অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ নৌকায় ভোট দিলেই কেবল উন্নয়নের দেখা পায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই শুধু দেশের উন্নতি হয়- এটা এখন প্রমাণিত। উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যত উন্নত হবে ততই জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
রোববার রংপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুটি সেতুর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। একইদিন রংপুর ও গাজীপুর পুলিশের মেট্রোপলিটন ইউনিটেরও উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এসব উদ্বোধন করেন।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ওপর ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় তিতাস নদীর ওপর নির্মিত ওয়াই আকৃতির ‘শেখ হাসিনা তিতাস সেতু’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের পরপরই যান চলাচলের জন্য সেতু দুটি খুলে দেয়া হয়।
ভিডিও কনফারেন্স দুটি সঞ্চালনা করেন মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। এতে এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বক্তৃতা করেন।
এ সময় রংপুর প্রান্তে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এবং বাঞ্ছারামপুর প্রান্তে সাবেকমন্ত্রী এবিএম তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সেতু দুটির উদ্বোধনের সময় সরকারি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা সেতু দুটির অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা আরও বলেন, এক সময় উত্তরবঙ্গের বহু এলাকার মতো গঙ্গাচড়াও মঙ্গাপ্রবণ এলাকা ছিল। কিন্তু তার সরকারের পরিকল্পিত উন্নয়নে আজ সেখানে মঙ্গা নেই। মঙ্গা শব্দটিই যেন হারিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের শাসনেই দেশ থেকে মঙ্গা চিরবিদায় নিয়েছে। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এই এলাকার মানুষের কাজ থাকে না। এ কারণে সরকার এ সময় এখানে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এতে দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও করা হয়েছে।
দৃষ্টিনন্দন সেতু দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় : যুগান্তরের বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, বাঞ্ছারামপুর ও কুমিল্লার হোমনা উপজেলার তিতাস নদীর ত্রিমোহনায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ওয়াই আকৃতির সেতু উদ্বোধনের পর সেতু ও আশপাশের এলাকায় লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
দৃষ্টিনন্দন সেতুটি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং মিছিলে মিছিলে অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত করে তোলে। সেতুটি চালু হওয়ায় বাঞ্ছারামপুর, হোমনা ও মুরাদনগর উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে গেছে।
উদ্বোধন হলেও ভারি যান চলাচল বন্ধ : যুগান্তরের লালমনিরহাট ও গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, তিস্তার একপারে রংপুরের গঙ্গাচড়া, অন্যপারে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা। এ কারণে বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ চারটি উপজেলার মানুষকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হতো।
কিন্তু ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব ঘুচে গেছে। তবে সংযোগ সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ায় ভারি যান চলাচল করতে পারছে না। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে বালুর বস্তা ফেলে হালকা যান চলাচলের ব্যবস্থা করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী নেওয়াজ পারভেজ বলেন, সংযোগ সড়কের একাধিক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে সেতু দিয়ে ভারি যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে দ্রুত সংযোগ সড়ক মেরামত করে ভারি যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রংপুর ও গাজীপুর পুলিশের দুটি মেট্রোপলিটন ইউনিটের উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশের সেবার মনোভাব, সততা ও আন্তরিকতা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন ও পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এ সময় গণভবন প্রান্ত ও গাজীপুর ও রংপুরে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ইউনিটের উদ্বোধন করা হল যাতে মানুষের সেবা পাওয়া নিশ্চিত হয়। কারণ দেশের উন্নয়ন করতে হলে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সফলভাবে মোকাবেলা করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বজুড়ে জঙ্গিবাদ একটি বড় সমস্যা। কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে জঙ্গিবাদ দমনে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেই আজকে আমরা জঙ্গিবাদ দমনে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই।
শেখ হাসিনা বলেন, রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যাত্রা শুরু হওয়ায় এই দুই অঞ্চলের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। মানুষের সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, নতুন মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করায় অনেক পুলিশ সদস্যের পদোন্নতিরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন এখন সরকারি সম্পত্তি : দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে স্থান থেকে এর যাত্রা শুরু করেছিল সেই ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন কিনে নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সম্পত্তির বর্তমান মালিক ও তার সন্তানদের কাছ থেকে এ সম্পত্তি কেনার রেজিস্ট্রি দলিল গ্রহণ করেছেন। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস ১৯৩১ সালে পুরান ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেনে ২২ একর জমির ওপর এটি নির্মাণ করেন।
‘সরকারি ক্রয় আইন’ অনুযায়ী ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বিনিময়ে বর্তমান মালিকের কাছ থেকে এ স্থাপনাটি ক্রয় করা হয়েছে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একটি চেক এবং ঐতিহাসিক ভবনের বিনিময়ে রোজ গার্ডেনের মালিককে নগরীর গুলশানে ২০ কাঠা জমিসহ একটি একতলা ভবন বিক্রির একটি রেজিস্ট্রি দলিল হস্তান্তর করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী রোজ গার্ডেনকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করার জন্য এক হাজার এক টাকা টোকেন মূল্যে এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বাড়িটির দলিল গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরান ঢাকার ইতিহাস তুলে ধরতে ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনকে জাদুঘরে পরিণত করা হবে। রোজ গার্ডেনের একটি ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। কেননা, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এখান থেকেই যাত্রা শুরু করে। এই দলের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে। এই ঐতিহাসিক ভবনটি যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন স্থাপনা নষ্ট হতে দেয়া যায় না।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার এর আগে নগরভবনে একটি জাদুঘর স্থাপন করেছে। তবে এখন সেই জাদুঘরটি রোজ গার্ডেন ভবনে স্থানান্তর করা হবে।
তিনি ভবনটির মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে এটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সচিব মো. শহিদুল্লাহ খন্দকার, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















