ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হুইপ আতিকের কুশপুতুলে মতিয়া অনুসারীদের আগুন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন তার অনুসারীরা।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমানের আতিকের দলীয় পদ ও জাতীয় সংসদের হুইপের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে শহরে ঝাড়ু মিছিল, কুশপত্তলিকা দাহ ও সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের একাংশ।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহার ও শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক চানসহ পাঁচজনকে বহিষ্কার এবং নালিতাবাড়ী উপজেলা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিবাদে এ দাবি তোলা হয়।

রবিবার বিকালে শহরের খরমপুরস্থ জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, হুইপ আতিক বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ত্যাগী আওয়ামী লীগারদের পাশ কাটিয়ে রাজাকার সন্তানদের নিয়ে একটি পকেট কমিটি করেছে। যার প্রতিকারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি রিভিউ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে। যা বর্তমানে দলীয় ট্রাইবুন্যালে আছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছানোয়ার হোসেন ছানু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওয়াদুদ অদু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুন্নহার কামাল সহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

প্রসঙ্গত, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে জেলা থেকে প্রত্যাহার এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী- ঝিনাইগাতী) আসনের এমপি ফজলুল হক চানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাতিল করা হয়। শনিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বহিষ্কার অন্য চারজন হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুন্নাহার কামাল, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক ও নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ।

এছাড়া নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহকে অব্যাহতি দিয়ে তার স্থলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ বোরহান উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

শনিবার শহরের চকবাজার জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ সভা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিকের সভাপতিত্বে সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫২ জন উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের এনজিও ঋণ শোধের দায়িত্ব নেবে সরকার: মির্জা ফখরুল

হুইপ আতিকের কুশপুতুলে মতিয়া অনুসারীদের আগুন

আপডেট সময় ০৬:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন তার অনুসারীরা।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমানের আতিকের দলীয় পদ ও জাতীয় সংসদের হুইপের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে শহরে ঝাড়ু মিছিল, কুশপত্তলিকা দাহ ও সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের একাংশ।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহার ও শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক চানসহ পাঁচজনকে বহিষ্কার এবং নালিতাবাড়ী উপজেলা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিবাদে এ দাবি তোলা হয়।

রবিবার বিকালে শহরের খরমপুরস্থ জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, হুইপ আতিক বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ত্যাগী আওয়ামী লীগারদের পাশ কাটিয়ে রাজাকার সন্তানদের নিয়ে একটি পকেট কমিটি করেছে। যার প্রতিকারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি রিভিউ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে। যা বর্তমানে দলীয় ট্রাইবুন্যালে আছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছানোয়ার হোসেন ছানু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওয়াদুদ অদু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুন্নহার কামাল সহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

প্রসঙ্গত, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে জেলা থেকে প্রত্যাহার এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী- ঝিনাইগাতী) আসনের এমপি ফজলুল হক চানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাতিল করা হয়। শনিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বহিষ্কার অন্য চারজন হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুন্নাহার কামাল, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক ও নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ।

এছাড়া নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহকে অব্যাহতি দিয়ে তার স্থলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ বোরহান উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

শনিবার শহরের চকবাজার জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ সভা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিকের সভাপতিত্বে সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫২ জন উপস্থিত ছিলেন।