ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে গেছে ৪৪৯ কোটি ডলার ধামরাইয়ে স্বামীর মারধরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার জুলাই গণহত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে সতর্কতার নির্দেশ প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী শহীদুল্লাহ হলে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্তকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম ‘জনগণকে মালিক মনে করে সরকার কাজ করছে’ ‘নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না’

খালেদার মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ১১০১ চিকিৎসকের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত বলে তার চিকিৎসায় গঠন করা মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপিপন্থী এক হাজার ১০১ জন চিকিৎসক।
রবিবার বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের মতামত বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক তুলে ধরেন। আর এর প্রতিক্রিয়ায় সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়া জানান ওই চিকিৎসকরা।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম সাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্যকে ‘স্ববিরোধী’ উল্লেখ করে বলো হয়, এই বক্তব্য ‘দেশের মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হয় নাই’।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের দ- হওয়া খালেদা জিয়াকে অন্য একটি মামলার বিচারে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আদালত বসানো হয়েছে কারাগারে। আর সেদিন তিনি উপস্থিত হয়ে নিজের অসুস্থতার কথা জানান। ১২ সেপ্টেম্বর অসুস্থতার কথা বলে আদালতে আসেনওনি।

এর আগেও নানা সময় মামলার তারিখ পড়লে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসার দাবিটি সামনে এনেছে বিএনপি। এবারও তাই হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়াকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর অনুরোধ করে। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে এই বোর্ডে সদস্যরা শনিবার কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখে আসেন।

রবিবার বিএসএমএমইউর পরিচালক আব্দুল্লাহ আল-হারুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নতুন করে কোনও রোগ সৃষ্টি হয়নি। আগের যেসব শারীরিক সমস্যায় তিনি ভুগছিলেন, খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হতে চাইলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলেই সেসবের চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।’

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার বারবারই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা না করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। এতে করে জনগনের মধ্যে এই ধারণা প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে যে জেলখানায় চিকিৎসা না দিয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

সরকার তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয় বিবৃতিতে। বলা হয়, ‘তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠতে পারেন না, হুইল চেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। অথচ তিনি জেলে যাওয়ার আগে নিজে একা একা হাঁটাচলা করতে পারতেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারতেন।’
‘কারাগারের এই নিঃসঙ্গতা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ও জটিল আকার ধারণ করেছে।’

অধ্যাপক মবিন খান, বায়েছ ভূঁইয়া, সিরাজউদ্দিন আহমদ, আব্দুল মান্নান মিয়া, মিজানুর রহমান, এ কে এম আজিজুল হক, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফরহাদ হালিম ডোনার, আব্দুল কুদ্দুস, মতিউর রহমান মোল্লা, এ এস এম এ রায়হান, ফিরোজা বেগম, সাইফুল ইসলাম, খাদিজা বেগম প্রমুখ বিবৃতিতে সই করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে গেছে ৪৪৯ কোটি ডলার

খালেদার মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ১১০১ চিকিৎসকের

আপডেট সময় ০১:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত বলে তার চিকিৎসায় গঠন করা মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপিপন্থী এক হাজার ১০১ জন চিকিৎসক।
রবিবার বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের মতামত বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক তুলে ধরেন। আর এর প্রতিক্রিয়ায় সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়া জানান ওই চিকিৎসকরা।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম সাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্যকে ‘স্ববিরোধী’ উল্লেখ করে বলো হয়, এই বক্তব্য ‘দেশের মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হয় নাই’।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের দ- হওয়া খালেদা জিয়াকে অন্য একটি মামলার বিচারে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আদালত বসানো হয়েছে কারাগারে। আর সেদিন তিনি উপস্থিত হয়ে নিজের অসুস্থতার কথা জানান। ১২ সেপ্টেম্বর অসুস্থতার কথা বলে আদালতে আসেনওনি।

এর আগেও নানা সময় মামলার তারিখ পড়লে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসার দাবিটি সামনে এনেছে বিএনপি। এবারও তাই হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়াকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর অনুরোধ করে। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে এই বোর্ডে সদস্যরা শনিবার কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখে আসেন।

রবিবার বিএসএমএমইউর পরিচালক আব্দুল্লাহ আল-হারুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নতুন করে কোনও রোগ সৃষ্টি হয়নি। আগের যেসব শারীরিক সমস্যায় তিনি ভুগছিলেন, খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হতে চাইলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলেই সেসবের চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।’

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার বারবারই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা না করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। এতে করে জনগনের মধ্যে এই ধারণা প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে যে জেলখানায় চিকিৎসা না দিয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

সরকার তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয় বিবৃতিতে। বলা হয়, ‘তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠতে পারেন না, হুইল চেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। অথচ তিনি জেলে যাওয়ার আগে নিজে একা একা হাঁটাচলা করতে পারতেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারতেন।’
‘কারাগারের এই নিঃসঙ্গতা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ও জটিল আকার ধারণ করেছে।’

অধ্যাপক মবিন খান, বায়েছ ভূঁইয়া, সিরাজউদ্দিন আহমদ, আব্দুল মান্নান মিয়া, মিজানুর রহমান, এ কে এম আজিজুল হক, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফরহাদ হালিম ডোনার, আব্দুল কুদ্দুস, মতিউর রহমান মোল্লা, এ এস এম এ রায়হান, ফিরোজা বেগম, সাইফুল ইসলাম, খাদিজা বেগম প্রমুখ বিবৃতিতে সই করেন।