অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়- রিপোর্টের তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।
এতে একদিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকের বাস্তব চিত্র লুকিয়ে রাখা হয়, অন্যদিকে এ সংক্রান্ত অনেক রিপোর্ট করতে গিয়ে ব্যাংকের খরচও বাড়ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার ‘কস্টস ফর কমপ্লায়েন্স উইথ রেগুলেশনস ইন ব্যাংকস’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরে ২৬৩টি রিপোর্ট দিতে হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো এ প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ব্যাংক তার সুবিধার্থে অসত্য তথ্য দেয়। এটি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে রিপোর্টের সংখ্যা কমিয়ে সমন্বয় সাধন করতে হবে।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ব্যাংকের কমপ্লায়েন্স পরিপালনের চাপ ও ব্যয় উভয়ই বাড়ছে। কারণ ব্যাংকিং খাতে এ সংক্রান্ত ১৫টি আইন বা অধ্যাদেশ, ৪৬টি গাইডলাইন, ১০টি রেগুলেশন ও ৪৭৮টি প্রজ্ঞাপন আছে।
সরকারি-বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা পরিপালনে বছরে গড়ে ২৬৩টি রিপোর্ট দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে এ খাতে খরচও বাড়াতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে।
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ গবেষণা সম্পন্ন করে। গবেষণা দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এবং বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য মো. আবদুল কাইউম, সহযোগী অধ্যাপক অতুল চন্দ্র পণ্ডিত এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের উপ-মহাব্যবস্থাপক রূপরতন পাইন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর ড. বরকত-এ-খোদা, বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি প্রমুখ।
ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতে কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। অনেকে কমপ্লায়েন্স নিয়ে বক্তব্য দেয়, যা সঠিক নয়। কমপ্লায়েন্স হল শতভাগ নিয়ম মেনে ব্যবসা করা।
অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, কমপ্লায়েন্সের খরচ না কমিয়ে যৌক্তিক করতে হবে। কিছু প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ যেগুলো আলাদা করে হিসাব-নিকাশ করলে কমপ্লায়েন্সের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। কমপ্লায়েন্সের কোনো বিকল্প নেই।
এটি ব্যাংকের কর্র্মীসহ সব পর্যায়ের অংশীজনের স্বার্থ রক্ষা করে। এ জন্য খরচ না কমিয়ে যৌক্তিকীকরণ করতে হবে।
অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, নন-কমপ্লায়েন্স থাকার সুযোগ নেই। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাত থেকে আটটি বিভাগ একই ধরনের তথ্য চায় এটি সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন, ব্যাংকগুলোর সুদ কমানোর কারণে কমপ্লায়েন্স মেইনটেইন করা কঠিন বলে অভিযোগ করেছে, যা সঠিক নয়। পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সুদ কমিয়ে ঋণ নিয়েছে।
আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে। সবার আগে জনগণের স্বার্থ তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন সঠিকভাবে পরিপালন করতে হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























