অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
‘এটা তোমার বাপের দেশ না’-এই কথাটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি বলে দাবি করেছেন কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁন।
ফেসবুক লাইভে দেয়া বক্তব্যের প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে সোমবার এ কথা বলেন রাশেদ।
গত ২৭ জুন ফেসবুক লাইভে এসে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীদেরকে আবার রাস্তায় নামার আহ্বান জানান রাশেদ খাঁন।
এতে অন্যান্য অনেক কিছুর পাশাপাশি রাশেদ বলেন, ‘মনে হচ্ছে, তার বাপের দেশ, সে একাই দেশের মালিক, ইচ্ছামতন যা ইচ্ছা তাই বলবে আর আমরা কোন কথা বলতে পারব না।’
আর এই বক্তব্যের পর রাশেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, আর রবিবার তাকে (রাশেদ) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ফেসবুক লাইভে ‘কঠোর আন্দোলন’ এর সিদ্ধান্ত হয়েছে জানানোর পাশাপাশি প্রবাসীদেরকে রাশেদ বলেন, তাদের পাঠানো রেমিটেন্স ভিন্নখাতে ব্যবহার করা হয।
সোমবার বিকালে ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হান উল ইসলামের আদালতে তুলে রাশেদের রিমান্ড চান তদন্ত কর্মকর্তা সজীবুজ্জামান।
আবেদনে গোয়েন্দা পুলিশের এই উপপরিদর্শক বলেন, ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তির পাশাপাশি উস্কানিমূলক কথা বলেছেন রাশেদ। এর মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। এই উস্কানিমূলক বক্তব্যের পেছনের ইন্ধনদাতাদের নাম ঠিকানা জানতে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
পুলিশ কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড চাইলেও বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেন।
অন্যদিকে রাশেদের আইনজীবী জাইদুর রহমান জাহিদ ও মো. নুরুজ্জামান দাবি করেন, তাদের মক্কেল ফেসবুকে যা বলেছে, তা মানহানিকর নয়। প্রয়োজনে রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে।
শুনানির এক পর্যায়ে রাশেদ নিজেই কিছু বলতে চাইলে বিচারক অনুমতি দেন। তিনি বলেন, ‘এ আন্দোলন আমার একার আন্দোলন নয়। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন। আমরা আন্দোলনে নামার পর সরকারের পক্ষ থেকে তিন বার আমাদের সঙ্গে বসা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৪ মে কর্নেল এহসান আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।’
এ সময় বিচারক বাধা দিয়ে বলেন, ‘আপনার গভীরে যেতে হবে না, এ মামলার অভিযোগ সম্পর্কে বলার থাকলে বলুন।’
এরপর রাশেদ বলেন, ‘বার বার সময় নিয়েও ওনারা প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। আর আমি আমার লাইভে প্রধানমন্ত্রীর নাম ধরে কোনও কথা বলিনি। আমি ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বলেছি।’
এসময় বিচারক বলেন, ‘আপনাদের তো ধৈর্য ধরতে হবে। নেতা হতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে।’
এরপর রাশেদ বলেন, ‘আমরা তো কোনও সহিংসতা করিনি।’
বিচারক বলেন, ‘আপনি (রাশেদ) যে বক্তব্য রেখেছেন এটা কিন্তু অফেন্স হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করবে, আপনি তাদের সহযোগিতা করবেন, এটাই মূলত রিমান্ড। আমি সময় বেধে দিচ্ছি, আপনাকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ৫ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।’
এ সময় আদালতে ছিলেন রাশেদের বাবা নবাই বিশ্বাস, মা সালেহা বেগম, বোন সোনিয়া ও রুপালি এবং স্ত্রী রাবেয়া আলো। তারা আদালতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পেশায় রাজমিন্ত্রী রাশেদের বাবা নবাই বিশ্বাস বলেন, ‘আমি পড়ালেখা জানি না। তবে আমার ছেলে বলেছে, সে দেশের সব ছাত্রদের জন্য আন্দোলন করছে। তাই আমি তাকে সমর্থন করেছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদের বাবা জানান, গত ৩০ জুন ছাত্রলীগের ১৫/২০ জন ছেলে তাদের বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে হুমকি দিয়ে এসেছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন করছেন দেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোনও কোটা থাকবে না বলে ঘোষণা দেন। এরপর গত ২ মে এবং সবশেষ গত ২৭ জুন সংসদে একই কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা আসলেও আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ফের আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।
এর মধ্যে রাশেদ খান সম্প্রতি ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে আবার আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান।বলেন, তার রক্ত গরম হয়ে গেছে। যার রক্ত গরম হয়নি, তার গায়ে রক্ত নেই। যে আন্দোলনে নামবে না, সে কাপুরুষ।
এর মধ্যে ১জুলাই রাশেদ তার ফেসবুক আইডি থেকে আবারও একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেন। এতে তিনি ভাসানটেক এলাকার একটি বাড়িতে থাকার কথা জানিয়ে বলেন, ডিবি পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যেন রাস্তায় নেমে আসে।
এরপর মিরপুর ১৪ নম্বরের ভাসানটেক বাজার এলাকার মজুমদার রোডের ১৪ নম্বর বাসা থেকে রাশেদ খানকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে ছাত্রলীগ নেতার তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















