ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

‘প্রধানমন্ত্রী না হলে বিচার পেতে লাগত ৪০ বছর’

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে গত বুধবার। ২০০৪ সালের এই ঘটনায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৪ বছর পর ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা হয়। চূড়ান্ত বিচার পেতে বাকি আছে আরও কয়েকটি প্রক্রিয়া। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে এই মামলার বিচারকাজ শেষ হতে ৪০ বছর লাগত বলে মনে করেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। যেকোনো মূল্যে বিচার বিভাগের এই ধীরগতি থেকে জাতিকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ‘আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক ছিলেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।

মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘২১ আগস্টের ঘটনা স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সর্ববৃহৎ ঘটনা। হত্যাকাণ্ডের চেয়ে সবচেয়ে যে ঘটনাটি আমার কাছে দুর্বিসহ ও অসহ্য লেগেছে- এটাকে টুয়িস্ট করার চেষ্টা। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে একজন বিরোধী দলীয় নেত্রীর উপরে আক্রমণ হলো জীবনের উপরে, অসংখ্য লোক মারা গেল, বিপন্ন হলো, সেই বিচার করতে ১৪ বছর সময় লেগেছে।’

‘উনি প্রধানমন্ত্রী হলেন। একটানা ১০ বছর দায়িত্ব পালন করছেন। এরপরেও ১৪ বছর লেগেছে। উনি না থাকলে তো ৪০ বছরে চলে যেত। আমরা দেখেছিও তাই। এই জায়গা থেকে সব দলের জন্য প্রতিটি মানুষের জন্য, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য আমি বলবো বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার।’

রাজনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের সুস্থতা এবং শক্তি তখনই প্রমাণিত হবে দুঃসময়ে তারা কত সংগঠিতভাবে কাজ করতে পারে সেটার ওপর। লাগামহীনভাবে চিৎকার করা, আগুন লাগানো ইত্যাদি ইত্যাদি না।’

‘সংহত হওয়ার উপযুক্ত সময় কিন্তু দুর্যোগ। দুর্যোগের সময় কিন্তু মানুষ সবচেয়ে বেশি সংহত হয়। ফ্লাড হলে পরে কিন্তু এলাকাবাসী লোকজন, ভূমিকম্প হলে পরে শত্রু মিত্র সব কিন্তু একতাবদ্ধ হয়। আমি ঠিক ওই লাইনেই কথাটা বলতে চাচ্ছি।’

মোবাশ্বের বলেন, ‘আমি সবসময়ই বলতে চাচ্ছি বাংলাদেশে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল দরকার। ভেতরের ঘটনা আমি বলতে চাই না। তবে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে আমি চাইবো এই ঘটনা থেকে তারা শিক্ষা নেবে। একটা জিনিস সব সময়ই প্রমাণিত হয়, ইতিহাস প্রমাণ করে- অন্যায়, অবিচার, ভুল সিদ্ধান্তের ফল কখনো না কখনো সেই দল, মানুষ বা তার পরিবারকে ভোগ করতে হয়। তা আনপানিসড যায় না।’

‘যখন আমরা বিচারালয় নিয়ে কথা বলি তখন শুনি বিচারক নাই। বিচারক নাই কেন? ১৬ কোটি মানুষের দেশে বিচারক নাই কেন? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু সবকিছুর সঙ্গে আসতে হবে। কেন নাই। সেই কেনোর উত্তর আমি চাই।’

‘আমি এক সময় আক্ষেপ করে বলেছিলাম, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর জীবনের ওপর আক্রমণের বিচার পেতে ১৪ বছর সময় লাগে! আমার পরিবারের জীবনের ওপর এই ধরনের আক্রমণ হলে আমি তো জায়গা জমি বিক্রি করে দিয়ে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে বিচার শেষ করবো। আমার অভিব্যক্তিটা আমি এইভাবে বলতে চাচ্ছি।’

এই বিশ্লেষক বলেন, ‘এবং ঘটনা কিন্তু তাই ঘটছে। আমার এটা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হলেও বাস্তবতায় কিন্তু তাই ঘটছে। সুদূরপ্রসারী একটা বিচার কার্যক্রমের কারণে মানুষ অন্যয়ের প্রতিবাদ এবং বিচার মানুষ নিজ হাতে তুলে নিচ্ছে। আমি মনে করি বাংলাদেশের স্বাধীনতার এত বছর পর এই একটি ইস্যুতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি নিয়ে সমাধান করা উচিত।’

‘এটির সমাধান হচ্ছে- আইনের সহজগম্যতা, আইনের সহজ ব্যাখ্যা এবং দ্রুতবিচারের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে যত বিচারক দরকার সেটি আগামী দুই/তিন বছরের মধ্যে নিয়োগ দেয়া।’

বিশিষ্ট এই স্থপতি বলেন, ‘আমরা ব্রিজ বানাচ্ছি, ফ্লাইওভার বানাচ্ছি এরচেয়ে আমি মনে করি বিচারব্যবস্থার সুস্থতা এবং দ্রুতবিচারের ব্যবস্থা করলে একটি দেশের উন্নয়ন প্রচণ্ড গতিতে করা সম্ভব। এতে অবক্ষয় হয় কম, ক্ষতিগ্রস্ত হয় কম। জাতি হয় অনেক বেশি উন্নত।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাজ্যে মানব পাচারকারী চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড

