অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগ করতে হলো ডেমোক্রেট দলের একজন সিনেটরকে। তিনি ডেমোক্রেট দল থেকে মিসৌরির সিনেটর মারিয়া চ্যাপেলে-নাদাল। শার্লোটসভিলেতে শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থি ও বর্ণবাদ বিরোধীদের মধ্যে সহিংসতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ ইস্যুতে যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন মারিয়া।
তিনি লিখেছিলেন, তিনি আশা করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করা হোক। তার এমন মন্তব্যের কারণে তার ওপর তীব্র চাপ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে সিনেটর মারিয়া পদত্যাগে বাধ্য হন। এ খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এতে বলা হয়, শার্লোটসভিলের সহিংসতার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘দুই পক্ষ’কেই দায়ী করেন। এর জবাবে বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুকে পোস্ট দেন মারিয়া।
কানসাস সিটি স্টারকে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই পোস্টে আমি বলেছিলামÑ আমি বাস্তবিকই ট্রাম্পকে ঘৃণা করি। তিনি ক্ষত ও ভীতি সৃষ্টি করছেন। এটাই ছিল আমার মূল পোস্ট। এমন পোস্ট দেয়ার পর বিপুল পরিমাণ প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। এর একটিতে প্রতিক্রিয়ার জবাবে তিনি লিখেছিলেন, আমি আশা করি ট্রাম্পকে হত্যা করা হোক। পরে অবশ্য মারিয়া চ্যাপেলে নাদাল বলেছেন, তিনি আক্ষরিক অর্থে প্রেসিডেন্টকে কোনো ক্ষতি করার অর্থে ওই কথা লেখেন নি। তিনি শুধু তার কথায় হতাশা প্রকাশ করতে এ কথা লিখেছিলেন। মারিয়া বলেন, আমি যা লিখেছিলাম, আসলে তা বুঝাতে চাইনি। মোটেও না।
সেন্ট লুইস থেকে কেউ একজন আমার প্রতিক্রিয়া চাইতে আমি অমন মন্তব্য করেছিলাম। তিনি আরো বলেন, অনেক মানুষ এখন শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থিদের ভয়ে ভীত। এসব শ্বেতাঙ্গ ভীতির সৃষ্টি করছে। তাদের কারণে মানুষ রাস্তায় বেরুতে ভয় পাচ্ছে। ফার্গুসনের চেয়ে এ অবস্থা বেশি খারাপ। উল্লেখ্য, মারিয়া ফেসবুকে ট্রাম্পকে নিয়ে ওই পোস্ট দেয়ার অল্প সময়ের মধ্যে তা মুছে দেন। কিন্তু ততক্ষণে ওই পোস্টের স্ক্রিন শট ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মিডিয়ায়। এ জন্য বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। চারদিক তেকে চাপ বাড়তে থাকে। ফলে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন মারিয়া। ওদিকে গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, তারা বিষয়টি দেখছে। তারা বলেছে, প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অন্য যাদেরকে রাষ্টু সুরক্ষা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি এলে তা তদন্ত করা হয়। হোক সেটা সরাসরি হুমকি বা অন্য কোনো আকারের। এর আগে কমেডিয়ান ক্যাথি গ্রিফিন একটি ভিডিও ও একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। তাতে তাকে দেখা গিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্তিত রক্তাক্ত মাথার একটি মুখোশ পরে আছেন। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে ক্ষমা চান গ্রিফিন। ওদিকে গত শুক্রবার রিপাবলিকান দলের গভর্নর এরিক গ্রেইটেনস টুইটারে মারিয়া চ্যাপেল নাদালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যদি তিনি পদত্যাগ না করেন তাহলে রাজ্যের সিনেট তাকে বরখাস্ত করতে ভোটের আয়োজন করবে।
তার এ মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন মারিয়ার নিজ দল ডেমোক্রেটেরও কেউ কেউ। এর মধ্যে রয়েছেন সিনেটর ক্লেয়ার ম্যাকক্যাস্কিল, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য উইলিয়াম লেসি ক্লে। তারা বলেছেন, মারিয়া আমাদের জন্য আমাদের রাজ্যে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। ওদিকে সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা গিনা ওয়ালশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, আজকাল রাজনীতিতে অনেক বেশি ঘৃণা ঢুকে গেছে। এমন কটূ কথা বলার জন্য মারিয়াকে লজ্জিত হওয়া উচিত।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















