ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করতে ঐক্যফ্রন্টে ড. কামাল: মইনুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব ধ্বংস করতেই ড. কামাল হোসেনকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আনা হয়েছে। ফ্রন্টে যোগ দেয়া সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন একজন সাংবাদিককে এই তথ্য দিয়েছেন।

দুই জনের মধ্যে টেলিফোনালাপ ফেসবুকে ফাঁস হয়েছে। সেখানেই এই তথ্য রয়েছে। রাব মজুমদার নামে দ্য সিকিউরিটি ওয়ার্ল্ড নামে একটি পত্রিকার সাংবাদিকের সঙ্গে এই কথোপকথনটি ছিল।

দুই মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের এই কথোপকথনে মইনুল হোসেন ঐক্যফ্রন্ট গঠন, নারী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ঘিরে বিতর্কসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। আর শেষ পর্যায়ে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে মইনুল হোসেন লন্ডন যাচ্ছেন বলে গুজবের বিষয়ে জানতে চান ওই সাংবাদিক। এর জবাবেই মইনুল হোসেন তারেক রহমানের নেতৃত্ব ধ্বংস করতে ড. কামালকে ঐক্যে আনার কথা বলেন।

গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, বিএনপি, নাগরিক ঐক্য এবং জেএসডি মিলে গঠন হয় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এই ঐক্য গড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলা যাবে বলে আশার কথা বলছেন বিএনপি নেতারা।

ঐক্যে সবচেয়ে বড় দল হলেও বিএনপি নেতারা কথা বলছেন কম। ড. কামালই প্রধান নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। আর বেশি কথা বলছেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও আ স ম আবদুর রব।

এর মধ্যে ২৪ অক্টোবর সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সমাবেশও ডাকা হয়েছে। সেখানে বিএনপির পাশাপাশি অন্য দলগুলোর নেতারাও যোগ দেবেন।

এই ঐক্য গড়ার পর ড. কামাল হোসেন প্রশ্নের মুখে পড়েন একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে নিয়ে ঐক্য করার বিষয়টি নিয়ে। তবে ড. কামাল আজকের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি জামায়াত বা তারেক রহমানের সঙ্গে ঐক্য করেননি, বিএনপির সঙ্গে করেছেন।

এর মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে মইনুল হোসেনের এই টেলিফোনালাপ। বেসরকারি টেলিভিশন সময় টিভিতে বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে এই টেলিফোন সংলাপ শোনানোও হয়। তিনি স্পষ্টত বিব্রত হন, তবে এর ভিত্তিতে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঢাকাটাইমসের পক্ষ থেকে ড. কামালের দল গণফোরামের মহাসচিব মোস্তফা মহসিন মণ্টু এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দুই জনই বিষয়টি অস্বীকার করেন। দুই জনই বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টা জানি না।’
মইনুলের কথোপকথনের পুরোটা
ফোন ধরে মইনুল হোসেন বলেন, ‘কী বলেন মজুমদার সাহেব’।
মজুমদার: স্লামালাইকুম স্যার।
মইনুল: জ্বি বলেন।
মজুমদার: কেমন আছেন আপনি।
মইনুল: ‘আছি, জেলের ভাত কয়েকদিন খেতে হবে আমাকে। সে জন্য রেডি হইতেছি। ’
মজুমদার: আচ্ছা আচ্ছা।

মইনুল: আজকে তো বেইল নিয়ে আসছি। কেস করছে দুইটা। …মামলা টামলা দিয়েই তো, এদের কাছে মামলা টামলার নামই হলো রাজনীতি। করুক দেহি।

মজুমদার: হে, হে, হে।
মইনুল: সবচেয়ে বড় কথাটা হচ্ছে এই মেয়েটার পক্ষে ফাইভ পারসেন্ট লোক। নাইনটি ফাইভ পারসেন্ট আমার লোক, আমার পক্ষে। আমার লোক। প্রথম আলো একটা সার্ভে উঠাইছে, সেখানে নাইটটি ফাইভ পার্সেন্ট অ্যাপ্রোচড মি। আর ফাইভ পারসেন্ট তার পক্ষে। একটা মেয়ে লোক যে এত বাজে হইতে পারে আমি জানতাম না।
মজুমদার: হে হে হে।

