ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ইরান ইস্যুতে মোদিকে অবস্থান স্পষ্ট করতে বললেন রাহুল গান্ধী

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। টানা হামলা-পালটা হামলায় অস্থির হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান চেয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা উদ্বেগ বাস্তব হলেও কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। একতরফা সামরিক আক্রমণ যেমন নিন্দনীয়, তেমনি পালটা হামলাও সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে।

রাহুল গান্ধী বলেন, সহিংসতা কেবল সহিংসতাকেই জন্ম দেয়। সংলাপ ও সংযমই শান্তির একমাত্র পথ। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবজীবনের প্রশ্নে ভারতের নৈতিক অবস্থান পরিষ্কার হওয়া উচিত। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ঐতিহ্যগতভাবে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। বর্তমান সংকটেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করে বিশ্ব ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করার প্রচেষ্টা সমর্থন করা যায় কি না, সে বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানানো দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এই সময়ে নীরবতা ভারতের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও নৈতিক অবস্থান প্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আন্তর্জাতিক মহলেও শান্তির আহ্বান জোরদার হচ্ছে। উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় আঘাত হানতে পারে। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ইস্যুতে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ইরান ইস্যুতে মোদিকে অবস্থান স্পষ্ট করতে বললেন রাহুল গান্ধী

আপডেট সময় ০৬:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। টানা হামলা-পালটা হামলায় অস্থির হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান চেয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা উদ্বেগ বাস্তব হলেও কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। একতরফা সামরিক আক্রমণ যেমন নিন্দনীয়, তেমনি পালটা হামলাও সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে।

রাহুল গান্ধী বলেন, সহিংসতা কেবল সহিংসতাকেই জন্ম দেয়। সংলাপ ও সংযমই শান্তির একমাত্র পথ। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবজীবনের প্রশ্নে ভারতের নৈতিক অবস্থান পরিষ্কার হওয়া উচিত। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ঐতিহ্যগতভাবে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। বর্তমান সংকটেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করে বিশ্ব ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করার প্রচেষ্টা সমর্থন করা যায় কি না, সে বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানানো দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এই সময়ে নীরবতা ভারতের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও নৈতিক অবস্থান প্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আন্তর্জাতিক মহলেও শান্তির আহ্বান জোরদার হচ্ছে। উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় আঘাত হানতে পারে। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ইস্যুতে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।