ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাতানো নির্বাচনের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই, অধিকার আদায়ে জনগণ জীবন দিতে প্রস্তুত: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্রি ওয়াইফাই সেবা পৌঁছে দিবেন তারেক রহমান: আব্দুস সালাম আমিও আ.লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম: নুর ব্যবহৃত মোবাইল কেনাবেচায় নতুন নিয়ম, সতর্ক করল বিটিআরসি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে অর্থ বরাদ্দে সরকার কার্পণ্য করছে না : অর্থ উপদেষ্টা ‘জনগণ জানে চুলার মুখ দিয়ে কখনো স্বর্ণ বের হয় না আর স্বর্ণের খনি থেকে কখনো ছাই বের হয় না: মির্জা আব্বাস সারা দেশে ১৩৭টি উইকেট বানানোর পরিকল্পনা বিসিবির দোয়া করবেন যেন সংসদে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশ এক ধরনের ক্রান্তিলগ্নে রয়েছে : আলী রীয়াজ

ক্ষমতা ছাড়ার পর একদিনও শান্তিতে থাকতে পারিনি: এরশাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর আমি একদিনও শান্তিতে থাকতে পারিনি। আমি এখন সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। কিন্তু আমার মতো অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত আর কেউ নাই।’

রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইচ এম এরশাদ এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি ছয় বছর দুই মাস জেলে ছিলাম। স্ত্রী, সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। রোজা রাখলেও ইফতার করতে পারিনি। এত কিছুর পরও আমি মরিনি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ শান্তিতে নেই। মানুষ এখন সরকারের পরিবর্তন চায়। শান্তির জন্য পরিবর্তন দরকার। আর পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি। আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশ শান্তি ফিরিয়ে আনবো।’

এ সময় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহবান জানান পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাজী মো. মামুনূর রশিদকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

জনসভায় জাতয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তি চায় এবং জীবনের নিরাপত্তা চায়। তারা আশা করছে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে সেটা পেতে পারে। শান্তির জন্য পরিবর্তন শুধু জাতীয় পার্টি দিতে পারে। আর কেউ পারবে না।’

জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনমুখী দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, কে নির্বাচনে আসলো কে আসলো না আমরা পরোয়া করি না। আমরা নির্বাচনে বিশ্বাসী। নির্বাচন না করলে সরকারের পরিবর্তন হবে না।

নিজের শাসনামলের শান্তির কথা উল্লেখ করে এইচ এম এরশাদ বলেন, রাস্তার ধারে লাশ পড়ে থাকে মানুষ বিচার পায় না। আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশে খুন-হত্যা বন্ধ হবে। ব্যাংক লুট হবে না, গায়েবি মামলা হবে না। আমরা মানুষকে সুখ-শান্তি দেব। যদি কারচুপির নির্বাচন না হয় তাহলে জাতীয় পার্টি আবার ক্ষমতায় আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সাবেক এ রাষ্ট্র্রপতি।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, আগে নির্বাচনে যে উৎফুল্লতা দেখেছিলাম এখন সেটা নেই। সরকার বলছে যথাসময়ে নির্বাচন হবে আর তাদের প্রতিপক্ষ বলছে ৭ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন হবে না। তবে জাতীয় পার্টি যেকোনো সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে। যদি সব দল নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে আমরা মহাজোটে থেকেই নির্বাচন করব।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি ধ্বংসে নয়, উন্নয়ন ও কল্যাণে বিশ্বাস করে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় দেশে গুম-খুন ছিল না। জাতীয় পার্টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। জনগণের ভোটে জাতীয় পার্টি আবার ক্ষমতায় আসবে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা ও নবীনগর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কাজী মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক মৃধা, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ও ঢাকা মহানগর (উত্তর) জাতীয় পার্টির সভাপতি ফয়সাল হোসেন চিশতি প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হান্নান মাসউদের স্ত্রীকে স্বর্ণের আংটি উপহার দিলেন বৃদ্ধা

ক্ষমতা ছাড়ার পর একদিনও শান্তিতে থাকতে পারিনি: এরশাদ

আপডেট সময় ০৯:১৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর আমি একদিনও শান্তিতে থাকতে পারিনি। আমি এখন সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। কিন্তু আমার মতো অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত আর কেউ নাই।’

রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইচ এম এরশাদ এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি ছয় বছর দুই মাস জেলে ছিলাম। স্ত্রী, সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। রোজা রাখলেও ইফতার করতে পারিনি। এত কিছুর পরও আমি মরিনি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ শান্তিতে নেই। মানুষ এখন সরকারের পরিবর্তন চায়। শান্তির জন্য পরিবর্তন দরকার। আর পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি। আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশ শান্তি ফিরিয়ে আনবো।’

এ সময় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহবান জানান পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাজী মো. মামুনূর রশিদকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

জনসভায় জাতয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তি চায় এবং জীবনের নিরাপত্তা চায়। তারা আশা করছে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে সেটা পেতে পারে। শান্তির জন্য পরিবর্তন শুধু জাতীয় পার্টি দিতে পারে। আর কেউ পারবে না।’

জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনমুখী দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, কে নির্বাচনে আসলো কে আসলো না আমরা পরোয়া করি না। আমরা নির্বাচনে বিশ্বাসী। নির্বাচন না করলে সরকারের পরিবর্তন হবে না।

নিজের শাসনামলের শান্তির কথা উল্লেখ করে এইচ এম এরশাদ বলেন, রাস্তার ধারে লাশ পড়ে থাকে মানুষ বিচার পায় না। আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশে খুন-হত্যা বন্ধ হবে। ব্যাংক লুট হবে না, গায়েবি মামলা হবে না। আমরা মানুষকে সুখ-শান্তি দেব। যদি কারচুপির নির্বাচন না হয় তাহলে জাতীয় পার্টি আবার ক্ষমতায় আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সাবেক এ রাষ্ট্র্রপতি।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, আগে নির্বাচনে যে উৎফুল্লতা দেখেছিলাম এখন সেটা নেই। সরকার বলছে যথাসময়ে নির্বাচন হবে আর তাদের প্রতিপক্ষ বলছে ৭ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন হবে না। তবে জাতীয় পার্টি যেকোনো সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে। যদি সব দল নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে আমরা মহাজোটে থেকেই নির্বাচন করব।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি ধ্বংসে নয়, উন্নয়ন ও কল্যাণে বিশ্বাস করে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় দেশে গুম-খুন ছিল না। জাতীয় পার্টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। জনগণের ভোটে জাতীয় পার্টি আবার ক্ষমতায় আসবে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা ও নবীনগর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কাজী মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক মৃধা, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ও ঢাকা মহানগর (উত্তর) জাতীয় পার্টির সভাপতি ফয়সাল হোসেন চিশতি প্রমুখ।