অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ছে রকেটের গতিতে। ফলে প্রতি বছরই রফতানি ও আমদানি পরস্পর রেকর্ড ভেঙে চলেছে।
ভৌগোলিক দূরত্ব, সরাসরি যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা, শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং ব্যাংকিং সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও ক্রমাগত বাণিজ্য বৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে রাশিয়া বাংলাদেশের কাছে সম্ভাবনার বাজার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ফলে সরকার এবং প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনগুলো এ বাণিজ্যকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এখন এসব সমস্যা সমাধানেই বেশি জোর দিচ্ছে। আশার কথা হচ্ছে, এ বিষয়ে রাশিয়া সরকারেরও ইতিবাচক মানোভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
রাশিয়াও চায় বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে।
এরই প্রতিফলন ঘটেছে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত ২৬ বছরে দেশটিতে রফতানি বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২০ গুণ। একইভাবে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৩ গুণ।
এর মধ্যে বর্তমান সরকারের গত ১০ বছরেই রফতানির পরিমাণ সোয়া ১১ গুণ এবং আমদানি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রতি বছর পারস্পরিক চাহিদা বাড়ার এ প্রবণতা দেখে বিস্মিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাশিয়াকেই সবচেয়ে সম্ভাবনার দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তিনি বলেন, এ বাজারটিকে ভালোভাবে পরিচর্যা করা এবং আলোচনার মাধ্যমে বণিজ্য সুবিধাগুলো আমাদের পক্ষে আনা গেলে বাংলাদেশই বেশি লাভবান হবে।
এদিকে রফতানি ক্রমাগত বাড়লেও সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাণিজ্য ঘাটতিও বড় হচ্ছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ২৪ বছরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ঘাটতি বেড়েছে প্রায় সাতগুণ।
তবে গত ১০ বছরে এ ঘাটতি কমেছে একগুণ। তবে দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর দাবি, এ বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের প্রয়োজনেই বড় হচ্ছে। কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টির (সিআইএস-বিসিসিআই) সভাপতি মো. হাবীব উল্লাহ ডন এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসার উন্নয়নে সহজতর ব্যাংকিং লেনদেনের জটিলতা নিরসন খুবই জরুরি। এর পাশাপাশি শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে দুই দেশের আমদানি ও রফতানি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রমতে, রাশিয়া-বাংলাদেশ ব্যাংকিং সমস্যা সমাধানে অনেক আগেই একটি কোর গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কিভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায়, তার একটা সুরাহা বের করা যাবে বলে আশা করা যায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























