ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ ধর্মকে পুঁজি করে চালানো অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: আমিনুল হক

খালেদাকে সিএমএইচে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রস্তাব দেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রস্তাব দেয়া বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট বলেও জানান তিনি। উনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করানোর জন্য মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন তার ভাই শামীম ইস্কানদার।

তিন সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে আসেন আবেদনটি নিয়ে। সেই আবেদন পাওয়ার পর ইউনাইটেডের বদলে ঢাকার সিএমএইচে নেয়ার প্রস্তাব তোলেন আসাদুজ্জামান কামাল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার লক্ষ্যে তারা এখন সিএমএইচের প্রস্তাবটি দেবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া যদি সেখানে (সিএমএইচ) যেতে চান, আমরা সেখান থেকেও তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে দিতে পারি। আমরা তার চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়েছি।

বেসরকারি ইউনাইটেডকে বাদ দিয়ে কেন সিএমএইচ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালটির চেয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিএমএইচ অনেক সমৃদ্ধ। সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারও রয়েছেন। তাছাড়া সিএমএইচ অনেক ক্রাইসিস মোমেন্টে ভূমিকা রেখেছে। সেই বিবেচনায় আমরা সিএমএইচের প্রস্তাব দেব।

কারা মহাপরিদর্শকের বক্তব্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে চান না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা মনে করি, তার সিএমএইচে যাওয়া উচিৎ। আমরা এখন তাকে প্রপোজালটা দেব। তিনি কি রিঅ্যাকশন দেন, সেটা আমরা দেখব।

ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার আবেদন বিবেচনার কোনো সুযোগ রয়েছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটার কোনো যুক্তি আছে বলে আমার মনে হয় না। সিএমএইচে না যাওয়ার মতো যুক্তি আমার মনে হয় থাকতে পারে না। খালেদা জিয়া বা তার পরিবার সিএমএইচের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ‘সিচ্যুয়েশন বুঝে’পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে আজ চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আনার কথা থাকলে আনা হয়নি।

কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কিন্তু তিনি বিএসএমএমইউতে যাবেন না বলে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাই আজ তাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়া গুলশানের বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর আগে সকালে বিএসএমএমইউর পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ-আল-হারুন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়াকে বেলা ১১টায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আনা হবে।

সোমবার কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া রাজি থাকলে আজ সকালে তাকে চিকিৎসার জন্য নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার থেকে শাহবাগের বিএসএমএমইউ হাসপাতালে আনা হবে।

কারা মহাপরিদর্শক নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন, তিনি চাইলে তাকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে নেয়া হবে।

তবে ওই সময় খালেদা জিয়া জানান, তিনি এর আগেও বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এখন আর তিনি এ হাসপাতালে যেতে চান না। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার আগ্রহের কথা বলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়া বিএসএমইউতে চিকিৎসার বিষয়ে আস্থাশীল নন। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান। তবে সোমবারই কারা মহাপরিদর্শক ইফতেখার উদ্দিন বলেছেন, জেল কোড অনুযায়ী সরকারি অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএসএমএমইউ চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী সর্বোচ্চ সরকারি প্রতিষ্ঠান। যদি সেখানে তার চিকিৎসার বিষয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকে, তাহলে বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার প্রশ্ন আসে।

এ বিষয়ে সোমবার বিকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালে উন্নতমানের চিকিৎসার দাবি উপেক্ষা করে সরকার খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে চলেছে।

বিএনপি মুখপাত্র অভিযোগ করেন, বিএসএমএমইউতে সব দলবাজ চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তো আগেই সেখান থেকে চাকরিচ্যুত করে বিদায় দিয়ে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলবাজ চিকিৎসকদের দিয়ে তার যথাযথ চিকিৎসা হবে না।

বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের প্রতি খালেদা জিয়ার কোনো আস্থা নেই দাবি করে রিজভী অভিযোগ করেন, তারপরেও সরকার জবরদস্তিমূলকভাবে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলা দুরভিসন্ধিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। পুরাতন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে খালেদা জিয়াকে প্রথমে জেল সুপারের পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলা ওয়ার্ডে।

বন্দি জীবনে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার দাবি করার পর গত এপ্রিলের শুরুতে তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বিএসএমএমইউতে আনা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে ওই দিনই তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নেয়া হয়। এরপর এপ্রিল ও মে মাসে একাধিকবার বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কারাগারে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

গত শনিবার খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা দেখে এসে বলেছিলেন, গত ৫ জুন বিএনপি নেত্রীর ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছিল বলে তারা ধারণা করছেন। সে কারণে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলংকায় শুটিং ফেলে কক্সবাজারে শাকিব খান

