ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সুযোগ নিচ্ছে অ্যাপের চালকরাও

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনও চলাচলের ক্ষেত্রে ভোগান্তি চরমে উঠেছে। পরিবহন না থাকায় বিকল্প যানবাহন দিয়ে চলতে গিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা। আর্থিক দিক থেকে টানাপড়েনে থাকা মানুষরা চলতে বাধ্য হচ্ছে হেঁটে।

এই পরিস্থিতিতে মোবাইল অ্যাপে চলা প্রাইভেট কার ও মোটর সাইকেলগুলোও সুযোগ দিচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা অ্যাপ বন্ধ রেখে চুক্তিতে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী তুলছে। প্রাইভেট কারেও ভাড়া বেশি আসছে।

রাজধানীর কয়েকটি স্থানে ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ মোড়ে একাধিক মোটরসাইকেল চালক অবস্থান করছেন। এসময় তারা ডেকে ডেকে যাত্রী তুলছেন। তাঁতীবাজার থেকে ফার্মগেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মেহেদি হাসান বলেন, ‘তাঁতীবাজার মোড়ে আসতেই মোটরসাইকেল চালকরা কোথায় যাবেন বা মোটরসাইকেলে যাবেন কি না এটা জিজ্ঞাসা করছে।’

এক মোটরসাইকেল চালককে অ্যাপ বন্ধ রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই, অনেক মানুষ গাড়ির অপেক্ষায়। অ্যাপে ভাড়া কম আসে তাই এখন যাত্রীদের সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছি।’

বলাই বাহুল্য চুক্তিতে ভাড়া ঠিক করতে যাত্রীর চেয়ে চালকদের ইচ্ছাই প্রাধান্য পাচ্ছে। যাত্রীর তুলনায় যানবাহন সেখানে কম, সেখানে যাত্রীর পক্ষে বেশি কথা বলার সুযোগ নেই।

ইস্কাটন আসার জন্য ফার্মগেটে দাঁড়িয়েছিলেন হিমু। এক মোটরসাইকেল চালক তাকে চুক্তিতে যাওয়ার কথা বলে। হিমু ভাড়া জিজ্ঞাসা করলে তিনি এক শ টাকা চান। অথচ অ্যাপের মাধ্যমে এইটুকু আসতে ভাড়া পড়বে ৩০ বা ৪০ টাকা। আর ছাড় থাকলে আরো কম লাগে।

গতকাল কর্মবিরতির প্রথম দিনও একই অবস্থা ছিল অ্যাপ সার্ভিসগুলোতে। অন্যদিন যেখানে অ্যাপে অনুরোধ পাঠালে নিমিষেই রাইডার পাওয়া যেত সেখানে রাইডার পাওয়াই এখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সোমবার সকালে গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী ও শাহবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ, কিন্তু কোনো বাস নেই। এই সুযোগে রিকশা, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

গুলিস্তান এলাকায় লিটন হাসান বলেন, ‘কোনো গাড়ি যাচ্ছে না। আমি মহাখালি যাব, শেষে শেয়ারের সিএনজিতে উঠেছি। তাও ভাড়া কয়েকগুণ বেশি।’

নগর পরিবহনের মতো ভোগান্তি আন্তঃজেলা যাতায়াতেও। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বিপুল সংখ্যক মানুষকে বাস না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। একই চিত্র মহাখালী ও গাবতলী টার্মিনালেও। কর্মবিরতির তথ্য যারা জানতেন না, তারা এই সমস্যায় পড়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

সুযোগ নিচ্ছে অ্যাপের চালকরাও

আপডেট সময় ০১:২৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনও চলাচলের ক্ষেত্রে ভোগান্তি চরমে উঠেছে। পরিবহন না থাকায় বিকল্প যানবাহন দিয়ে চলতে গিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা। আর্থিক দিক থেকে টানাপড়েনে থাকা মানুষরা চলতে বাধ্য হচ্ছে হেঁটে।

এই পরিস্থিতিতে মোবাইল অ্যাপে চলা প্রাইভেট কার ও মোটর সাইকেলগুলোও সুযোগ দিচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা অ্যাপ বন্ধ রেখে চুক্তিতে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী তুলছে। প্রাইভেট কারেও ভাড়া বেশি আসছে।

রাজধানীর কয়েকটি স্থানে ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ মোড়ে একাধিক মোটরসাইকেল চালক অবস্থান করছেন। এসময় তারা ডেকে ডেকে যাত্রী তুলছেন। তাঁতীবাজার থেকে ফার্মগেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মেহেদি হাসান বলেন, ‘তাঁতীবাজার মোড়ে আসতেই মোটরসাইকেল চালকরা কোথায় যাবেন বা মোটরসাইকেলে যাবেন কি না এটা জিজ্ঞাসা করছে।’

এক মোটরসাইকেল চালককে অ্যাপ বন্ধ রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই, অনেক মানুষ গাড়ির অপেক্ষায়। অ্যাপে ভাড়া কম আসে তাই এখন যাত্রীদের সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছি।’

বলাই বাহুল্য চুক্তিতে ভাড়া ঠিক করতে যাত্রীর চেয়ে চালকদের ইচ্ছাই প্রাধান্য পাচ্ছে। যাত্রীর তুলনায় যানবাহন সেখানে কম, সেখানে যাত্রীর পক্ষে বেশি কথা বলার সুযোগ নেই।

ইস্কাটন আসার জন্য ফার্মগেটে দাঁড়িয়েছিলেন হিমু। এক মোটরসাইকেল চালক তাকে চুক্তিতে যাওয়ার কথা বলে। হিমু ভাড়া জিজ্ঞাসা করলে তিনি এক শ টাকা চান। অথচ অ্যাপের মাধ্যমে এইটুকু আসতে ভাড়া পড়বে ৩০ বা ৪০ টাকা। আর ছাড় থাকলে আরো কম লাগে।

গতকাল কর্মবিরতির প্রথম দিনও একই অবস্থা ছিল অ্যাপ সার্ভিসগুলোতে। অন্যদিন যেখানে অ্যাপে অনুরোধ পাঠালে নিমিষেই রাইডার পাওয়া যেত সেখানে রাইডার পাওয়াই এখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সোমবার সকালে গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী ও শাহবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ, কিন্তু কোনো বাস নেই। এই সুযোগে রিকশা, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

গুলিস্তান এলাকায় লিটন হাসান বলেন, ‘কোনো গাড়ি যাচ্ছে না। আমি মহাখালি যাব, শেষে শেয়ারের সিএনজিতে উঠেছি। তাও ভাড়া কয়েকগুণ বেশি।’

নগর পরিবহনের মতো ভোগান্তি আন্তঃজেলা যাতায়াতেও। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বিপুল সংখ্যক মানুষকে বাস না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। একই চিত্র মহাখালী ও গাবতলী টার্মিনালেও। কর্মবিরতির তথ্য যারা জানতেন না, তারা এই সমস্যায় পড়েছেন।