অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীতে রোববার দুপুরে অভিযান চালায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, ওজনে কম, বেশি দাম নেওয়ায় অভিযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া নিউমার্কেটের পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রির দায়ে ৯ ফাস্টফুডের দোকানকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, রোববার দুপুরের দিকে বনানীতে ‘স্বপ্ন’ এর আউটলেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিভিন্ন পণ্যের মান খতিয়ে দেখা হয়।
সারওয়ার আলম বলেন, স্বপ্নের বনানী সুপারশপে দেখা গেছে তারা বিভিন্ন ব্রান্ডের কোমল পানীয়র মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা তারিখ পরিবর্তন করে সেগুলো বিক্রি করছে। এছাড়া যেসব দুধ বা জুসের মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে তা বিক্রি করছে।
একই সুপারশপে দেখা যায়, স্টোররুমে তারা মেয়াদ উত্তীর্ণ ও মেয়াদ আছে এমন পণ্য এক সঙ্গে রেখেছে। এ ছাড়া গরুর মাংস ৪৫০ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও তারা বিক্রি করছিল ৫৫০ টাকায়।
সারওয়ার জানান, এই সুপারশপে একটি পণ্যের গায়ে লেখা আছে ৯৮ টাকা আর তারা নিচ্ছিল ১৬৭ টাকা। এ ছাড়াও পাঁচ কেজির পেঁয়াজ ২০০ গ্রাম কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে স্বপ্নের বনানী সুপারশপকে জরিমানা করা হয়েছে।
র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘তাদের ওখানে মেয়াদ ছাড়া পাওয়া পণ্য জব্দ করে না নষ্ট করা হয়েছে। তাদেরকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সকল অব্যবস্থাপনা ঠিক না হলে আবারও জরিমানা করা হবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।’
২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর স্বপ্নের একই শাখাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অভিযানে।
নিউ মার্কেট:
দুপুর পৌনে ১টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মসিউর রহমান নিউ মার্কেটের ২৫১/২৬২ ক্যাপিটাল ফাস্টফুড নামক দোকানে ঢুকেন। ফ্রিজ খুলতেই দেখতে পান তেলাপোকায় খাওয়া আপেল। এটা কী? জিজ্ঞাসা করতেই কর্মচারীদের চোখ ছানাবড়া। একই সঙ্গে দেখা যায়, দোকানটিতে ফাঙ্গাস যুক্ত কাবাব, নষ্ট চিকেন ফ্রাইড রাইস। এসব দেখে মসিউর রহমান এক কর্মচারীকে আটকের নির্দেশ দেন।
একই অবস্থা দেখা যায়, ওয়েস্টার্ন ফুড, অ্যারোমা ফুড, কিং ফুড, ক্যাপিটাল ফুড, আল-আমিন ফুড, সৈকত ফুড, ক্যাপ্রি ফুড, ফুড পার্ক নামক ফাস্টফুডের দোকানেও। পঁচা দই, ছত্রাক পড়া জালি কাবাব, পুরনো চটপটিতে ভরপুর ছিল এসব দোকান।
এসব খাবার বাইরে রাখতেই ভনভন করে মাছি উড়তে থাকে। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ওই দোকানগুলোর মালিকরা পালিয়ে যান। মালিকদের না পাওয়ায় প্রত্যেক দোকানের একজন কর্মীকে আটক করে দণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান শেষে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান জানান, পঁচা বাসি খাবার রাখার দায়ে কিংস ফাস্ট ফুডের মো. জহিরকে ৫০ হাজার টাকা, ক্যাপ্রে ফাস্ট ফুডের মো. সোহাগকে ৫০ হাজার টাকা, পেঞ্জি জুস কর্ণারের মো. ইব্রাহিমকে ৫০ হাজার টাকা, ওয়েলকাম ফাস্ট ফুডের মো. তৌহিদুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা, ফুড কর্ণারের মো. মুসা বাহাদুরকে এক লক্ষ টাকা, আল-আমিন ড. ফুডের ইউনুছকে ৫০ হাজার টাকা, সৈকত ফাস্ট ফুডের মো. মোশারফ হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা, ক্যাপিটাল ফাস্ট ফুডের মো. রাজিবকে ৫০ হাজার টাকা ও আল জাবের ফাস্ট ফুডের ফয়সালকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























