে দেব: আইআরজিসি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: মাহদী আমিন দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা সৌদি আরব পৌঁছেছেন ২০৫৫৩ হজযাত্রী, একজনের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ‌বির‌তির মেয়াদ বাড়ানোকে স্বাগত জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব লাশ চুরির ভয়ে সন্তানের কবর পাহারা দিচ্ছেন বাবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প

আরেক মুক্তামনি রুপগঞ্জের সুমা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অস্বাভাবিক আকৃতির হাত নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি আছে নারায়ণগঞ্জের মুছকান আক্তার সুমা (৮)। জন্মের সময়ই তার ডান হাত এই অস্বাভাবিক আকৃতির বোঝা যায়। বিভিন্ন জায়গায় হোমিও প্যাথি চিকিৎসা কিংবা হাসপাতালেও চিকিৎসা করিয়ে তার হাত স্বাভাবিক করা যায়নি। গত শনিবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটে ভর্তি করানো হয়।

বার্ণ ইউনিটের ৩য় তলায় শিশু বিভাগে শিশুটির বিষয়ে কথা হয় তার সার্বক্ষণিক সঙ্গে থাকা দাদি হালিমা বেগমের সাথে। তিনি জানান, ওর বাবা শফিকুল ইসলাম সুমন সৌদি প্রবাসী এবং মা ইয়াসমিন আক্তার গৃহবধূ। এক ভাই এক বোনের মধ্যে সে ছোট। থাকে নারায়ণগঞ্জ রুপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন এলাকায়।

দাদী হালিমা বেগম জানান, জন্মের সময় তার ডান হাতে লালচে ফুলা দাগ দেখা যায়। যা কিনা পরবর্তিতে আস্তে আস্তে ফুলা আরো বাড়তে থাকে। তবে তা সারাবার জন্য বিভিন্ন হোমিও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। নিয়মিত হোমিও ঔষধ খেয়েও কোন প্রতিকার লক্ষ করা যায়নি।

এরপর দুই দুই বার ঢাকার পিজি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করেও চিকিৎসা করানো হয়। এতেও কোন লাভ হয়নি। সর্বশেষ গত ৩ বছরে তার হাতের আকৃতি আরো অস্বাভাবিক হতে থাকে। এখন হাতের অবস্থা এতই খারাপ যে সে ভালমত হাত নাড়াচাড়াও করতে পারেনা।

তিনি জানান, সুমা স্থানীয় সোনার বাংলা মডেল স্কুলের ১ম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু অস্বাভাবিক আকৃতির হাতের জন্য সে নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারেনা।

দাদী হালিমা বেগম বলেন, টিভির খবরে সব সময় বিরল রোগী মুক্তামনিকে দেখায় যে, এখানকার চিকিৎসকরা অপারেশন করে তার হাত ভাল করে দিচ্ছে। সেই আশায় আমার নাতিনকেও নিয়ে এসেছি। এই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। নাতিন সুমার স্বাভাবিক হাতের জন্য সবার সাহায্য কামণা করেন তিনি।

শিশুটির বিষয়ে ঢামেক বার্ণ ইউনিটের সমন্বয়ক ডাক্তার সামন্ত লাল সেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য ডাক্তারের অধীনে ভর্তি হওয়ায় আমি শিশুটির ব্যাপারে এখনও কিছু জানিনা। তবে আগামীকাল শিশুটিকে দেখে পরে বলতে পারবো, শিশুটি কী রোগে আক্রান্ত এবং তার কি অবস্থা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি বোরো মৌসুমের ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল কিনবে সরকার

আরেক মুক্তামনি রুপগঞ্জের সুমা

আপডেট সময় ০৬:০৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অস্বাভাবিক আকৃতির হাত নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি আছে নারায়ণগঞ্জের মুছকান আক্তার সুমা (৮)। জন্মের সময়ই তার ডান হাত এই অস্বাভাবিক আকৃতির বোঝা যায়। বিভিন্ন জায়গায় হোমিও প্যাথি চিকিৎসা কিংবা হাসপাতালেও চিকিৎসা করিয়ে তার হাত স্বাভাবিক করা যায়নি। গত শনিবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটে ভর্তি করানো হয়।

বার্ণ ইউনিটের ৩য় তলায় শিশু বিভাগে শিশুটির বিষয়ে কথা হয় তার সার্বক্ষণিক সঙ্গে থাকা দাদি হালিমা বেগমের সাথে। তিনি জানান, ওর বাবা শফিকুল ইসলাম সুমন সৌদি প্রবাসী এবং মা ইয়াসমিন আক্তার গৃহবধূ। এক ভাই এক বোনের মধ্যে সে ছোট। থাকে নারায়ণগঞ্জ রুপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন এলাকায়।

দাদী হালিমা বেগম জানান, জন্মের সময় তার ডান হাতে লালচে ফুলা দাগ দেখা যায়। যা কিনা পরবর্তিতে আস্তে আস্তে ফুলা আরো বাড়তে থাকে। তবে তা সারাবার জন্য বিভিন্ন হোমিও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। নিয়মিত হোমিও ঔষধ খেয়েও কোন প্রতিকার লক্ষ করা যায়নি।

এরপর দুই দুই বার ঢাকার পিজি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করেও চিকিৎসা করানো হয়। এতেও কোন লাভ হয়নি। সর্বশেষ গত ৩ বছরে তার হাতের আকৃতি আরো অস্বাভাবিক হতে থাকে। এখন হাতের অবস্থা এতই খারাপ যে সে ভালমত হাত নাড়াচাড়াও করতে পারেনা।

তিনি জানান, সুমা স্থানীয় সোনার বাংলা মডেল স্কুলের ১ম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু অস্বাভাবিক আকৃতির হাতের জন্য সে নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারেনা।

দাদী হালিমা বেগম বলেন, টিভির খবরে সব সময় বিরল রোগী মুক্তামনিকে দেখায় যে, এখানকার চিকিৎসকরা অপারেশন করে তার হাত ভাল করে দিচ্ছে। সেই আশায় আমার নাতিনকেও নিয়ে এসেছি। এই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। নাতিন সুমার স্বাভাবিক হাতের জন্য সবার সাহায্য কামণা করেন তিনি।

শিশুটির বিষয়ে ঢামেক বার্ণ ইউনিটের সমন্বয়ক ডাক্তার সামন্ত লাল সেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য ডাক্তারের অধীনে ভর্তি হওয়ায় আমি শিশুটির ব্যাপারে এখনও কিছু জানিনা। তবে আগামীকাল শিশুটিকে দেখে পরে বলতে পারবো, শিশুটি কী রোগে আক্রান্ত এবং তার কি অবস্থা।