মইনুল: আচ্ছা ঠিক আছে, আইসেন এক সময় চেম্বারে থাকলে আরকি।
মজুমদার: জ্বি আসব। স্যার, আরেকটা বিষয়, আপনি বুলে, লন্ডন যাচ্ছেন বলে?
মইনুল: (প্রশ্নটি বুঝতে না পেরে মইনুল আবারও মাসুদা ভাট্টির বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন) আমি জানতান নাকি, এখন শুনতেছি। ঘটনাটা আমি খারাপ বলছি। রাগ হয়েও বলছি যদিও। একটা মেয়েকে এটা বলা ঠিক না। সে জন্য তাকে ফোন করে বলছি, দুঃখ প্রকাশ করেছি, এমনকি ক্ষমাও চেয়েছি।

‘একটা মেয়ের ব্যাপারে আমার.. ফলে অসুবিধা নাই। ফলে আমি মাফও চাইছি। এর পরেও সে, তার তো এই কাজ। এটা তো আমি তো জানতাম না।’

‘একটা ভদ্রমহিলাকে যদি বলি, আপনি আমাকে প্রভোক করেছেন, আমি তাতে রাগ হয়ে গেছি, রাগ হয়ে একটা স্লিপ হয়ে গেছে আমার। তারপরে আমি প্রেসে স্টেটমেন্ট দিয়ে বলছি। তারপরেও সে এটা করেছে।’

‘এখন দেখেন নাইনটিফাইভ পার্সেন্ট লোকের কাছে সে বাজে বলে পরিচিত।’
মজুমদার: স্যার, আরেকটা বিষয়, এটা একটা রিউমার উঠছে, আপনি লন্ডন যাচ্ছেন আপনি ও কামাল হোসেন সাহেব লন্ডন ডাচ্ছেন তারেকের সঙ্গে মিটিংয়ের জন্য?

মইনুল: আমাদের মিটিং হবে, তারেকের সাথে আমরা মিটিংয়ে যাব আমরা? এটা কোথাকার কোন ছাগল? জিজ্ঞেস করো।
‘গোট না কাউ না মুরগি।’

‘ড. কামাল তারেকের সাথে দেখা করবে? আমরা তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করার জন্যই তো ড. কামালকে আনছি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নতুন পোশাকে যাত্রা শুরু পিআইএর কেবিন ক্রুদের

তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করতে ঐক্যফ্রন্টে ড. কামাল: মইনুল

আপডেট সময় ০১:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব ধ্বংস করতেই ড. কামাল হোসেনকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আনা হয়েছে। ফ্রন্টে যোগ দেয়া সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন একজন সাংবাদিককে এই তথ্য দিয়েছেন।

দুই জনের মধ্যে টেলিফোনালাপ ফেসবুকে ফাঁস হয়েছে। সেখানেই এই তথ্য রয়েছে। রাব মজুমদার নামে দ্য সিকিউরিটি ওয়ার্ল্ড নামে একটি পত্রিকার সাংবাদিকের সঙ্গে এই কথোপকথনটি ছিল।

দুই মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের এই কথোপকথনে মইনুল হোসেন ঐক্যফ্রন্ট গঠন, নারী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ঘিরে বিতর্কসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। আর শেষ পর্যায়ে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে মইনুল হোসেন লন্ডন যাচ্ছেন বলে গুজবের বিষয়ে জানতে চান ওই সাংবাদিক। এর জবাবেই মইনুল হোসেন তারেক রহমানের নেতৃত্ব ধ্বংস করতে ড. কামালকে ঐক্যে আনার কথা বলেন।

গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, বিএনপি, নাগরিক ঐক্য এবং জেএসডি মিলে গঠন হয় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এই ঐক্য গড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলা যাবে বলে আশার কথা বলছেন বিএনপি নেতারা।

ঐক্যে সবচেয়ে বড় দল হলেও বিএনপি নেতারা কথা বলছেন কম। ড. কামালই প্রধান নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। আর বেশি কথা বলছেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও আ স ম আবদুর রব।

এর মধ্যে ২৪ অক্টোবর সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সমাবেশও ডাকা হয়েছে। সেখানে বিএনপির পাশাপাশি অন্য দলগুলোর নেতারাও যোগ দেবেন।

এই ঐক্য গড়ার পর ড. কামাল হোসেন প্রশ্নের মুখে পড়েন একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে নিয়ে ঐক্য করার বিষয়টি নিয়ে। তবে ড. কামাল আজকের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি জামায়াত বা তারেক রহমানের সঙ্গে ঐক্য করেননি, বিএনপির সঙ্গে করেছেন।

