ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ কোনও ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : ইলিয়াসপত্নী লুনা অবশেষে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত ইসলামী নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব: চরমোনাই পীর পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের আমানত : রাশেদ খাঁন ফান্ড তৈরি করে বেকার শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করব: তাসনিম জারা উত্তরায় ফার্নিচার মার্কেটে আগুন নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

খালেদার চিকিৎসা নিয়ে নিম্নমানের রাজনীতি চলছে’

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা পেয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দলটির নেতারা নিম্নমানের রাজনীতি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া নিজেই চিকিৎসা চাচ্ছেন কি না সেটা আমি জানি না। তবে তার চিকিৎসা নিয়ে তার দলের খুবই নিম্নমানের রাজনীতি করছেন।’

রবিবার রাতে নাগরিক টিভিতে আয়োজিত ‘না বলা কথা’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শফিকুর।

প্রেসক্লাবের সভাপতি বলেন, ‘তার (খালেদার) দল থেকে বলা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ আবার বোর্ডে চিকিৎসকরা বলছেন ঝুঁকিপূর্ণ না। তাহলে আমরা কারটা বিশ্বাস করবো? দলের নেতাদের কথাগুলো না চিকিৎসকের কথা বিশ্বাস করবো? নিশ্চয়ই চিকিৎসকের কথা।’

নাজমুল আশরাফের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ড. মাহফুজ উল্লাহ। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে থাকেন দেশে এত ভালো ভালো হাসপাতাল আছে, চিকিৎসক আছে তা রেখে কেন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। তাহলে এ কথাগুলো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে, মরহুম সমাজকল্যাণমন্ত্রী, রেলমন্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হত। সেই বিতর্কে যেতে চাই না। কিন্তু একজন মানুষের তার চিকিৎসার জন্য পছন্দের চিকিৎসক, হাসপাতাল থাকতেই পারে। একটা প্রশ্ন উঠতে পারে বেগম খালেদা জিয়া তো কারাবন্দি। সেটা যদি তর্ক বা যুক্তির খাতিরে মেনে নেই তাহলে এমন উদাহরণও আছে শুধু কারাবন্দি নয়, দণ্ড হয়েছে এমন ব্যক্তিও বারডেম হাসপাতালসহ অনেক জায়গায় দিনের পর দিন চিকিৎসা নিয়েছেন। এজন্যই একজন ব্যক্তি নিজের চিকিৎসার বিষয়ে মতামত দিতে পারেন।’

মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘এখন নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া চিকিৎসকদের তার জন্য গঠিত বোর্ডে রাখার কথা। কিন্তু তা রাখা হয়নি। অন্যদিকে বোর্ডে চিকিৎসক যারা ছিলেন তারা হয়ত আন্তরিকতা দিয়েই তাকে দেখেছেন। কিন্তু একটা বিষয় ফাঁক রয়েছে। তা হলো-তারা বলেছেন, যদি খালেদা জিয়া চান তাহলে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া যাবে। একটা বিষয় হলো- একজন রোগীর চাওয়ার উপর কি চিকিৎসা নির্ভর করে, না চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা হবে? মোটকথা এখানে তারা একটা ধোঁয়াশার মধ্যে রেখে দিয়েছেন।’

খালেদার জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে বিএনপির দাবি সরকারের মেনে নেয়া উচিত বলে মনে করেন মাহফুজ উল্লাহ। বলেন, ‘আরাফাত রহমান কোকো যখন মারা গেছে, তখন সাবেক জেনারেলের ছেলে হিসেবে তাকে সামরিক কবরস্থানে দাফনের কথা বলা হলেও সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। এজন্য তার (খালেদা) একটা অভিমান থাকতে পারে। আর একটা বিষয় হলো- ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে ভর্তি করালে বাংলাদেশ ভেঙে পড়বে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে দেশের পরিস্থিতি উথাল পাতাল করে দিতে পারবেন এমনটা মনে করার কারণ নেই। সরকার যদি সত্যিকার অর্থে তার চিকিৎসা করাতে চায় তাহলে তাদের দাবিটা মেনে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া দরকার।’

ড. কামাল হোসেনরা যে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছেন তা নির্বাচনের আগে পূরণ হওয়া কতটা সম্ভব এমন প্রশ্নে মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘সবাই যদি আন্তরিক হয়, তাহলে নির্বাচন পর্যন্ত যে সময় বাকি আছে তার মধ্যে সবার মধ্যে ঐক্যমত তৈরি হলে জাতীয় ঐক্য যেসব দাবি করছে তা সমাধান হওয়া সম্ভব। কিন্তু এটা না হলে যদি আন্দোলন হয় তার দায় দায়িত্ব তো সরকারকে নিতে হবে।’

এ বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, যুক্তফ্রন্ট এবং গণফোরাম ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছে এটার কোনটা একদম অযৌক্তিক তা বলবো না। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিটা একটু ভিন্ন রকম।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই কিন্তু আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিল। বিএনপিকে এটা করতে বাধ্য করেছিল। আমরা যা দেখেছিলাম লতিফুর রহমান যিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়েছিলেন তিনি তার আসনে বসার আগেই ১৩জন সচিবকে চাকরিচ্যুত করলেন। তার মানে তিনি টার্গেট করে সবকিছু ঠিক করে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তাই লতিফুর রহমানের দিকে যদি তাকাই তাহলে জাতীয় ঐক্য যা দাবি করছে এটা এত অল্প সময়ে সম্ভব হবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ

