ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ইসরাইলের হামলা বাংলাদেশের জনগণের খাদ্য জোগাতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র’ ইসরায়েলকে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি হিজবুল্লাহর ১০ মার্চ কড়াইল বস্তি থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে উদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মেট্রোরেল ও ট্রেন ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন শিক্ষার্থীসহ যারা, জানালেন মন্ত্রী পরীক্ষাকেন্দ্রের টয়লেটেও নকল পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী: শিক্ষামন্ত্রী চালের দাম বৃদ্ধির খবর শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ফজলুর রহমান বাবু দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ

ইরান ইস্যুতে মোদিকে অবস্থান স্পষ্ট করতে বললেন রাহুল গান্ধী

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। টানা হামলা-পালটা হামলায় অস্থির হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান চেয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা উদ্বেগ বাস্তব হলেও কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। একতরফা সামরিক আক্রমণ যেমন নিন্দনীয়, তেমনি পালটা হামলাও সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে।

রাহুল গান্ধী বলেন, সহিংসতা কেবল সহিংসতাকেই জন্ম দেয়। সংলাপ ও সংযমই শান্তির একমাত্র পথ। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবজীবনের প্রশ্নে ভারতের নৈতিক অবস্থান পরিষ্কার হওয়া উচিত। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ঐতিহ্যগতভাবে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। বর্তমান সংকটেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করে বিশ্ব ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করার প্রচেষ্টা সমর্থন করা যায় কি না, সে বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানানো দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এই সময়ে নীরবতা ভারতের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও নৈতিক অবস্থান প্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আন্তর্জাতিক মহলেও শান্তির আহ্বান জোরদার হচ্ছে। উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় আঘাত হানতে পারে। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ইস্যুতে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ইসরাইলের হামলা

ইরান ইস্যুতে মোদিকে অবস্থান স্পষ্ট করতে বললেন রাহুল গান্ধী

আপডেট সময় ০৬:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। টানা হামলা-পালটা হামলায় অস্থির হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান চেয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা উদ্বেগ বাস্তব হলেও কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। একতরফা সামরিক আক্রমণ যেমন নিন্দনীয়, তেমনি পালটা হামলাও সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে।

রাহুল গান্ধী বলেন, সহিংসতা কেবল সহিংসতাকেই জন্ম দেয়। সংলাপ ও সংযমই শান্তির একমাত্র পথ। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবজীবনের প্রশ্নে ভারতের নৈতিক অবস্থান পরিষ্কার হওয়া উচিত। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ঐতিহ্যগতভাবে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। বর্তমান সংকটেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করে বিশ্ব ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করার প্রচেষ্টা সমর্থন করা যায় কি না, সে বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানানো দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এই সময়ে নীরবতা ভারতের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও নৈতিক অবস্থান প্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আন্তর্জাতিক মহলেও শান্তির আহ্বান জোরদার হচ্ছে। উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় আঘাত হানতে পারে। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ইস্যুতে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।