ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ভাই ত্রাণ চাই না, খাবার পানি দেন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘ভাই ত্রাণ চাই না, খাবার পানি দেন, খাইয়া বাঁইচ্চা থাকি’ -পানির জন্য এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন টাঙ্গাইলের গাবসারা ইউনিয়নের রেহাই গাবসারা গ্রামের আব্দুল লতিফ। তার মতো উপজেলার বন্যার্ত হাজারো মানুষ বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছে। বন্যায় গাবসারা ইউনিয়নের প্রায় সবগুলোই টিউবওয়েলই পানিতে তলিয়ে গেছে। এখান থেকে পানি পান করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বানভাসীরা। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ওষুধ বা পানি বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেট বন্যা কবলিত এ এলাকায় পৌঁছায়নি।

এদিকে প্রশাসন বলছে, বন্যার্তদের জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছেন। কিন্তু সেগুলো বন্যায় কবলিত মানুষের কাছে যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সরেজমিনে গাবসারা, অর্জুনা ইউনিয়নসহ বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কোনো ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মী বন্যাদুর্গত মানুষদের খোঁজ নেইনি। পানিতে বসবাস করে তাদের হাত-পায়সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘাঁ হয়ে গিয়েছে।

অর্জুনা ইউনিয়নের শশুয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের তার পা ও হাতের ঘাঁ দেখিয়ে বলেন, ‘পানিতে থেকে শরীরে ঘাঁয়ের সৃষ্টি হয়েছে। পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। ঘরে উচু মাঁচা করে কোনো রকমে বেঁচে আছি ‘ গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্ন্যাদুর্গদের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার প্রয়োজন। পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য কোনো ওষুধ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’

ত্রাণের স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার প্রশাসন থেকে মাত্র দুই টন চাল ডিও বরাদ্দ পেয়েছি। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন থেকে বন্যাদুর্গতদের জন্য পাঁচ টন চাল ও নগদ এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ হতে আরো পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দুই হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে। শুক্রবার থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। যা প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভাই ত্রাণ চাই না, খাবার পানি দেন

আপডেট সময় ০৪:০১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘ভাই ত্রাণ চাই না, খাবার পানি দেন, খাইয়া বাঁইচ্চা থাকি’ -পানির জন্য এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন টাঙ্গাইলের গাবসারা ইউনিয়নের রেহাই গাবসারা গ্রামের আব্দুল লতিফ। তার মতো উপজেলার বন্যার্ত হাজারো মানুষ বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছে। বন্যায় গাবসারা ইউনিয়নের প্রায় সবগুলোই টিউবওয়েলই পানিতে তলিয়ে গেছে। এখান থেকে পানি পান করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বানভাসীরা। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ওষুধ বা পানি বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেট বন্যা কবলিত এ এলাকায় পৌঁছায়নি।

এদিকে প্রশাসন বলছে, বন্যার্তদের জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছেন। কিন্তু সেগুলো বন্যায় কবলিত মানুষের কাছে যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সরেজমিনে গাবসারা, অর্জুনা ইউনিয়নসহ বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কোনো ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মী বন্যাদুর্গত মানুষদের খোঁজ নেইনি। পানিতে বসবাস করে তাদের হাত-পায়সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘাঁ হয়ে গিয়েছে।

অর্জুনা ইউনিয়নের শশুয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের তার পা ও হাতের ঘাঁ দেখিয়ে বলেন, ‘পানিতে থেকে শরীরে ঘাঁয়ের সৃষ্টি হয়েছে। পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। ঘরে উচু মাঁচা করে কোনো রকমে বেঁচে আছি ‘ গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্ন্যাদুর্গদের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার প্রয়োজন। পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য কোনো ওষুধ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’

ত্রাণের স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার প্রশাসন থেকে মাত্র দুই টন চাল ডিও বরাদ্দ পেয়েছি। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন থেকে বন্যাদুর্গতদের জন্য পাঁচ টন চাল ও নগদ এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ হতে আরো পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দুই হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে। শুক্রবার থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। যা প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।