খালেদার চিকিৎসা নিয়ে নিম্নমানের রাজনীতি চলছে’

আপডেট সময় ০৪:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা পেয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দলটির নেতারা নিম্নমানের রাজনীতি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া নিজেই চিকিৎসা চাচ্ছেন কি না সেটা আমি জানি না। তবে তার চিকিৎসা নিয়ে তার দলের খুবই নিম্নমানের রাজনীতি করছেন।’

রবিবার রাতে নাগরিক টিভিতে আয়োজিত ‘না বলা কথা’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শফিকুর।

প্রেসক্লাবের সভাপতি বলেন, ‘তার (খালেদার) দল থেকে বলা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ আবার বোর্ডে চিকিৎসকরা বলছেন ঝুঁকিপূর্ণ না। তাহলে আমরা কারটা বিশ্বাস করবো? দলের নেতাদের কথাগুলো না চিকিৎসকের কথা বিশ্বাস করবো? নিশ্চয়ই চিকিৎসকের কথা।’

নাজমুল আশরাফের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ড. মাহফুজ উল্লাহ। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে থাকেন দেশে এত ভালো ভালো হাসপাতাল আছে, চিকিৎসক আছে তা রেখে কেন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। তাহলে এ কথাগুলো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে, মরহুম সমাজকল্যাণমন্ত্রী, রেলমন্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হত। সেই বিতর্কে যেতে চাই না। কিন্তু একজন মানুষের তার চিকিৎসার জন্য পছন্দের চিকিৎসক, হাসপাতাল থাকতেই পারে। একটা প্রশ্ন উঠতে পারে বেগম খালেদা জিয়া তো কারাবন্দি। সেটা যদি তর্ক বা যুক্তির খাতিরে মেনে নেই তাহলে এমন উদাহরণও আছে শুধু কারাবন্দি নয়, দণ্ড হয়েছে এমন ব্যক্তিও বারডেম হাসপাতালসহ অনেক জায়গায় দিনের পর দিন চিকিৎসা নিয়েছেন। এজন্যই একজন ব্যক্তি নিজের চিকিৎসার বিষয়ে মতামত দিতে পারেন।’

মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘এখন নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া চিকিৎসকদের তার জন্য গঠিত বোর্ডে রাখার কথা। কিন্তু তা রাখা হয়নি। অন্যদিকে বোর্ডে চিকিৎসক যারা ছিলেন তারা হয়ত আন্তরিকতা দিয়েই তাকে দেখেছেন। কিন্তু একটা বিষয় ফাঁক রয়েছে। তা হলো-তারা বলেছেন, যদি খালেদা জিয়া চান তাহলে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া যাবে। একটা বিষয় হলো- একজন রোগীর চাওয়ার উপর কি চিকিৎসা নির্ভর করে, না চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা হবে? মোটকথা এখানে তারা একটা ধোঁয়াশার মধ্যে রেখে দিয়েছেন।’

খালেদার জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে বিএনপির দাবি সরকারের মেনে নেয়া উচিত বলে মনে করেন মাহফুজ উল্লাহ। বলেন, ‘আরাফাত রহমান কোকো যখন মারা গেছে, তখন সাবেক জেনারেলের ছেলে হিসেবে তাকে সামরিক কবরস্থানে দাফনের কথা বলা হলেও সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। এজন্য তার (খালেদা) একটা অভিমান থাকতে পারে। আর একটা বিষয় হলো- ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে ভর্তি করালে বাংলাদেশ ভেঙে পড়বে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে দেশের পরিস্থিতি উথাল পাতাল করে দিতে পারবেন এমনটা মনে করার কারণ নেই। সরকার যদি সত্যিকার অর্থে তার চিকিৎসা করাতে চায় তাহলে তাদের দাবিটা মেনে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া দরকার।’

ড. কামাল হোসেনরা যে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছেন তা নির্বাচনের আগে পূরণ হওয়া কতটা সম্ভব এমন প্রশ্নে মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘সবাই যদি আন্তরিক হয়, তাহলে নির্বাচন পর্যন্ত যে সময় বাকি আছে তার মধ্যে সবার মধ্যে ঐক্যমত তৈরি হলে জাতীয় ঐক্য যেসব দাবি করছে তা সমাধান হওয়া সম্ভব। কিন্তু এটা না হলে যদি আন্দোলন হয় তার দায় দায়িত্ব তো সরকারকে নিতে হবে।’

এ বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, যুক্তফ্রন্ট এবং গণফোরাম ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছে এটার কোনটা একদম অযৌক্তিক তা বলবো না। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিটা একটু ভিন্ন রকম।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই কিন্তু আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিল। বিএনপিকে এটা করতে বাধ্য করেছিল। আমরা যা দেখেছিলাম লতিফুর রহমান যিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়েছিলেন তিনি তার আসনে বসার আগেই ১৩জন সচিবকে চাকরিচ্যুত করলেন। তার মানে তিনি টার্গেট করে সবকিছু ঠিক করে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তাই লতিফুর রহমানের দিকে যদি তাকাই তাহলে জাতীয় ঐক্য যা দাবি করছে এটা এত অল্প সময়ে সম্ভব হবে না।