ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

ঐক্য গড়ে তিন দিনে সরকার পতন: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চার বছর আগে সরকার পতনের আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ বিএনপি ‘গণতন্ত্রকামী’ দলগুলোকে নিয়ে ঐক্য গড়ে তিন দিনের মধ্যে সরকারের পতন ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘোষণা দিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তির দাবি নিয়ে এই সমাবেশ হয়।

২০১৫ সালে সরকার পতনের ডাক দিয়ে আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফেরে বিএনপি। ওই বছরের ৫ জানুয়ারি দলের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং পরে ডাকা হরতাল অকার্কর হয়ে পরার পর আন্দোলনে ক্ষ্যান্ত দেয় বিএনপি। এরপর থেকে আর বড় ধরনের কোনো কর্মসূচিও দেয়নি বিএনপি আর আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ বা হরতাল প্রত্যাহারও করা হয়নি।

এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ঠেকাতে ডাকা অবরোধ ও হরতাল বিএনপি স্থগিত করে ভোটের এক সপ্তাহ পর সরকার গঠন হলে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি জাতীয় ঐক্য তৈরির কাজ চলছে। আমরা এ বিষয়ে নিয়মিত বসছি, আলোচনা করছি। এই জাতীয় ঐক্যে যদি সফল হওয়া যায় তবে আওয়ামী লীগ তিন দিনের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’

সরকারের উদ্দেশ্য করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনারাই পরিস্থিতি তৈরি করছেন। সেই দিন বেশি দূরে নয়। যেদিন জনগণ তাদের জবাব দিয়ে দেবে।’

‘আওয়ামী লীগ তাদের জন্মের শুরু থেকেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, কোনোদিন করেনি। তারা স্বাধীনতার পর সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। আজকে যেমন রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকে সেই দিনও এভাবে রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকত।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের ‘নিষ্ক্রিয়তারও’ সমালোচনা করেন ফখরুল। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির কর্মসূচি থেকে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের উদাহরণও টানেন তিনি।

‘যুবকদেরকে মাঠে থাকতে হবে। আমি দেখেছি এই প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আমার বুকের উপর থেকে রাজকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। কিন্তু তাকিয়ে দেখি যুবকরা নেই। বক্তব্য শুরু হলেই পেছন থেকে যুবকরা সবাই চলে যায়। আজ সবাইকে আত্মসমালোচনা করতে হবে।’
‘আমাদের নেতাকর্মীদের মাঠে নেমে আসতে হবে। যুবদলের নেতাকর্মীদের ঘরের ভেতর থেকে বাইরে আসতে হবে। দলে আমরা যারা বয়স্ক তারা সবাই বাইরে যাব।’

‘আপনারাও ঘরের ভেতর থেকে বাইরে যান। ২০ জন ২০ জন করে বাইরে যান। দেখেন পরিস্থিতি কী হয়। বিএনপি যদি রাস্তায় নামে সরকারের দাঁড়ানোর উপায় থাকবে না।’

‘এমনি এমনি কোনো কিছুই পাওয়া যায় না। পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। আজ আমাদের নেত্রী ও গণতন্ত্রের মাতা কারাগারে। তাকে যদি কারামুক্ত করতে হয় তবে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। আজকের নির্বাচন কমিশন একটি অথর্ব কমিশন। তারা সরকারের নির্দেশ মতো কাজ করে তাদেরকে সহযোগিতা করছে। এই কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে।’

‘নির্বাচন কমিশন পুণর্গঠন করে আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। যে নির্বাচনে ভোটাররা নির্ভয়ে গিয়ে ভোট দিতে পারবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’

যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরুর সভাপতিত্বে আলোচনায় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

ঐক্য গড়ে তিন দিনে সরকার পতন: ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চার বছর আগে সরকার পতনের আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ বিএনপি ‘গণতন্ত্রকামী’ দলগুলোকে নিয়ে ঐক্য গড়ে তিন দিনের মধ্যে সরকারের পতন ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘোষণা দিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তির দাবি নিয়ে এই সমাবেশ হয়।

২০১৫ সালে সরকার পতনের ডাক দিয়ে আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফেরে বিএনপি। ওই বছরের ৫ জানুয়ারি দলের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং পরে ডাকা হরতাল অকার্কর হয়ে পরার পর আন্দোলনে ক্ষ্যান্ত দেয় বিএনপি। এরপর থেকে আর বড় ধরনের কোনো কর্মসূচিও দেয়নি বিএনপি আর আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ বা হরতাল প্রত্যাহারও করা হয়নি।

এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ঠেকাতে ডাকা অবরোধ ও হরতাল বিএনপি স্থগিত করে ভোটের এক সপ্তাহ পর সরকার গঠন হলে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি জাতীয় ঐক্য তৈরির কাজ চলছে। আমরা এ বিষয়ে নিয়মিত বসছি, আলোচনা করছি। এই জাতীয় ঐক্যে যদি সফল হওয়া যায় তবে আওয়ামী লীগ তিন দিনের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’

সরকারের উদ্দেশ্য করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনারাই পরিস্থিতি তৈরি করছেন। সেই দিন বেশি দূরে নয়। যেদিন জনগণ তাদের জবাব দিয়ে দেবে।’

‘আওয়ামী লীগ তাদের জন্মের শুরু থেকেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, কোনোদিন করেনি। তারা স্বাধীনতার পর সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। আজকে যেমন রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকে সেই দিনও এভাবে রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকত।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের ‘নিষ্ক্রিয়তারও’ সমালোচনা করেন ফখরুল। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির কর্মসূচি থেকে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের উদাহরণও টানেন তিনি।

‘যুবকদেরকে মাঠে থাকতে হবে। আমি দেখেছি এই প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আমার বুকের উপর থেকে রাজকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। কিন্তু তাকিয়ে দেখি যুবকরা নেই। বক্তব্য শুরু হলেই পেছন থেকে যুবকরা সবাই চলে যায়। আজ সবাইকে আত্মসমালোচনা করতে হবে।’
‘আমাদের নেতাকর্মীদের মাঠে নেমে আসতে হবে। যুবদলের নেতাকর্মীদের ঘরের ভেতর থেকে বাইরে আসতে হবে। দলে আমরা যারা বয়স্ক তারা সবাই বাইরে যাব।’

‘আপনারাও ঘরের ভেতর থেকে বাইরে যান। ২০ জন ২০ জন করে বাইরে যান। দেখেন পরিস্থিতি কী হয়। বিএনপি যদি রাস্তায় নামে সরকারের দাঁড়ানোর উপায় থাকবে না।’

‘এমনি এমনি কোনো কিছুই পাওয়া যায় না। পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। আজ আমাদের নেত্রী ও গণতন্ত্রের মাতা কারাগারে। তাকে যদি কারামুক্ত করতে হয় তবে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। আজকের নির্বাচন কমিশন একটি অথর্ব কমিশন। তারা সরকারের নির্দেশ মতো কাজ করে তাদেরকে সহযোগিতা করছে। এই কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে।’

‘নির্বাচন কমিশন পুণর্গঠন করে আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। যে নির্বাচনে ভোটাররা নির্ভয়ে গিয়ে ভোট দিতে পারবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’

যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরুর সভাপতিত্বে আলোচনায় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।