ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মাদক ব্যবসায়ীদের কোমরে রশি বেঁধে আদালতে হাজির করা করা হবে

ডিএমপি কমিশনার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদক ব্যবসার আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা এবং এ সংক্রান্ত মামলায় থানা-আদালতে তদবিরকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

“মাদক ব্যবসায়ী জনপ্রতিনিধি হোক, রাজনীতিবিদ হোক, সরকারি চাকরিজীবী, শিল্পপতি হোক, আমি কথা দিতে পারি তার রক্ষা হবে না, তার কোমরে রশি বেঁধে আদালতে হাজির করে বিচারের সম্মুখীন করা হবে,” বলেন ডিএমপি কমিশনার।

গত মাসের মাঝামাঝিতে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ-র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, মাদকের উৎস ও অর্থায়ন বন্ধ না করে ‘মানুষ মেরে’ এই সমস্যার সমাধান হবে না।

এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে আজিমপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয় দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি ছেড়ে সুপথে ফেরার ঘোষণা দেওয়া ১৩৮ জনকে।
ওই অনুষ্ঠানে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, যারা অর্থলগ্নি করে, আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, মামলায় তদবির করে, থানায় তদবির করে, ঘর ভাড়া দেয় তাদেরও চিহ্নিত করা হবে। তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।”

এসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এরা জাতি ও মানবতার শত্রু।”

তবে মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে কোনো নিরীহ ও নিরাপরাধ লোককে কেউ হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নিজের বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, “কোনোভাবেই সেটা বরদাস্ত করা হবে না। এটা আমরা নিশ্চিত করব, যদি কোনো অভিযোগ আসে তদন্ত করে সত্যতা পেলে কারও রেহাই হবে না।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
“যদি কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদকের সাথে জড়িত থাকে, প্রশ্রয় দেয়, বাঁচানোর চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স। মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স তার বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স। আমাদের অঙ্গীকার মাদকমুক্ত করতে হবে। দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে হবে, আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে হবে।”

দলমত নির্বিশেষে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে সাফল্য এসেছে মন্তব্য করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “দেশ-বিদেশ অবাক হয়েছে যে, কীভাবে তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ধর্ম ব্যবসায়ীরা আবার নতুন করে জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটানোর অপচেষ্টা করছে।

“আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা যারা তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে। তাদের প্রত্যেককে বিচারে সোপর্দ করা হবে। বাংলাদেশে কোনো উগ্রবাদ-সন্ত্রাস চলবে না।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

ডিএমপি লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃঞ্চপদ রায়, আজিমপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ হাসিবুর রহমানসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মাদক ছেড়ে ‘সুপথে ফেরা’ এই ১৩৮ জন ডিএমপির লালবাগ বিভাগের ছয়টি থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক গ্রহণ করে আসছিলেন। পুলিশের উদ্যোগে ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তারা আর মাদক সেবন না করার অঙ্গীকার করেছেন।

এছাড়া এই এলাকার আরও ২৫ জন মাদকসেবীকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মাদক ব্যবসায়ীদের কোমরে রশি বেঁধে আদালতে হাজির করা করা হবে

আপডেট সময় ১১:২০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদক ব্যবসার আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা এবং এ সংক্রান্ত মামলায় থানা-আদালতে তদবিরকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

“মাদক ব্যবসায়ী জনপ্রতিনিধি হোক, রাজনীতিবিদ হোক, সরকারি চাকরিজীবী, শিল্পপতি হোক, আমি কথা দিতে পারি তার রক্ষা হবে না, তার কোমরে রশি বেঁধে আদালতে হাজির করে বিচারের সম্মুখীন করা হবে,” বলেন ডিএমপি কমিশনার।

গত মাসের মাঝামাঝিতে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ-র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, মাদকের উৎস ও অর্থায়ন বন্ধ না করে ‘মানুষ মেরে’ এই সমস্যার সমাধান হবে না।

এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে আজিমপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয় দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি ছেড়ে সুপথে ফেরার ঘোষণা দেওয়া ১৩৮ জনকে।
ওই অনুষ্ঠানে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, যারা অর্থলগ্নি করে, আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, মামলায় তদবির করে, থানায় তদবির করে, ঘর ভাড়া দেয় তাদেরও চিহ্নিত করা হবে। তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।”

এসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এরা জাতি ও মানবতার শত্রু।”

তবে মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে কোনো নিরীহ ও নিরাপরাধ লোককে কেউ হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নিজের বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, “কোনোভাবেই সেটা বরদাস্ত করা হবে না। এটা আমরা নিশ্চিত করব, যদি কোনো অভিযোগ আসে তদন্ত করে সত্যতা পেলে কারও রেহাই হবে না।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
“যদি কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদকের সাথে জড়িত থাকে, প্রশ্রয় দেয়, বাঁচানোর চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স। মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স তার বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স। আমাদের অঙ্গীকার মাদকমুক্ত করতে হবে। দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে হবে, আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে হবে।”

দলমত নির্বিশেষে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে সাফল্য এসেছে মন্তব্য করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “দেশ-বিদেশ অবাক হয়েছে যে, কীভাবে তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ধর্ম ব্যবসায়ীরা আবার নতুন করে জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটানোর অপচেষ্টা করছে।

“আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা যারা তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে। তাদের প্রত্যেককে বিচারে সোপর্দ করা হবে। বাংলাদেশে কোনো উগ্রবাদ-সন্ত্রাস চলবে না।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

ডিএমপি লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃঞ্চপদ রায়, আজিমপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ হাসিবুর রহমানসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মাদক ছেড়ে ‘সুপথে ফেরা’ এই ১৩৮ জন ডিএমপির লালবাগ বিভাগের ছয়টি থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক গ্রহণ করে আসছিলেন। পুলিশের উদ্যোগে ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তারা আর মাদক সেবন না করার অঙ্গীকার করেছেন।

এছাড়া এই এলাকার আরও ২৫ জন মাদকসেবীকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে।