ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ কোনও ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : ইলিয়াসপত্নী লুনা অবশেষে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত ইসলামী নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব: চরমোনাই পীর পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের আমানত : রাশেদ খাঁন ফান্ড তৈরি করে বেকার শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করব: তাসনিম জারা উত্তরায় ফার্নিচার মার্কেটে আগুন

সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: মান্না

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে নিহতদের নাম-পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। বলেছেন, ‘প্রমাণ ছাড়া যদি বদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না যায় তাহলে যারা এই অভিযানে মারা গেছেন তাদের নাম পরিচয়, কী কী অভিযোগ, কী মামলায় কী প্রমাণ তাদের বিরুদ্ধে যেটা প্রকাশ করতে হবে। অপেক্ষা করুন দিন আসবে এই রোজার মাসে বলছি, এর সঙ্গে জড়িতদের কাউকে ছাড়বো না।’

রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে একটি হোটেলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ইফতারে এই হুঁশিয়ারি দেন মান্না।

গত ৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামে র‌্যাব। পরে এই অভিযানে যোগ দেয় পুলিশ। শুরুর দিকে প্রাণহানি কম থাকলেও গত আট দিনেই নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮০। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০ এক কোটায়।

২০০৪ সালে সেনা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ক্রসফায়ার শুরুর পর থেকে যে রকম বর্ণনা এসেছে, এবারের মাদকবিরোধী অভিযানেও একই রকম বর্ণনা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্দেজভাজনকে আটকের জন্য অভিযানে গেলে বা তাদেরকে নিয়ে অভিযাগে গেলে গোলাগুলির এক পর্যায়ে নিহত হচ্ছেন সন্দেহভাজনরা।

যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই বর্ণনা কখনও বিশ্বাসযোগ্য ছিল না। আর বিএনপি এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করছে। পুলিশ যেটাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলছে, বিএনপি তাকে বলছে হত্যা। তারা সন্দেজভাজনদের বিচারের মুখোমুখি করার পক্ষে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সাবেক একজন রাষ্ট্রপতি বললেন সরকারি দলের একজন এমপি মাদকের সঙ্গে জড়িত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তো অনেক পাই কিন্তু প্রমাণ তো পাই না। যদি প্রমাণ ছাড়া বদির চুল ধরা না যায় তাহলে প্রমাণ ছাড়া এখন পর্যন্ত যে ৬৪ জন গুলি করে মেরেছেন তার সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। জবাব দিতে হবে। তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

ভয়ের সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা চলছে দাবি করে মান্না বলেন, ‘কেউ কেউ আমাকে বলছেন, এরপর অস্ত্র উদ্ধারের নামে অভিযান হবে, পরে চোরাকারবারি ধরার নামে অভিযান হবে। ক্রসফায়ার চলতেই থাকবে। এরমধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।’

নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ, ছোটখাটো ভুল নিয়ে বিরোধ বাড়ানোর সুযোগ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সবাই যাতে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি পাই সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। সরকার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেবে না। যদি দিত তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার একটি জামিন নিয়ে এভাবে তাল্টিবাল্টি করত না।’

মান্না বলেন, ‘শুধু যদি মনে করেন জোট বেঁধে নির্বাচন করলেই আমরা জিতে যাবো তাহলেও পারবেন না। সেটা খুলনার নির্বাচনে শিক্ষা দিয়েছে। আর একটি শিক্ষা আমাদের গাজীপুরে দিতে চায়। গাজীপুরে সেই লড়াই করার প্রস্তুতি নেন। যাতে করে সব হত্যা, গুম, সবধরনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি। ঐক্যবদ্ধ মানে এক মঞ্চ বলছি না, সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা

সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: মান্না

আপডেট সময় ০৭:৪০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে নিহতদের নাম-পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। বলেছেন, ‘প্রমাণ ছাড়া যদি বদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না যায় তাহলে যারা এই অভিযানে মারা গেছেন তাদের নাম পরিচয়, কী কী অভিযোগ, কী মামলায় কী প্রমাণ তাদের বিরুদ্ধে যেটা প্রকাশ করতে হবে। অপেক্ষা করুন দিন আসবে এই রোজার মাসে বলছি, এর সঙ্গে জড়িতদের কাউকে ছাড়বো না।’

রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে একটি হোটেলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ইফতারে এই হুঁশিয়ারি দেন মান্না।

গত ৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামে র‌্যাব। পরে এই অভিযানে যোগ দেয় পুলিশ। শুরুর দিকে প্রাণহানি কম থাকলেও গত আট দিনেই নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮০। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০ এক কোটায়।

২০০৪ সালে সেনা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ক্রসফায়ার শুরুর পর থেকে যে রকম বর্ণনা এসেছে, এবারের মাদকবিরোধী অভিযানেও একই রকম বর্ণনা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্দেজভাজনকে আটকের জন্য অভিযানে গেলে বা তাদেরকে নিয়ে অভিযাগে গেলে গোলাগুলির এক পর্যায়ে নিহত হচ্ছেন সন্দেহভাজনরা।

যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই বর্ণনা কখনও বিশ্বাসযোগ্য ছিল না। আর বিএনপি এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করছে। পুলিশ যেটাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলছে, বিএনপি তাকে বলছে হত্যা। তারা সন্দেজভাজনদের বিচারের মুখোমুখি করার পক্ষে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সাবেক একজন রাষ্ট্রপতি বললেন সরকারি দলের একজন এমপি মাদকের সঙ্গে জড়িত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তো অনেক পাই কিন্তু প্রমাণ তো পাই না। যদি প্রমাণ ছাড়া বদির চুল ধরা না যায় তাহলে প্রমাণ ছাড়া এখন পর্যন্ত যে ৬৪ জন গুলি করে মেরেছেন তার সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। জবাব দিতে হবে। তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

ভয়ের সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা চলছে দাবি করে মান্না বলেন, ‘কেউ কেউ আমাকে বলছেন, এরপর অস্ত্র উদ্ধারের নামে অভিযান হবে, পরে চোরাকারবারি ধরার নামে অভিযান হবে। ক্রসফায়ার চলতেই থাকবে। এরমধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।’

নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ, ছোটখাটো ভুল নিয়ে বিরোধ বাড়ানোর সুযোগ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সবাই যাতে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি পাই সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। সরকার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেবে না। যদি দিত তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার একটি জামিন নিয়ে এভাবে তাল্টিবাল্টি করত না।’

মান্না বলেন, ‘শুধু যদি মনে করেন জোট বেঁধে নির্বাচন করলেই আমরা জিতে যাবো তাহলেও পারবেন না। সেটা খুলনার নির্বাচনে শিক্ষা দিয়েছে। আর একটি শিক্ষা আমাদের গাজীপুরে দিতে চায়। গাজীপুরে সেই লড়াই করার প্রস্তুতি নেন। যাতে করে সব হত্যা, গুম, সবধরনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি। ঐক্যবদ্ধ মানে এক মঞ্চ বলছি না, সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’