ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

ববি হাজ্জাজের সংলাপে সাড়া দেয়নি বড় দলগুলো

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের চলমান সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপের ডাক দিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। এই সংলাপে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্টসহ ছোট-বড় সব দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। তবে ‘নামসর্বস্ব’ কয়েকটি দল ছাড়া আওয়ামী লীগ-বিএনপি এবং নবগঠিত যুক্তফ্রন্টসহ বড় কোনো দলের প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি এই সংলাপে।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলসমূহের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে এনডিএম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, কীভাবে এই গণতন্ত্র জনগণকে ফিরিয়ে দিতে পারি তার একটা প্রচেষ্টা এই জাতীয় সংলাপ। আমরা লড়াই ততক্ষণ করব, যতক্ষণ না জালিম সরকারের পতন হবে।’

ববি বলেন, ‘বর্তমান সরকারব্যবস্থা যে জায়গায় গেছে, তারা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না। দেশে এখন ক্রান্তিকাল চলছে, এখানে এখন কথা বলার অধিকার নেই। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় নির্যাতন করা হচ্ছে। হঠাৎ করে হেলমেড বাহিনীর আক্রমণ। এই সরকারের কাছে দাবি তুললে, ভোটের অধিকারে আওয়াজ সরকারের কানে পৌঁছাতে দেওয়া হয় না।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘একাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতির ভাবনা তুলে ধরতে আজকের এই জাতীয় সংলাপ। আমাদের আমন্ত্রণে প্রত্যেক দল সাড়া দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সবাই্ আমাদের দাওয়াত কবুল করেছেন। যুক্তফ্রন্টের ড. কামাল হোসেনসহ নিবন্ধিত ৪০টির অধিক দল আমাদের দাওয়াত কবুল করেছেন।’ তবে কী কারণে বড় দলগুলোর প্রতিনিধি আসেননি তা বলেননি জাতীয় পার্টির সাবেক এই নেতা।

এনডিএমের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী একাদশ নির্বাচনের জন্য একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাই। নির্বাচন কমিশন বলছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি নাকি তাদের কাজ নয়। আমি তাদের প্রশ্ন করি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির এখতিয়ার কার? নির্বাচন কমিশনের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে নির্বাচন কমিশনার ঠুঁটো জগন্নাথ। নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য ৭৬টি দল আবেদন করলেও কাউকে নিবন্ধন দেয়নি। নিবন্ধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ‘ফাইজলামি’ করেছে।’

ববি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে ট্রেনে চেপে, অন্য দলকে করতে দিচ্ছে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এটাকে বলে না। আমরা এই দেশে আর জ্বালাও পোড়াও দেখতে চাই না। আগামী একাদশ নির্বাচন নিরপেক্ষ করার জন্য সব রাজনৈতিক দলকে এক সাথে কাজ করতে হবে।’

‘২০ দল ডাক দিয়েছে জাতীয় ঐক্যের, যুক্তফ্রন্টের বি চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ডাক দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যের। আমরা যেন দেখতে পাই এই সমস্ত ডাক একসাথে হয়ে দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে হেরে যাবে বাংলাদেশ।’

জাতীয় সংলাপে ২০ দলীয় জোটের এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা চাচ্ছে প্রকৃতির বাতাসে নয়, গুণ টেনে নৌকাকে পারে নিতে। বর্তমান ইসি একটি অথর্ব-অদক্ষ কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক পদ ধরে রেখে, দায়িত্বে অবহেলা রাষ্ট্রদ্রেহিতার শামিল। আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করছি।’

গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘সরকার যদি আবার একতরফা নির্বাচন করতে চায় তবে তা করতে দেয়া হবে না। ৫ জানুয়ারির মতো আর নির্বাচন করবেন না। আপনার (শেখ হাসিনা) বাবা বলেছিলেন, ভোট চুরি করা শেখেন নাই। সুতরাং তার কন্যা হয়ে এবার নিরপেক্ষ ভোট দেন, জনগণের ভোটে যে নির্বাচিত হবে তারাই সরকার গঠন করবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

