অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপির সামনে কোনো ইস্যু নেই। তাই খালেদা জিয়ার বিচার ও চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে তারা নতুন ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু বিএনপির জানা উচিত এটা সরকারের বিষয় না। কারণ খালেদার বিচারিক প্রক্রিয়াটি দেখছেন আদালত।
আর চিকিৎসার বিষয়টি দেখছে কারা কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে রাজি হননি। এখন তাকে অন্য কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হবে কিনা সেটা একেবারেই কারা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়।
রোববার কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ জাতীয় কনভেনশন এবং ইন্টারন্যাশনাল সেমিনারের দ্বিতীয় দিনের এক আলোচনা সভায় বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ‘ইমার্জিং ফোরসিস্টেম : ভ্যালু এডিশন, সাপ্লাই চেইন অ্যান্ড পোস্ট সিকিউরিটি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আসলে তারা (বিএনপি) নির্বাচনের আগে গোলযোগ সৃষ্টি করতে চায়।
এ কারণে নতুন ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এ সুযোগ তারা পাবে না। ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, দেশে এর চেয়ে ভালো হাসপাতাল তো আর নেই। এখানে বড় বড় ডাক্তার আছেন। এখানে বড় বড় নেতার চিকিৎসা হয়েছে। আমি যখন কুমিল্লা জেলে ছিলাম তখন আমার চিকিৎসাও এই হাসপাতালে হয়েছে। পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদার বিচার প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাকে এই কারাগারে রাখা হয়েছে। এখানে কর্নেল তাহের ও অনেক বড় বড় নেতার বিচার হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের পরে আমাদের নেতাদের হত্যা নির্যাতন নিপীড়ন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের আমলে বিনা বিচারে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি দেয়া হয়েছে। আমি যখন কুমিল্লা জেলে ছিলাম, তখন প্রতি রাতে চিৎকারের শব্দ শুনতাম।
এর আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলী আকবরের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এসপি গুপ্ত, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সাইফুদ্দিন শাহ এবং ড. কাটিনকো ডি বালাগ।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি । বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। গত বছর বন্যায় কিছু ক্ষতি হয়েছিল। সে কারণে খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে আবারও ২৮ ভাগ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এক সময় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল। আজ দেশে ১৬ কোটির বেশি মানুষ। কিন্তু খাদ্যের অভাব নেই। গত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে দেশে ৪০৭.১৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়েছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশের আবাদি জমির পরিমাণ কমলেও কৃষিবান্ধব শেখ হাসিনার সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও গৃহীত পদক্ষেপে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকারের আমলেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার দেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর করা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























