ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

ঐক্য হলো, এরপর কী?

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বহুল আলোচিত ঐক্য হলো, কিন্তু কীভাবে তারা আগাবে, সেটি নির্ধারিত হয়নি এখনও। ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে গঠিত এই ঐক্যের নেতারা বলছেন, বৈঠক করেই ঠিক হবে কর্মপন্থা আর গন্তব্য।

দীর্ঘ আলোচনার পরে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের ঐক্যের ঘোষণা আসে ১৩ অক্টোবর। ঘোষিত হয়েছে সাত দফা দাবি আর ১১ লক্ষ্য।

দাবির হিসেবে যেগুলো উঠে এসেছে, সেগুলো নতুন নয়। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, ভোটের ১০ দিন আগে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের বিএনপি আগে থেকেই তুলছে সেগুলো। কিন্তু পাত্তা দিচ্ছে না সরকার। আর বিএনপিও কার্যত কোনো চাপ প্রয়োগ করতে পারছে না।

এই অবস্থায় কামাল হোসেনের গণফোরাম, জেএসডি আর নাগরিক ঐক্যের মতো দৃশ্যত দুর্বল রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তারা সরকারকে বাধ্য করতে কী এমন শক্তি অর্জন করেছে-এ নিয়ে আলোচনা চলছে তিন দিন ধরেই।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও যুক্তফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। মঙ্গলবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক আছে, এই বৈঠকের পরে বলতে পারা যাবে।’

কেবল কর্মপন্থা নয়, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জামায়াত বা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ স্বাধীনতাবিরোধী অন্য দলগুলোর সম্পর্ক কী হবে, সে প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু ঐক্যের নেতারা কিছু বলছেন না।

বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে ঐক্য হবে না- গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশ্যে এমন ঘোষণা দেয়া ড. কামাল হোসেন তার কথা ভঙ্গ করেছেন। বিএনপি এবং জামায়াতের বাঁধন আলগা হয়নি এতটুকু। এর মধ্যেও বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়ায় এক যুক্তি তারা দেখাচ্ছে এভাবে: ঐক্য হয়েছে বিএনপির সঙ্গে, জামায়াতের সঙ্গে নয়।

এর মধ্যে ২০ দলের শরিকদেরকে নিয়েও আলাদা বৈঠকে হয়েছে বিএনপির। সেখানেও স্পষ্ট হয়নি সামনে কী হবে। ঐক্যের কর্মসূচিতে বিএনপির শরিকরা কী ভূমিকা রাখবেন জানা যায়নি। জামায়াত, মুসলিম লীগের মতো স্বাধীনতাবিরোধীরা যুগপদভাবেই পালন করবেন কি না, সেটিও ভবিষ্যতের জন্যই রেখে দিয়েছে বিএনপি।

মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘(আজ) আ স ম রবের উত্তরার বাসায় ঐক্যফ্রন্টের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক আছে। এ বৈঠকটি শুরু হবে দুপুর ১২টায়। সেখানেই সব ঠিকঠাক হবে।’

একই প্রশ্ন ছিল ড. কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের কাছে। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের ঐক্য হয়েছে, এখন আমাদের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হবে। এরপরে বলা যাবে পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে। এই মুহূর্তে আমি এর বেশি কিছুই বলতে পারব না। এর বেশি আর কিছুই আমি জানি না।’

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জানান, তারা জোটে নতুন দলকে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। জামায়াতে ইসলামী বাদে ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিক দলগুলোকে দ্রুতই এ জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারের বাইরের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে আনতে শেষ চেষ্টা চালানো হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা ঢাকাটাইমসকে জানান, তারা আশা করছেন বিকল্পধারার নেতা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী শেষ পর্যন্ত তাদের জোটে আসবেন।

ওই নেতা জানান, জোট সম্প্রসারণের এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠক, চলতি মাসে ঢাকার বাইরে সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম শহরে জনসভা করবে। এর বাইরে বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২

ঐক্য হলো, এরপর কী?

