আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
শক্তিমত্তায় ঢের এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। যোজন যোজন পিছিয়ে ছিল আইসল্যান্ড। এর আগে বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতায় ছিল না দলটির। নবাগত সেই দলটির বিপক্ষে ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু কেন এমনটি হলো। সেই উত্তর অনুসন্ধানেই এ সামান্য প্রয়াস-
এবারের বিশ্বকাপে ডি গ্রুপে রয়েছে আর্জেন্টিনা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও ক্রোয়েশিয়া। প্রথমে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের (আইসল্যান্ড) বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে নামে আলবিসেলেস্তেরা। সেই পুচকে দলের কাছেই খেল হোঁচট।
বলতে গেলে আইসল্যান্ড ফুটবলারদের উচ্চতার কাছে হেরে গেছে আর্জেন্টিনা। দ্বীপ দলটির প্রত্যেক খেলোয়াড়ের গড় উচ্চতা ৬ ফুটের ওপরে। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে লম্বা ফুটবল দল এটিই। মাঠে নামার আগে আর্জেন্টাইনদের সরল স্বীকারোক্তি ছিল, প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের উচ্চতাকেই সবচেয়ে বেশি ভয় তাদের। অবশেষে সেই শঙ্কাই বাস্তবে ফললো।
আইসল্যান্ডের রক্ষণ সামলেছেন চারজন। তাদের প্রত্যেকের উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চির ওপরে। বাকি খেলোয়াড়দের উচ্চতাও ৬ ফুটের ওপরে। সেখানে আর্জেন্টাইনদের উচ্চতা গড়ে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। একে তো দীর্ঘদেহী, তার ওপর আবার লম্বা পা। মূলত এর কাছেই নতজানু স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন মেসি-আগুয়েরোরা। যে পাস করতে গেছেন, সেই লম্বা পায়ের কাছে খেই হারিয়েছেন। বলে রাখা ভালো, এ দীর্ঘদেহী ফুটবলাররা অন্য প্রতিপক্ষের জন্যও হুমকি হতে পারেন।
অবশ্য ফুটবলদেবীও সহায় ছিলেন না আর্জেন্টাইনদের। না হলে পেনাল্টি মিস বা কেন করবেন মেসি? ফ্রি-কিকই বা কেন মানবদেয়ালের ডেরা পার করতে পারবেন না? ক্লাবে যা হরহামেশা করে থাকেন, জাতীয় দলের হয়েও চিরচেনা দৃশ্য এটি। অথচ মূল মঞ্চে থমকে গেলেন ছোট ম্যাজিসিয়ান। জয়বঞ্চিত থাকার এটিও অন্যতম কারণ।
আরেকটি কারণ চীনের প্রাচীর হয়ে ওঠা আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক। দেবদূত হয়ে ডি মারিয়া, আগুয়েরোদের বেশ কটি ভয়ঙ্কর শট রুখে দিয়েছেন হালডারসন।
অবশ্য কৃতিত্ব দিতে হবে আইসল্যান্ড কোচ হেইমির হালগ্রিমসনকেও। দারুণ কৌশল এঁটেছেন তিনি। সর্বোপরি সাধুবাদ পাবেন মাত্র ৩ লাখ মানুষের প্রতিনিধিরাও (খেলোয়াড়রা)। গুরুর দেখানো পথ অনুসরণ করে যে মেসিদের বোতলবন্দি করে রেখেছেন তারা। শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে আইসল্যান্ডিকদেরই।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