খালেদাকে সিএমএইচে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রস্তাব দেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:০৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রস্তাব দেয়া বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট বলেও জানান তিনি। উনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করানোর জন্য মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন তার ভাই শামীম ইস্কানদার।

তিন সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে আসেন আবেদনটি নিয়ে। সেই আবেদন পাওয়ার পর ইউনাইটেডের বদলে ঢাকার সিএমএইচে নেয়ার প্রস্তাব তোলেন আসাদুজ্জামান কামাল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার লক্ষ্যে তারা এখন সিএমএইচের প্রস্তাবটি দেবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া যদি সেখানে (সিএমএইচ) যেতে চান, আমরা সেখান থেকেও তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে দিতে পারি। আমরা তার চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়েছি।

বেসরকারি ইউনাইটেডকে বাদ দিয়ে কেন সিএমএইচ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালটির চেয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিএমএইচ অনেক সমৃদ্ধ। সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারও রয়েছেন। তাছাড়া সিএমএইচ অনেক ক্রাইসিস মোমেন্টে ভূমিকা রেখেছে। সেই বিবেচনায় আমরা সিএমএইচের প্রস্তাব দেব।

কারা মহাপরিদর্শকের বক্তব্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে চান না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা মনে করি, তার সিএমএইচে যাওয়া উচিৎ। আমরা এখন তাকে প্রপোজালটা দেব। তিনি কি রিঅ্যাকশন দেন, সেটা আমরা দেখব।

ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার আবেদন বিবেচনার কোনো সুযোগ রয়েছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটার কোনো যুক্তি আছে বলে আমার মনে হয় না। সিএমএইচে না যাওয়ার মতো যুক্তি আমার মনে হয় থাকতে পারে না। খালেদা জিয়া বা তার পরিবার সিএমএইচের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ‘সিচ্যুয়েশন বুঝে’পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে আজ চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আনার কথা থাকলে আনা হয়নি।

কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কিন্তু তিনি বিএসএমএমইউতে যাবেন না বলে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাই আজ তাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়া গুলশানের বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর আগে সকালে বিএসএমএমইউর পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ-আল-হারুন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়াকে বেলা ১১টায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আনা হবে।

সোমবার কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া রাজি থাকলে আজ সকালে তাকে চিকিৎসার জন্য নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার থেকে শাহবাগের বিএসএমএমইউ হাসপাতালে আনা হবে।

কারা মহাপরিদর্শক নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন, তিনি চাইলে তাকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে নেয়া হবে।

তবে ওই সময় খালেদা জিয়া জানান, তিনি এর আগেও বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এখন আর তিনি এ হাসপাতালে যেতে চান না। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার আগ্রহের কথা বলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়া বিএসএমইউতে চিকিৎসার বিষয়ে আস্থাশীল নন। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান। তবে সোমবারই কারা মহাপরিদর্শক ইফতেখার উদ্দিন বলেছেন, জেল কোড অনুযায়ী সরকারি অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএসএমএমইউ চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী সর্বোচ্চ সরকারি প্রতিষ্ঠান। যদি সেখানে তার চিকিৎসার বিষয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকে, তাহলে বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার প্রশ্ন আসে।

এ বিষয়ে সোমবার বিকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালে উন্নতমানের চিকিৎসার দাবি উপেক্ষা করে সরকার খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে চলেছে।

বিএনপি মুখপাত্র অভিযোগ করেন, বিএসএমএমইউতে সব দলবাজ চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তো আগেই সেখান থেকে চাকরিচ্যুত করে বিদায় দিয়ে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলবাজ চিকিৎসকদের দিয়ে তার যথাযথ চিকিৎসা হবে না।

বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের প্রতি খালেদা জিয়ার কোনো আস্থা নেই দাবি করে রিজভী অভিযোগ করেন, তারপরেও সরকার জবরদস্তিমূলকভাবে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলা দুরভিসন্ধিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। পুরাতন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে খালেদা জিয়াকে প্রথমে জেল সুপারের পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলা ওয়ার্ডে।

বন্দি জীবনে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার দাবি করার পর গত এপ্রিলের শুরুতে তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বিএসএমএমইউতে আনা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে ওই দিনই তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নেয়া হয়। এরপর এপ্রিল ও মে মাসে একাধিকবার বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কারাগারে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

গত শনিবার খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা দেখে এসে বলেছিলেন, গত ৫ জুন বিএনপি নেত্রীর ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছিল বলে তারা ধারণা করছেন। সে কারণে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন।