অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বর্তমান সরকার তার দুই মেয়াদে দেশে ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করলেও বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী সরকারকে ‘উন্নয়ন প্রতিবন্ধী’ আখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, নাগরিক সুবিধার অভাবে দেশবাসীর জীবন যাপন কঠিন হয়ে গেছে।
রবিবার সকালে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘এদেশে প্রকৃত উন্নয়ন থেকে দূরে থাকা মানুষের ন্যূনতম নাগরিক সেবাটুকুও ধ্বংস হয়ে গেছে।’
রোজায় দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্যাস ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘গ্যাস সংকটে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের চুলা জ্বলছে না, ফলে সেহরি ও ইফতার তৈরি করতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পানি সংকট। আর এ কারণে মানুষ রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ওজু কিংবা গোসলের পানিও পাচ্ছে না।’
‘বিভিন্ন এলাকায় পানির জন্য হাহাকার চলছে, হাড়ি পাতিল নিয়ে মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করছে।’bগ্রামে গ্রামে ভয়াবহ ‘বিদ্যুৎ বিপর্যয়’ চলছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘সেখানে এখন বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে।’
‘ইফতার, সেহরি ও তারাবির নামাজের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার সরকারি ঘোষণা জনগণের সঙ্গে খাঁটি প্রহসন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে তুবড়ি ছোটানো উন্নয়ন সড়ক-মহাসড়কের খানাখন্দে লুটোপুটি খাচ্ছে।’
ঈদের আগেই সারাদেশের সড়ক সংস্কারে সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘোষণারও সমালোচনা করেন রিজভী। বলেন, ‘মূলত ঈদের আগে ক্ষমতাসীন লোকজনের পকেট ভারী করতেই এই সংস্কার প্রকল্প।’
‘যারা সারা বছর মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে রাখে তারা কোন আরব্য রজনীর দৈত্যকে দিয়ে ঈদের কয়েকদিন আগে সব রাস্তাঘাট মেরামত করে ফেলবেন সেটি কারও উপলব্ধিতে আসে না। এটি যোগাযোগ মন্ত্রীর বাকেয়াস ছাড়া কিছুই নয়।’
মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধের সমালোচনা
র্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নামে মারণযজ্ঞ চলছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। বলেন, ‘গত তিন দিনে চার জেলায় বিচারবহির্ভূত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে সাত জন। এই মাসে যেন পোকামাকড়ের মতো বিচারবহির্ভূত মানুষ হত্যার হিড়িক চলছে।’
‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার উদ্বেগ জানালেও তাতে সরকারের টনক নড়ছে না। …অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে-বর্তমানে দেশে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার বহির্ভূত হত্যার নামে কিলিং প্র্যাকটিস করছে।’
‘সরকারের বিচার বহির্ভূত হত্যার মূল উদ্দেশ্য দেশকে স্থায়ী দুঃশাসনের বজ্র আঁটুনিতে বেঁধে ফেলা, আর সেজন্য জনগণকে আতঙ্কিত করে রাখা।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মুনির হোসেন, আসাদুল করিম শাহীন, শামসুজ্জামান সুরুজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 










