ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ কোনও ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : ইলিয়াসপত্নী লুনা অবশেষে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত ইসলামী নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব: চরমোনাই পীর পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের আমানত : রাশেদ খাঁন ফান্ড তৈরি করে বেকার শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করব: তাসনিম জারা উত্তরায় ফার্নিচার মার্কেটে আগুন নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আ.লীগকে নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবা উচিত: শেখ হাসিনা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে অন্য কারও কথা ভাবতে আবার দলের নেতাদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেছেন, তিন ৩৭ বছর নেতা ছিলেন। এখন নতুন কাউকে খুঁজে নেয়া উচিত।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩৭তম দিবসে বৃহস্পিতবার গণভবনে মূল দল ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শুভেচ্ছা জানাতে যান দলের নেত্রীকে। এ সময় তিনি এই আহ্বান জানান।

২০১৬ সালের অক্টোবরে দলের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনের আগেও একাধিকবার দলের নেতা হিসেবে অন্য কাউকে বেছে নেয়ার অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা। তবে শেষমেশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাকেই সভাপতি নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ছয় বছর ১৯৮১ সালে ভারতে থাকার সময়ই শেখ হাসিনাকে সভাপতি নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। এরপর ওই বছরের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা দলের সভাপতি হিসাবে ৩৭ বছরের বেশি থাকা বোধ হয় সমীচীন হবে না।’ ‘নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবা উচিত।’ এ সময় গণভবনে উপস্থিত সবাই ‘না’ বলে সমস্বরে জবাব দেন।

আওয়ামী লীগের মতো এতো বড় দলের দায়িত্ব চাইনি জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘একাশি সালে আওয়ামী লীগের কনফারেন্সে আমার আজান্তেই আমাকে দলের সভানেত্রী করা হয়।’

দেশে ফেরার স্মৃতি রোমান্থন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তাঁকে বরণ করে নেওয়ার জন্য মানুষের যে ঢল দেখেছেন, মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তাঁকে এখনো আপ্লুত করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্টে চলে যাওয়া ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দেশের গণতন্ত্রায়ণ ও নিরন্ন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর রাজনীতির লক্ষ্য।

সরকারের সমালোচকদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা শ্রেণি আছে, তাদের কিছুই ভালো লাগে না। তারা মিলিটারি ডিক্টেটরদের পা চেটে চলত।’ ‘বুটের লাথি খেলে ভালো লাগে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের আমলে ডেমোক্রেসি থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক কঠিন সময়ে তিনি দেশে ফেরেন। জাতির পিতার খুনিরা তখন পুরস্কৃত হয়ে বহাল তবিয়তে, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স থাকায় বাবা হত্যার বিচার চাইতে পারছেন না, জিয়া তখন নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রতি রাতে কারফিউ দিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। আর ভাঙার চেষ্টা চলছে আওয়ামী লীগকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন দেশ হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করবে, এটা যারা চায়নি তাদেরই এই ষড়যন্ত্র ছিল।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সততার ওপর জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় সৎ থেকে জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন। তার আত্মজীবনী পড়লেই এটা জানা যায়।

বঙ্গবন্ধুর মতো তাকেও বারবার হত্যা চেষ্টার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘মৃত্যুকে আমি অনেক কাছ থেকে দেখেছি। মৃত্যুকে আমি পরোয়া করি না।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুন, দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনিসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর একে একে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ

আ.লীগকে নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবা উচিত: শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০৭:১১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে অন্য কারও কথা ভাবতে আবার দলের নেতাদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেছেন, তিন ৩৭ বছর নেতা ছিলেন। এখন নতুন কাউকে খুঁজে নেয়া উচিত।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩৭তম দিবসে বৃহস্পিতবার গণভবনে মূল দল ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শুভেচ্ছা জানাতে যান দলের নেত্রীকে। এ সময় তিনি এই আহ্বান জানান।

২০১৬ সালের অক্টোবরে দলের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনের আগেও একাধিকবার দলের নেতা হিসেবে অন্য কাউকে বেছে নেয়ার অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা। তবে শেষমেশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাকেই সভাপতি নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ছয় বছর ১৯৮১ সালে ভারতে থাকার সময়ই শেখ হাসিনাকে সভাপতি নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। এরপর ওই বছরের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা দলের সভাপতি হিসাবে ৩৭ বছরের বেশি থাকা বোধ হয় সমীচীন হবে না।’ ‘নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবা উচিত।’ এ সময় গণভবনে উপস্থিত সবাই ‘না’ বলে সমস্বরে জবাব দেন।

আওয়ামী লীগের মতো এতো বড় দলের দায়িত্ব চাইনি জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘একাশি সালে আওয়ামী লীগের কনফারেন্সে আমার আজান্তেই আমাকে দলের সভানেত্রী করা হয়।’

দেশে ফেরার স্মৃতি রোমান্থন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তাঁকে বরণ করে নেওয়ার জন্য মানুষের যে ঢল দেখেছেন, মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তাঁকে এখনো আপ্লুত করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্টে চলে যাওয়া ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দেশের গণতন্ত্রায়ণ ও নিরন্ন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর রাজনীতির লক্ষ্য।

সরকারের সমালোচকদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা শ্রেণি আছে, তাদের কিছুই ভালো লাগে না। তারা মিলিটারি ডিক্টেটরদের পা চেটে চলত।’ ‘বুটের লাথি খেলে ভালো লাগে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের আমলে ডেমোক্রেসি থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক কঠিন সময়ে তিনি দেশে ফেরেন। জাতির পিতার খুনিরা তখন পুরস্কৃত হয়ে বহাল তবিয়তে, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স থাকায় বাবা হত্যার বিচার চাইতে পারছেন না, জিয়া তখন নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রতি রাতে কারফিউ দিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। আর ভাঙার চেষ্টা চলছে আওয়ামী লীগকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন দেশ হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করবে, এটা যারা চায়নি তাদেরই এই ষড়যন্ত্র ছিল।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সততার ওপর জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় সৎ থেকে জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন। তার আত্মজীবনী পড়লেই এটা জানা যায়।

বঙ্গবন্ধুর মতো তাকেও বারবার হত্যা চেষ্টার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘মৃত্যুকে আমি অনেক কাছ থেকে দেখেছি। মৃত্যুকে আমি পরোয়া করি না।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুন, দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনিসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর একে একে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।