ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

অপ্রয়োজনীয় সিজার করলে হাসপাতাল বন্ধ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অপ্রয়োজনীয় সিজার করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। প্রয়োজনে হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।

রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুশিয়ারি দেন।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৭০-৮০ শতাংশ গর্ভবতীকে বাচ্চা প্রসবের জন্য সিজার করা হচ্ছে। নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি কখনই আমাদের কাম্য নয়।

স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ, সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব প্রতি হাজারে ১৫-২০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অকারণে সিজার কমাতে আমরা একটি ফর্ম তৈরি করে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে পাঠিয়েছি। সেখানে রোগীর পুরো তথ্য দিতে হবে। অপ্রয়োজনে সিজার করে মায়ের ক্ষতি করে দিলেন, কেন তাকে সিজার করতে হলো, কি কি অসুবিধা ছিল, মায়ের অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা, স্বামীর অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা, কি কি জটিলতা ছিল- সব কিছু উল্লেখ করতে হবে। এই ফরমটি আমাদের কাছে এলে তা দেখার পর বোঝা যাবে অপারেশনটি প্রয়োজন ছিল কিনা। এ ছাড়া আমরা হাসপাতালগুলোতে নির্দেশনা দিয়েছি বিনাকারণে, অপ্রয়োজনে সিজার না করার জন্য।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে সিজারের হার অনেক বেড়ে গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বাচ্চা প্রসব হয় ৪২ শতাংশ। সরকারি হাসপাতালে ২৫-৩০ শতাংশ মায়ের সিজারে বাচ্চা প্রসব করানো হয়। আমরা সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব কমাতে মিডওয়াইফ তৈরির ওপর জোর দিয়েছি। চিকিৎসকের মাধ্যমে করাতে গেলেই সিজারে চলে যায়। কারণ চিকিৎসকরা সময় দিতে চান না। একটি দিন ধৈর্য ধরেন। বিশ্বব্যাপী প্রসবগুলো মিডওয়াইফরাই করে থাকেন। এ জন্য ৩৪ হাজার মিডওয়াইফকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ১৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, গর্ভবতী ও প্রসব-পরবর্তী সেবার জন্য সারা দেশের ৩৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে বিনামূল্যে ওষুধ এবং পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দরিদ্র মায়ের পুষ্টিহীনতা দূর করতে মাতৃত্বকালীন ভাতা ও প্রসবের সময় হাসপাতালে যাওয়ার জন্য ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়া হচ্ছে। মাতৃমৃত্যু হার এখন হাজারে ১৭৬ ও শিশুমৃত্যু ২১ জন। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শিশুমৃত্যু হার ১২ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, সব ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও পোশাক কারখানায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

অপ্রয়োজনীয় সিজার করলে হাসপাতাল বন্ধ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অপ্রয়োজনীয় সিজার করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। প্রয়োজনে হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।

রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুশিয়ারি দেন।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৭০-৮০ শতাংশ গর্ভবতীকে বাচ্চা প্রসবের জন্য সিজার করা হচ্ছে। নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি কখনই আমাদের কাম্য নয়।

স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ, সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব প্রতি হাজারে ১৫-২০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অকারণে সিজার কমাতে আমরা একটি ফর্ম তৈরি করে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে পাঠিয়েছি। সেখানে রোগীর পুরো তথ্য দিতে হবে। অপ্রয়োজনে সিজার করে মায়ের ক্ষতি করে দিলেন, কেন তাকে সিজার করতে হলো, কি কি অসুবিধা ছিল, মায়ের অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা, স্বামীর অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা, কি কি জটিলতা ছিল- সব কিছু উল্লেখ করতে হবে। এই ফরমটি আমাদের কাছে এলে তা দেখার পর বোঝা যাবে অপারেশনটি প্রয়োজন ছিল কিনা। এ ছাড়া আমরা হাসপাতালগুলোতে নির্দেশনা দিয়েছি বিনাকারণে, অপ্রয়োজনে সিজার না করার জন্য।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে সিজারের হার অনেক বেড়ে গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বাচ্চা প্রসব হয় ৪২ শতাংশ। সরকারি হাসপাতালে ২৫-৩০ শতাংশ মায়ের সিজারে বাচ্চা প্রসব করানো হয়। আমরা সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব কমাতে মিডওয়াইফ তৈরির ওপর জোর দিয়েছি। চিকিৎসকের মাধ্যমে করাতে গেলেই সিজারে চলে যায়। কারণ চিকিৎসকরা সময় দিতে চান না। একটি দিন ধৈর্য ধরেন। বিশ্বব্যাপী প্রসবগুলো মিডওয়াইফরাই করে থাকেন। এ জন্য ৩৪ হাজার মিডওয়াইফকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ১৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, গর্ভবতী ও প্রসব-পরবর্তী সেবার জন্য সারা দেশের ৩৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে বিনামূল্যে ওষুধ এবং পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দরিদ্র মায়ের পুষ্টিহীনতা দূর করতে মাতৃত্বকালীন ভাতা ও প্রসবের সময় হাসপাতালে যাওয়ার জন্য ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়া হচ্ছে। মাতৃমৃত্যু হার এখন হাজারে ১৭৬ ও শিশুমৃত্যু ২১ জন। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শিশুমৃত্যু হার ১২ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, সব ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও পোশাক কারখানায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।