আপডেট সময় ০১:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বহুল আলোচিত ঐক্য হলো, কিন্তু কীভাবে তারা আগাবে, সেটি নির্ধারিত হয়নি এখনও। ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে গঠিত এই ঐক্যের নেতারা বলছেন, বৈঠক করেই ঠিক হবে কর্মপন্থা আর গন্তব্য।

দীর্ঘ আলোচনার পরে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের ঐক্যের ঘোষণা আসে ১৩ অক্টোবর। ঘোষিত হয়েছে সাত দফা দাবি আর ১১ লক্ষ্য।

দাবির হিসেবে যেগুলো উঠে এসেছে, সেগুলো নতুন নয়। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, ভোটের ১০ দিন আগে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের বিএনপি আগে থেকেই তুলছে সেগুলো। কিন্তু পাত্তা দিচ্ছে না সরকার। আর বিএনপিও কার্যত কোনো চাপ প্রয়োগ করতে পারছে না।

এই অবস্থায় কামাল হোসেনের গণফোরাম, জেএসডি আর নাগরিক ঐক্যের মতো দৃশ্যত দুর্বল রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তারা সরকারকে বাধ্য করতে কী এমন শক্তি অর্জন করেছে-এ নিয়ে আলোচনা চলছে তিন দিন ধরেই।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও যুক্তফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। মঙ্গলবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক আছে, এই বৈঠকের পরে বলতে পারা যাবে।’

কেবল কর্মপন্থা নয়, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জামায়াত বা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ স্বাধীনতাবিরোধী অন্য দলগুলোর সম্পর্ক কী হবে, সে প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু ঐক্যের নেতারা কিছু বলছেন না।

বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে ঐক্য হবে না- গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশ্যে এমন ঘোষণা দেয়া ড. কামাল হোসেন তার কথা ভঙ্গ করেছেন। বিএনপি এবং জামায়াতের বাঁধন আলগা হয়নি এতটুকু। এর মধ্যেও বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়ায় এক যুক্তি তারা দেখাচ্ছে এভাবে: ঐক্য হয়েছে বিএনপির সঙ্গে, জামায়াতের সঙ্গে নয়।

এর মধ্যে ২০ দলের শরিকদেরকে নিয়েও আলাদা বৈঠকে হয়েছে বিএনপির। সেখানেও স্পষ্ট হয়নি সামনে কী হবে। ঐক্যের কর্মসূচিতে বিএনপির শরিকরা কী ভূমিকা রাখবেন জানা যায়নি। জামায়াত, মুসলিম লীগের মতো স্বাধীনতাবিরোধীরা যুগপদভাবেই পালন করবেন কি না, সেটিও ভবিষ্যতের জন্যই রেখে দিয়েছে বিএনপি।

মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘(আজ) আ স ম রবের উত্তরার বাসায় ঐক্যফ্রন্টের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক আছে। এ বৈঠকটি শুরু হবে দুপুর ১২টায়। সেখানেই সব ঠিকঠাক হবে।’

একই প্রশ্ন ছিল ড. কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের কাছে। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের ঐক্য হয়েছে, এখন আমাদের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হবে। এরপরে বলা যাবে পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে। এই মুহূর্তে আমি এর বেশি কিছুই বলতে পারব না। এর বেশি আর কিছুই আমি জানি না।’

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জানান, তারা জোটে নতুন দলকে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। জামায়াতে ইসলামী বাদে ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিক দলগুলোকে দ্রুতই এ জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারের বাইরের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে আনতে শেষ চেষ্টা চালানো হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা ঢাকাটাইমসকে জানান, তারা আশা করছেন বিকল্পধারার নেতা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী শেষ পর্যন্ত তাদের জোটে আসবেন।

ওই নেতা জানান, জোট সম্প্রসারণের এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠক, চলতি মাসে ঢাকার বাইরে সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম শহরে জনসভা করবে। এর বাইরে বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।