ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

আবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনা হচ্ছে খালেদাকে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

খালেদা জিয়া মাইল্ড স্ট্রোক করেছিলেন বলে তার তিন জন ব্যক্তিগত চিকিৎসক দাবি করার পরদিন রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আইনমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সরকার অবগত। আজকেই তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হবে।’

কখন বিএনপি নেত্রীকে হাসপাতালে নেয়া হবে, এই প্রশ্নে অবশ্য মন্ত্রী কোনো সময় জানাতে পারেননি। বলেন, ‘আমি সময় জানি না।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। ২৮ মার্চ তার অসুস্থতার বিষয়ে গুঞ্জন শোনা যায়, আর ১ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড।

এই বোর্ডের পরামর্শে গত ৭ এপ্রিল বিএনপি নেত্রীর বেশ কিছু এক্সরে করা হয় বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দাবি করা হচ্ছে।

এর মধ্যে ৯ জুন খালেদা জিয়াকে কারাগারে দেখে আসেন তার তিন জন ব্যক্তিগত চিকিৎসক। এরা হলেন: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী, ডেল্টা মেডিকেলের নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চক্ষু বিশেষজ্ঞ আবদুল কুদ্দুস এবং কার্ডিওলজিস্ট মোহাম্মদ মামুন।

এদের মধ্যে এফ এম সিদ্দিকী দাবি করেছেন, ‘গত ৫ জুন তিনি (খালেদা) হঠাৎ করে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি ওই সময়টার কথা বলতে পারছেন না। তার একটি মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসকরা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার কথা মতো মনে হয় তার একটা মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল। সেটার পর আজকে তাকে যে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার…যে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয় মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে কি না, সেই ব্যাপারে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়ে যাওয়া হবে বলে আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।’

তবে চিকিৎসকরা যে দাবি করেছেন, তার সঙ্গে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্নতা আছে। তিনি বলেন, ‘খুব সম্ভবত গত পরশু দিন তিনি (খালেদা জিয়া) রোজা রেখেছিলেন। রোজা রাখার পর বিকেল তিনটা সাড়ে তিনটার দিতে হেলে পড়ে যাচ্ছিলেন তখন তার যে একটা লোক আছে ফাতেমা.. সে তাকে ধরে ফেলে এবং তাৎক্ষণিক জেলের ডাক্তাররা তাকে দেখেন।’

‘দেখার পর…তিনি যেহেতু রোজা রেখেছিলেন তার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল বলে তারা জানান। একটা চকলেট খাওয়ার পর তা রিভাইভ করে।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা যে দাবি করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এমন কিছুই ঘটেনি। আর আজ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল। কিন্তু তার পড়ে যাওয়ার কথা সত্য নয়। চিকিৎসকরা বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছেন।

খালেদা জিয়ার যে চারজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক কারাগারে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে তিন জন গত ২৮ এপ্রিল বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন। এদের মধ্যে সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান সেদিন জানান, কারাগারে থাকলে খালেদা জিয়া প্যারালাইডজ হয়ে যেতে পারেন। আর আবদুল কুদ্দুস দাবি করেন, খালেদা জিয়া অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। অন্য একজন চিকিৎসক দাবি করেন, খালেদা জিয়ার প্রস্রাব পায়খানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তবে এই চিকিৎসকরা শনিবার কারাগারে বিএনপি নেত্রীকে দেখে এসে বক্তব্য দেয়ার পর বিএনপি আবারও তাদের নেত্রীকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তাদের নেত্রীকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নেয়ার পক্ষে না। তার দাবি, দেশের অন্যতম প্রধান হাসপাতালটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কিন্তু বেসরকারি ইউনাইটেডে সব সুযোগ সুবিধা আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনা হচ্ছে খালেদাকে

আপডেট সময় ০১:১২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

খালেদা জিয়া মাইল্ড স্ট্রোক করেছিলেন বলে তার তিন জন ব্যক্তিগত চিকিৎসক দাবি করার পরদিন রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আইনমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সরকার অবগত। আজকেই তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হবে।’

কখন বিএনপি নেত্রীকে হাসপাতালে নেয়া হবে, এই প্রশ্নে অবশ্য মন্ত্রী কোনো সময় জানাতে পারেননি। বলেন, ‘আমি সময় জানি না।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। ২৮ মার্চ তার অসুস্থতার বিষয়ে গুঞ্জন শোনা যায়, আর ১ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড।

এই বোর্ডের পরামর্শে গত ৭ এপ্রিল বিএনপি নেত্রীর বেশ কিছু এক্সরে করা হয় বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দাবি করা হচ্ছে।

এর মধ্যে ৯ জুন খালেদা জিয়াকে কারাগারে দেখে আসেন তার তিন জন ব্যক্তিগত চিকিৎসক। এরা হলেন: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী, ডেল্টা মেডিকেলের নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চক্ষু বিশেষজ্ঞ আবদুল কুদ্দুস এবং কার্ডিওলজিস্ট মোহাম্মদ মামুন।

এদের মধ্যে এফ এম সিদ্দিকী দাবি করেছেন, ‘গত ৫ জুন তিনি (খালেদা) হঠাৎ করে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি ওই সময়টার কথা বলতে পারছেন না। তার একটি মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসকরা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার কথা মতো মনে হয় তার একটা মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল। সেটার পর আজকে তাকে যে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার…যে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয় মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে কি না, সেই ব্যাপারে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়ে যাওয়া হবে বলে আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।’

তবে চিকিৎসকরা যে দাবি করেছেন, তার সঙ্গে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্নতা আছে। তিনি বলেন, ‘খুব সম্ভবত গত পরশু দিন তিনি (খালেদা জিয়া) রোজা রেখেছিলেন। রোজা রাখার পর বিকেল তিনটা সাড়ে তিনটার দিতে হেলে পড়ে যাচ্ছিলেন তখন তার যে একটা লোক আছে ফাতেমা.. সে তাকে ধরে ফেলে এবং তাৎক্ষণিক জেলের ডাক্তাররা তাকে দেখেন।’

‘দেখার পর…তিনি যেহেতু রোজা রেখেছিলেন তার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল বলে তারা জানান। একটা চকলেট খাওয়ার পর তা রিভাইভ করে।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা যে দাবি করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এমন কিছুই ঘটেনি। আর আজ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল। কিন্তু তার পড়ে যাওয়ার কথা সত্য নয়। চিকিৎসকরা বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছেন।

খালেদা জিয়ার যে চারজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক কারাগারে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে তিন জন গত ২৮ এপ্রিল বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন। এদের মধ্যে সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান সেদিন জানান, কারাগারে থাকলে খালেদা জিয়া প্যারালাইডজ হয়ে যেতে পারেন। আর আবদুল কুদ্দুস দাবি করেন, খালেদা জিয়া অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। অন্য একজন চিকিৎসক দাবি করেন, খালেদা জিয়ার প্রস্রাব পায়খানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তবে এই চিকিৎসকরা শনিবার কারাগারে বিএনপি নেত্রীকে দেখে এসে বক্তব্য দেয়ার পর বিএনপি আবারও তাদের নেত্রীকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তাদের নেত্রীকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নেয়ার পক্ষে না। তার দাবি, দেশের অন্যতম প্রধান হাসপাতালটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কিন্তু বেসরকারি ইউনাইটেডে সব সুযোগ সুবিধা আছে।