আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
লা লিগায় চার ম্যাচ পর জয় পেল বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে সেভিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে কাতালানরা। তারপরও হাসি নেই বার্সা সমর্থকদের মুখে। জয়টা যে অনেক চড়া দামে কিনতে হয়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের।
শনিবার রাতে ন্যুক্যাম্পে ম্যাচের প্রথমার্ধেই পড়ে গিয়ে ডান-হাতে মারাত্মক চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় লিওলেন মেসিকে। ব্যথায় কাতর মেসিকে হাতে ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে মাঠ ছাড়তে দেখেই বুক কেঁপে ওঠে সমর্থকদের।
ম্যাচ শেষে জয়ের আনন্দ ফিকে করে আসে আরও বড় দুঃসংবাদ। আততায়ী চোটে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন জাদুকর। স্ক্যান রিপোর্টে মেসির ডান-হাতের কব্জির ওপরের হাড়ে চিড় ধরা পড়েছে।
বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে জানায়, হাড়ে চিড় ধরায় অন্তত তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। মৌসুমের মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের সেরা খেলোয়াড়কে হারিয়ে ফেলল বার্সেলোনা।
আগামী রোববার ন্যুক্যাম্পে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় অধিনায়ককে পাচ্ছে না তারা। নাটকীয়ভাবে দ্রুত সেরে না উঠলে মেসিকে ছাড়া অন্তত ছয়টি ম্যাচ খেলতে হবে বার্সাকে। এর মধ্যে এল ক্লাসিকো ছাড়াও বুধবার ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে।
৬ নভেম্বর ইন্টারের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচেও হয়তো মেসিকে পাওয়া যাবে না। তবে মেসির অভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে ২৮ অক্টোবর রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সার চিরকালীন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে।
প্রায় ১১ বছর পর মেসি-রোনাল্ডোবিহীন এল ক্লাসিকো দেখতে যাচ্ছে ফুটবলবিশ্ব! দীঘদিন ধরে এল ক্লাসিকো মানেই ছিল মেসি-রোনাল্ডোর অঘোষিত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।
গত জুলাইয়ে রিয়াল ছেড়ে রোনাল্ডো জুভেন্টাসে চলে যাওয়ায় পর্তুগিজ মহাতারকাকে ছাড়া এল ক্লাসিকো দেখার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন ফুটবল রোমান্টিকরা।
তখন কে জানত, মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় থাকবেন না মেসিও! সময়ের দুই সেরা ফুটবলারকে ছাড়া ২০০৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল-বার্সা। চোটের কারণে সেই ম্যাচটা খেলতে পারেননি মেসি। আর রোনাল্ডো তখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলতেন।
দলে আরও অনেক তারকা থাকলেও মেসিকে হারিয়ে কিছুটা মুষড়েই পড়েছেন বার্সেলোনা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে, ‘নিঃসন্দেহে এটা অনেক বড় ধাক্কা। আমরা সবাই জানি মেসি আমাদের কী দিতে পারে।
প্রতিপক্ষের জন্য সে কত বড় হুমকি। এখন আমাদের নতুন বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। অবশ্যই আমরা মেসির অভাব অনুভব করব। কিন্তু ধাক্কা সামলে নেয়ার মতো খেলোয়াড় আছে আমাদের।’ মেসি বার্সার জন্য কী, সেটা গত পরশু রাতেও বোঝা গেছে। চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ার আগেই গোল করে এবং করিয়ে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বার্সা অধিনায়ক। দুই মিনিটেই মেসির পাস থেকে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন ফিলিপে কুতিহো।
১২ মিনিটে মেসি নিজেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এর মিনিটতিনেক পর সেভিয়ার ভাজকেজের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়ে চোট পান মেসি।
সাইডলাইনে অনেকটা সময় প্রাথমিক চিকিৎসার পরও ব্যথা না কমায় ২৬ মিনিটে মেসির বদলি হিসেবে নামানো হয় উসমান ডেম্বেলেকে। দলের প্রাণভোমরাকে হারিয়ে বার্সেলোনার খেলায় গতি কিছুটা কমে যায়।
এর মধ্যে ৬৩ মিনিটে নিজের আদায় করা পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন লুইস সুয়ারেজ। ৭৯ মিনিটে সারাবিয়া একটি গোল ফিরিয়ে দিলেও ৮৮ মিনিটে রাকিতিচের গোলে নিশ্চিত হয় বার্সার জয়।
ইনজুরি টাইমে মুরিয়েলের গোলে আরেক দফা ব্যবধানই শুধু কমাতে পারে সেভিয়া। এই জয়ে আলাভেসকে টপকে ফের শীর্ষে উঠে এসেছে বার্সা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