‘প্রধানমন্ত্রী না হলে বিচার পেতে লাগত ৪০ বছর’

আপডেট সময় ০১:১৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে গত বুধবার। ২০০৪ সালের এই ঘটনায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৪ বছর পর ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা হয়। চূড়ান্ত বিচার পেতে বাকি আছে আরও কয়েকটি প্রক্রিয়া। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে এই মামলার বিচারকাজ শেষ হতে ৪০ বছর লাগত বলে মনে করেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। যেকোনো মূল্যে বিচার বিভাগের এই ধীরগতি থেকে জাতিকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ‘আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক ছিলেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।

মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘২১ আগস্টের ঘটনা স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সর্ববৃহৎ ঘটনা। হত্যাকাণ্ডের চেয়ে সবচেয়ে যে ঘটনাটি আমার কাছে দুর্বিসহ ও অসহ্য লেগেছে- এটাকে টুয়িস্ট করার চেষ্টা। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে একজন বিরোধী দলীয় নেত্রীর উপরে আক্রমণ হলো জীবনের উপরে, অসংখ্য লোক মারা গেল, বিপন্ন হলো, সেই বিচার করতে ১৪ বছর সময় লেগেছে।’

‘উনি প্রধানমন্ত্রী হলেন। একটানা ১০ বছর দায়িত্ব পালন করছেন। এরপরেও ১৪ বছর লেগেছে। উনি না থাকলে তো ৪০ বছরে চলে যেত। আমরা দেখেছিও তাই। এই জায়গা থেকে সব দলের জন্য প্রতিটি মানুষের জন্য, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য আমি বলবো বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার।’

রাজনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের সুস্থতা এবং শক্তি তখনই প্রমাণিত হবে দুঃসময়ে তারা কত সংগঠিতভাবে কাজ করতে পারে সেটার ওপর। লাগামহীনভাবে চিৎকার করা, আগুন লাগানো ইত্যাদি ইত্যাদি না।’

‘সংহত হওয়ার উপযুক্ত সময় কিন্তু দুর্যোগ। দুর্যোগের সময় কিন্তু মানুষ সবচেয়ে বেশি সংহত হয়। ফ্লাড হলে পরে কিন্তু এলাকাবাসী লোকজন, ভূমিকম্প হলে পরে শত্রু মিত্র সব কিন্তু একতাবদ্ধ হয়। আমি ঠিক ওই লাইনেই কথাটা বলতে চাচ্ছি।’

মোবাশ্বের বলেন, ‘আমি সবসময়ই বলতে চাচ্ছি বাংলাদেশে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল দরকার। ভেতরের ঘটনা আমি বলতে চাই না। তবে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে আমি চাইবো এই ঘটনা থেকে তারা শিক্ষা নেবে। একটা জিনিস সব সময়ই প্রমাণিত হয়, ইতিহাস প্রমাণ করে- অন্যায়, অবিচার, ভুল সিদ্ধান্তের ফল কখনো না কখনো সেই দল, মানুষ বা তার পরিবারকে ভোগ করতে হয়। তা আনপানিসড যায় না।’

‘যখন আমরা বিচারালয় নিয়ে কথা বলি তখন শুনি বিচারক নাই। বিচারক নাই কেন? ১৬ কোটি মানুষের দেশে বিচারক নাই কেন? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু সবকিছুর সঙ্গে আসতে হবে। কেন নাই। সেই কেনোর উত্তর আমি চাই।’

‘আমি এক সময় আক্ষেপ করে বলেছিলাম, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর জীবনের ওপর আক্রমণের বিচার পেতে ১৪ বছর সময় লাগে! আমার পরিবারের জীবনের ওপর এই ধরনের আক্রমণ হলে আমি তো জায়গা জমি বিক্রি করে দিয়ে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে বিচার শেষ করবো। আমার অভিব্যক্তিটা আমি এইভাবে বলতে চাচ্ছি।’

এই বিশ্লেষক বলেন, ‘এবং ঘটনা কিন্তু তাই ঘটছে। আমার এটা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হলেও বাস্তবতায় কিন্তু তাই ঘটছে। সুদূরপ্রসারী একটা বিচার কার্যক্রমের কারণে মানুষ অন্যয়ের প্রতিবাদ এবং বিচার মানুষ নিজ হাতে তুলে নিচ্ছে। আমি মনে করি বাংলাদেশের স্বাধীনতার এত বছর পর এই একটি ইস্যুতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি নিয়ে সমাধান করা উচিত।’

‘এটির সমাধান হচ্ছে- আইনের সহজগম্যতা, আইনের সহজ ব্যাখ্যা এবং দ্রুতবিচারের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে যত বিচারক দরকার সেটি আগামী দুই/তিন বছরের মধ্যে নিয়োগ দেয়া।’

বিশিষ্ট এই স্থপতি বলেন, ‘আমরা ব্রিজ বানাচ্ছি, ফ্লাইওভার বানাচ্ছি এরচেয়ে আমি মনে করি বিচারব্যবস্থার সুস্থতা এবং দ্রুতবিচারের ব্যবস্থা করলে একটি দেশের উন্নয়ন প্রচণ্ড গতিতে করা সম্ভব। এতে অবক্ষয় হয় কম, ক্ষতিগ্রস্ত হয় কম। জাতি হয় অনেক বেশি উন্নত।’