ববি হাজ্জাজের সংলাপে সাড়া দেয়নি বড় দলগুলো

আপডেট সময় ০৯:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের চলমান সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপের ডাক দিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। এই সংলাপে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্টসহ ছোট-বড় সব দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। তবে ‘নামসর্বস্ব’ কয়েকটি দল ছাড়া আওয়ামী লীগ-বিএনপি এবং নবগঠিত যুক্তফ্রন্টসহ বড় কোনো দলের প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি এই সংলাপে।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলসমূহের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে এনডিএম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, কীভাবে এই গণতন্ত্র জনগণকে ফিরিয়ে দিতে পারি তার একটা প্রচেষ্টা এই জাতীয় সংলাপ। আমরা লড়াই ততক্ষণ করব, যতক্ষণ না জালিম সরকারের পতন হবে।’

ববি বলেন, ‘বর্তমান সরকারব্যবস্থা যে জায়গায় গেছে, তারা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না। দেশে এখন ক্রান্তিকাল চলছে, এখানে এখন কথা বলার অধিকার নেই। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় নির্যাতন করা হচ্ছে। হঠাৎ করে হেলমেড বাহিনীর আক্রমণ। এই সরকারের কাছে দাবি তুললে, ভোটের অধিকারে আওয়াজ সরকারের কানে পৌঁছাতে দেওয়া হয় না।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘একাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতির ভাবনা তুলে ধরতে আজকের এই জাতীয় সংলাপ। আমাদের আমন্ত্রণে প্রত্যেক দল সাড়া দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সবাই্ আমাদের দাওয়াত কবুল করেছেন। যুক্তফ্রন্টের ড. কামাল হোসেনসহ নিবন্ধিত ৪০টির অধিক দল আমাদের দাওয়াত কবুল করেছেন।’ তবে কী কারণে বড় দলগুলোর প্রতিনিধি আসেননি তা বলেননি জাতীয় পার্টির সাবেক এই নেতা।

এনডিএমের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী একাদশ নির্বাচনের জন্য একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাই। নির্বাচন কমিশন বলছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি নাকি তাদের কাজ নয়। আমি তাদের প্রশ্ন করি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির এখতিয়ার কার? নির্বাচন কমিশনের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে নির্বাচন কমিশনার ঠুঁটো জগন্নাথ। নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য ৭৬টি দল আবেদন করলেও কাউকে নিবন্ধন দেয়নি। নিবন্ধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ‘ফাইজলামি’ করেছে।’

ববি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে ট্রেনে চেপে, অন্য দলকে করতে দিচ্ছে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এটাকে বলে না। আমরা এই দেশে আর জ্বালাও পোড়াও দেখতে চাই না। আগামী একাদশ নির্বাচন নিরপেক্ষ করার জন্য সব রাজনৈতিক দলকে এক সাথে কাজ করতে হবে।’

‘২০ দল ডাক দিয়েছে জাতীয় ঐক্যের, যুক্তফ্রন্টের বি চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ডাক দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যের। আমরা যেন দেখতে পাই এই সমস্ত ডাক একসাথে হয়ে দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে হেরে যাবে বাংলাদেশ।’

জাতীয় সংলাপে ২০ দলীয় জোটের এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা চাচ্ছে প্রকৃতির বাতাসে নয়, গুণ টেনে নৌকাকে পারে নিতে। বর্তমান ইসি একটি অথর্ব-অদক্ষ কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক পদ ধরে রেখে, দায়িত্বে অবহেলা রাষ্ট্রদ্রেহিতার শামিল। আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করছি।’

গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘সরকার যদি আবার একতরফা নির্বাচন করতে চায় তবে তা করতে দেয়া হবে না। ৫ জানুয়ারির মতো আর নির্বাচন করবেন না। আপনার (শেখ হাসিনা) বাবা বলেছিলেন, ভোট চুরি করা শেখেন নাই। সুতরাং তার কন্যা হয়ে এবার নিরপেক্ষ ভোট দেন, জনগণের ভোটে যে নির্বাচিত হবে তারাই সরকার গঠন করবে।’