অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণের কথা বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতারণা করেছেন অভিযোগ করে এর জবাব চেয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণ জানানোর প্রতারণা কেন করেছেন সেই জবাব তাদের আগে দিতে হবে।’
সোমবার বিকালে ধানমন্ডীস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কাদের।
গত ১১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন বিএনপি মহাসচিব। তখন দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে এই সফর।
১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বৈঠকও করেন ফখরুল। তবে মহাসচিব গুতেরেসের সঙ্গে নয়, তিনি কথা বলেন জাতিসংঘের চতুর্থ সারির কর্মকর্তা রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে।
সংস্থাটির মহাসচিব দপ্তরের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন অফিসার জোয়স লুইস ডায়াজ নিশ্চিত করেছেন যে, গুতেরেস ফখরুলকে আমন্ত্রণ জানাননি। বরং মির্জা ফখরুলের অনুরোধে তার সঙ্গে বৈঠক করেছে জেনকা।
মির্জা ফখরুল দেশে ফিরেছেন ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে আর এই সফর নিয়ে তিনি এখনও কোনো বক্তব্য রাখেননি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে জাতিসংঘের মহাসচিব বিএনপির মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে তারা প্রচার করেছে। কিন্তু যখন ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউইয়র্কে গেলেন, তখন জাতিসংঘের মহাসচিব ঘানায় একটা প্রোগ্রামে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। যিনি দাওয়াত দিলেন তিনি ঘানা চলে গেলেন?’
‘আমরা যেটা শুনেছি, জাতিসংঘের সদরদপ্তরে গেট থেকে বার বার অনুরোধ করেছে তারা (বিএনপি)। তাদের বক্তব্য ছিল, যে পর্যায়ের হোক দেখা করিয়ে দিতে পরে একজন অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারিয়েট বিরক্ত হয়ে কিছুটা সময় দিয়েছে।’
‘আলোচনার পর জাতিসংঘ থেকে যে মন্তব্যটা এসেছে, তা হলো বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক এটা তারা চায়। এই কথা তো তারা বলেই আসছে, এই কথার জন্য তো ফখরুল ইসলামের নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল না, জাতিসংঘের সদর দপ্তরে যাওয়ার কথা ছিল না।’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের খবর নিয়েও কথা বলেন কাদের। এরপরও ফখরুল ট্রাম্প প্রশাসনের দেখা পাননি উল্লেখ করে এটা নিয়ে কটাক্ষও করেন।
কাদের বলেন, ‘মিথ্যাচার হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। মিথ্যাচার, প্রতারণায় তারা বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়েছে। এখন জাতিসংঘের মহাসচিবের নামেও তারা প্রতারণা করে, মিথ্যাচার করে। এদের হাতে গণতন্ত্র কি কখনও নিরাপদ?’
‘জোট গঠনের বিরুদ্ধে আ.লীগের বক্তব্য নাই’
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তফ্রন্ট ও ড. কামাল হোসেনের মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে কীভাবে দেখছেন-এমন প্রশ্নও রাখা হয় কাদেরের কাছে। বলেন, ‘নির্বাচন আসছে এখন বিভিন্ন মেরুকরণ হবে, শত ফুল ফুটবে। আমরা মনে করি, এটা গণতন্ত্রের বিউটি। এখন তারা ঠিক করবে তারা কাদের সঙ্গে জোট করবে, কার সঙ্গে করবেন না।’
‘কামাল সাহেব বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তারা নেই। কাদের সিদ্দিকীও বলেছেন একই কথা। এখন নির্বাচনী মেরুকরণে কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায় এটা এই মূহুর্তে বলা খুব মুশকিল। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন জোট গঠনের যে প্রক্রিয়া এটাকে আমরা স্বাগত জানাই। এর বিরুদ্ধে আমাদের কোন বক্তব্য নেই।’
কাদের বলেন, ‘বিএনপির যে ঐক্য, এটা জাতীয়তাবাদী, সাম্প্রদায়িক ঐক্য। যারা নিজেদের ঘরের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ নয় তারা দেশের মধ্যে কীভাবে ঐক্য গড়বেন, এটা একটা প্রশ্ন রয়ে যায়। তারা নিজেরা একে অন্যকে সরকারের দালাল বলে, নিজেদের অফিসে তাদের নিজেদের মধ্যে অনেক সময়ই ঝগড়া বিবাদে লেগে থাকে।’
জাতীয় ঐক্য নিয়ে এক প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচাইতে প্রাচীন দল, সবচাইতে জনপ্রিয় দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হবে কেমন করে?- সেটা হতে পারে তাদের নিজেদের তথাকথিত জাতীয়তাবাদী জাতীয় ঐক্য।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















