আকাশ বিনোদন ডেস্ক:
বাংলা গানের মান যাঁরা বদলে দিলেন কবীর সুমন তাদের একজন। কবীর সুমনের স্পর্শে বাংলা গান শুধু সমৃদ্ধই হয় না, বরং খুঁজে পায় নতুন দিশা। তার গানের বিষয়বস্তু হয় রাজনীতি, ধর্ম,দর্শন, সমাজ। যা আগে কেউ ভাবেওনি হয়তো। অনায়াসে শাসক আর শোষকদের নির্মম সত্য বলে দিতে পারেন গানের মাধ্যমে। বুক টান করে সমাজের সঙ্গতি আর অসঙ্গতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারেন গানের মাধ্যমেই।
তার কণ্ঠে বাংলা গানে সূচনা হয় এক নতুন ধারার। সুমনের গানের মাধ্যমে মানুষ আরাম খুঁজে পায়, শান্তি খুঁজে পায়, মনকে হারিয়ে ফেলার উন্মাদনা খুঁজে পায়। তার গান মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। অনুভূতিকে স্পর্শ করে। কন্ঠ,সুর আর গানের কথায় মগ্ন হয় মানুষ।
প্রকৃতপক্ষে বাংলা গানের মানেই বদলে দিয়েছেন কবীর সুমন। যেখানেই অনাচার, সেখানেই প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের বাণী নিয়ে হাজির হয়েছেন কবীর সুমন।
সম্প্রতি সময় নিউজ ডট টিভির এক সাক্ষাতকারে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমারও নেতা। আমি কিন্তু ভারতের নাগরিক হিসেবেই বলছি। বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নেতা নয় তিনি সবার নেতা। তিনি যখন কলকাতায় আসেন তখন আমার বাবা, মা আর আমি রেডিও’র সামনে বসে ছিলাম। তিনি যখন (কারাগার) ছাড়া পেয়ে কলকাতায় আসেন।
তখন তিনি বিমানবন্দরে নেমে বলছিলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা বসেছিলাম আমাদের বাসায়, রেডিওর সামনে। তাঁকে চোখেও দেখিনি। কিন্তু আমরা তিনজন সেদিন দাঁড়িয়ে উঠেছিলাম, আর কেঁদেছিলাম। আমি কিন্তু তাকে কখনও চোখেও দেখিনি। তিনি আমার নেতা আজও। শুধু একটাই আফসোস আমার, যদি একবার তাকে নিজের চোখে দেখতাম। কিন্তু পেলাম না…’
বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ই মার্চের যে ভাষণ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭ই মার্চের যে ভাষণ সেটি জাতির ভাষণ। এব্যাপার আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম উচ্চারণ, আমার গর্ব। আমার আত্মপরিচয়, আমার জাতীয় পরিচয় ঐখানে। বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমার গর্ব।
তিনি যেভাবে একা দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছেন, এটা কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। সেই ঘোষণার পরে আমি ভেবে দেখেছি আমার গান করার যে জায়গা, সেটা কিন্তু ঐ ধাক্কা থেকেই এসেছে। একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে বাংলা গান গাইব। এ পর্যন্ত আমরা মিনমিন করে গাইতাম। কিন্তু বঙ্গবন্ধু মিন মিনে লোকের নেতা নয়। তিনি একটা লড়াকু জাতির নেতা।
ওঁর রাজনীতি নিয়ে আমি ইন্টারেস্টেড না। আমি শুধু এইটুকু জানি, সেদিন তিনজন কাঁদতে কাঁদতে দাঁড়িয়েছিল। সেদিন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম এই জায়গাটা আমাদের। তিনি যেভাবে ভাষণ দিয়েছিলেন, তখন আমার মনে হচ্ছিল, আমি বাংলাদেশে চলে যাই। ঐখানে আমার জায়গা। আর বাংলাদেশের যে জায়গাটা সেটি বঙ্গবন্ধুর ভাষণের জন্য।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