এর মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে মইনুল হোসেনের এই টেলিফোনালাপ। বেসরকারি টেলিভিশন সময় টিভিতে বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে এই টেলিফোন সংলাপ শোনানোও হয়। তিনি স্পষ্টত বিব্রত হন, তবে এর ভিত্তিতে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঢাকাটাইমসের পক্ষ থেকে ড. কামালের দল গণফোরামের মহাসচিব মোস্তফা মহসিন মণ্টু এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দুই জনই বিষয়টি অস্বীকার করেন। দুই জনই বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টা জানি না।’
মইনুলের কথোপকথনের পুরোটা
ফোন ধরে মইনুল হোসেন বলেন, ‘কী বলেন মজুমদার সাহেব’।
মজুমদার: স্লামালাইকুম স্যার।
মইনুল: জ্বি বলেন।
মজুমদার: কেমন আছেন আপনি।
মইনুল: ‘আছি, জেলের ভাত কয়েকদিন খেতে হবে আমাকে। সে জন্য রেডি হইতেছি। ’
মজুমদার: আচ্ছা আচ্ছা।

মইনুল: আজকে তো বেইল নিয়ে আসছি। কেস করছে দুইটা। …মামলা টামলা দিয়েই তো, এদের কাছে মামলা টামলার নামই হলো রাজনীতি। করুক দেহি।

মজুমদার: হে, হে, হে।
মইনুল: সবচেয়ে বড় কথাটা হচ্ছে এই মেয়েটার পক্ষে ফাইভ পারসেন্ট লোক। নাইনটি ফাইভ পারসেন্ট আমার লোক, আমার পক্ষে। আমার লোক। প্রথম আলো একটা সার্ভে উঠাইছে, সেখানে নাইটটি ফাইভ পার্সেন্ট অ্যাপ্রোচড মি। আর ফাইভ পারসেন্ট তার পক্ষে। একটা মেয়ে লোক যে এত বাজে হইতে পারে আমি জানতাম না।
মজুমদার: হে হে হে।

মইনুল: আচ্ছা ঠিক আছে, আইসেন এক সময় চেম্বারে থাকলে আরকি।
মজুমদার: জ্বি আসব। স্যার, আরেকটা বিষয়, আপনি বুলে, লন্ডন যাচ্ছেন বলে?
মইনুল: (প্রশ্নটি বুঝতে না পেরে মইনুল আবারও মাসুদা ভাট্টির বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন) আমি জানতান নাকি, এখন শুনতেছি। ঘটনাটা আমি খারাপ বলছি। রাগ হয়েও বলছি যদিও। একটা মেয়েকে এটা বলা ঠিক না। সে জন্য তাকে ফোন করে বলছি, দুঃখ প্রকাশ করেছি, এমনকি ক্ষমাও চেয়েছি।

‘একটা মেয়ের ব্যাপারে আমার.. ফলে অসুবিধা নাই। ফলে আমি মাফও চাইছি। এর পরেও সে, তার তো এই কাজ। এটা তো আমি তো জানতাম না।’

‘একটা ভদ্রমহিলাকে যদি বলি, আপনি আমাকে প্রভোক করেছেন, আমি তাতে রাগ হয়ে গেছি, রাগ হয়ে একটা স্লিপ হয়ে গেছে আমার। তারপরে আমি প্রেসে স্টেটমেন্ট দিয়ে বলছি। তারপরেও সে এটা করেছে।’

‘এখন দেখেন নাইনটিফাইভ পার্সেন্ট লোকের কাছে সে বাজে বলে পরিচিত।’
মজুমদার: স্যার, আরেকটা বিষয়, এটা একটা রিউমার উঠছে, আপনি লন্ডন যাচ্ছেন আপনি ও কামাল হোসেন সাহেব লন্ডন ডাচ্ছেন তারেকের সঙ্গে মিটিংয়ের জন্য?

মইনুল: আমাদের মিটিং হবে, তারেকের সাথে আমরা মিটিংয়ে যাব আমরা? এটা কোথাকার কোন ছাগল? জিজ্ঞেস করো।
‘গোট না কাউ না মুরগি।’

‘ড. কামাল তারেকের সাথে দেখা করবে? আমরা তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করার জন্যই তো ড. কামালকে আনছি।’