অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দেশে এখন সারা বছর প্রচুর পরিমাণে টমেটো পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ৫০টির বেশি জাতের টমেটো চাষ হচ্ছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ হাজার একর জমিতে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার লাখ টন টমেটো উৎপাদন হয়। তবুও ভরা মৌসুমে টমেটোর দাম কমছে না। বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটা সময় টমেটোর জন্য শীত মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। তখন শীতের প্রথম দিকে দাম বেশি থাকত। পরে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ দাম ক্রেতার হাতের নাগালে আসত। কিন্তু বর্তমানে অনেক নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে।
সঙ্গে হচ্ছে হাইব্রিড জাতের টমেটোর চাষ। এতে চাহিদার তুলনায় বেশি পাওয়া যাচ্ছে টমেটো। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেই আগের মতো করেই টমেটো বিক্রি করছেন। মৌসুমের আগে ও পরে বেশি দামে বিক্রি করে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন।
জানা গেছে, শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই সবজি ফসলের মধ্যে আলু ও মিষ্টি আলুর পরই সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় টমেটো। কেননা টমেটো একটি অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। কাঁচা ও পাকা উভয় টমেটোই দেহের জন্য উপকারী।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বেশকিছু আধুনিক হাইব্রিড উচ্চফলনশীল জাতের টমেটোর জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যেগুলো থেকে মৌসুম ছাড়াও ভালো ফলন হচ্ছে। এছাড়া কিছু হাইব্রিড জাত বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে এখন পঞ্চাশের ওপরে টমেটোর জাত চাষ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুম ছাড়া ভালো ফলন হওয়ায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষের প্রবণতা বেড়েছে।
তবে রাজধানীর বাজর দর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শুক্রবার লাল টমেটো প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগেও একই দামে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু দু’সপ্তাহ আগে এ সবজি রাজধানীর বাজারে বিক্রি হয় ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। এছাড়া গ্রীষ্ম মৌসুমেও বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকার ওপরে।
কারওয়ানবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা আসমা বেগম যুগান্তরকে বলেন, এখন সারা বছর টমেটোর চাষ করা হয়। বাজারেও পাওয়া যায় প্রচুর। কিন্তু দাম খুব বেশি। তবে শীতের সময় তুলনামূলক দাম কিছুটা কমলেও অন্য মৌসুমে চড়া দাম দিয়ে কিনতে হয়।
একই বাজারে সবজি বিক্রেতা সোনাই আলী বলেন, আগে টমেটো শুধু শীতের সময় পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে এ সবজি বছরের সবসময় পাওয়া যায়। শীতে দাম কিছুটা কম থাকলেও অন্যান্য সময় খুব চড়া দামে বিক্রি করতে হয়।
কারণ পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দামে আনতে হয়। এর জন্য খুচরা বাজারেও এ সবজির দাম বেশি থাকে। বারি ও বিনা সূত্রে জানা গেছে, দেশে আগাম জাতের মধ্যে যে চমেটো চাষ করা হয় তা শীতকালেই উৎপাদন হয়। তবে আগাম ভাবে ফলে।
এ আগাম জাতগুলোর বীজ বপন করা হয় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। আর এ জাতগুলো হচ্ছে- বারি টমেটো ৪, বারি টমেটো ৫, রোমা ভিএফ, রোমারিও, টিপু সুলতান, গ্রেট পেলে, ডেল্টা এফ ১, উন্নয়ন এফ ১, পুষারুবী, নিউ রূপালী এফ ১ ইত্যাদি।
এছাড়া ভরা মৌসুমে শীতকালে স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে যেসব জাতের গাছে ফল ধরে তা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বীজ বুনে অক্টোবর-নভেম্বরে এসব জাতের টমেটোর চারা রোপণ করা হয়। অধিকাংশ জাতই শীতকালে ফলে। এসব জাতের মধ্য আছে- মানিক, রতন, বারি টমেটো ৩, বারি টমেটো ৬, বারি টমেটো ৭, বারি টমেটো ৯, বাহার, মহুয়া ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে নাবি শীত মৌসুমী জাত।
এ জাতের বীজ বুনতে হয় জানুয়ারিতে। ফল পাওয়া যায় মার্চ-এপ্রিলে। বাহার, রোমা ভিএফ, রাজা, সুরক্ষা ইত্যাদি জাত নাবি জাতের টমেটো চাষ করা হয়। তবে সারা বছর চাষের উপযোগী জাতের টমেটো বছরের যে কোনো সময় বীজ বুনন করা যায়। আর এর জাত হচ্ছে বারি টমেটো ৬ (চৈতী)।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























