ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন জুলাই সনদে ফাঁকফোকর ছিল: মান্না ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’ তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সিলেটে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে সরকারের উদ্দেশে ‘হুংকার’ দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেছেন, ডা. শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম ও মামুনুল হক এই তিনজন যদি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একসঙ্গে হয়ে যায় তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার সরকারের পতন হবে। এটা অনিবার্য, এটা ধরে রাখতে পারবেন না।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্নেল অলি বলেন, তারা যেকোনো সময় ঢাকাতে ২০ থেকে ৩০ লাখ লোকের সমাবেশ ঘটাইতে পারবে। টঙ্গীর রাস্তা বন্ধ করে দেবে, সায়দাবাদের রাস্তা বন্ধ করে দেবে, মিরপুরের রাস্তা বন্ধ করে দেবে, আপনি কোন দিকে দেশে থাকবেন? আপনাকে বুঝতে হবে, আপনি অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।

তিনি বলেন, সংস্কার করতে হলে একটা বিষয় শুধু আপনার অসুবিধা হতে পারে সেটা হলো একাধারে প্রধানমন্ত্রী, একাধারে সংসদের নেতা, একাধারে দলীয় প্রধান। আমাদের প্রস্তাব ছিল যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি দলীয় প্রধান হতে পারবেন না। এই বিষয়টা নিয়ে আপনি ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সঙ্গে কথা বলেন। বাকি কোনো দফা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নাই। আপনি এটা গ্রহণ করেন। গ্রহণ করে তা থেকে মুক্তি দেন।

এ সময় তিনি প্রধামন্ত্রীকে উদ্দেশ‍্য করে বলেন, আপনি একটা জিনিস বুঝতে পারছেন না, জামায়াতের রাজনীতি ১৯৯৫ সালের পর থেকে আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। আজকে তাদের যে শৃঙ্খলা, তাদের দলের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী তো নাই। আজকে যদি শফিকুর রহমানের (জামায়াত আমির) নেতৃত্বে আমাদের ছোট ছেলে নাহিদ এবং শাইখুল হাদিস মামুনুল হক সাহেব- তিনজন যদি এক হয়ে যান, তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার সরকারের পতন হবে; এটা অনিবার্য। এটা ধরে রাখতে পারবেন না। কারণ, তারা যেকোনো সময় ২০-৩০ লাখ লোকের সমাবেশ ঢাকাতে ঘটাইতে পারবে, টঙ্গীর রাস্তা বন্ধ করে দেবে, সায়েদাবাদের রাস্তা বন্ধ করে দেবে, মিরপুরের রাস্তা বন্ধ করে দেবে- আপনি কোন দিকে থাকবেন আপনাকে বুঝতে হবে, আপনি অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।

এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে; টাকা দিয়ে নয়, পদ দিয়ে নয়। আপনি প্রধানমন্ত্রীর জন্য জনগণের মধ্যে বেঁচে থাকবেন না। আপনাকে বেঁচে থাকতে হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আপনার কর্মের মধ্যে প্রতিফলিত হতে হবে, সেটা হলো জনগণ যে সংস্কার চায় সে সংস্কার করেন। অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন। এখনো আপনি দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেন নাই, চাঁদাবাজি বন্ধ হয় নাই।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি এবং আপনার দলের লোকেরা দুর্নীতিবাজ যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা আছে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো পাহারা দিচ্ছে। আপনি খবর নিয়ে দেখেন। আপনার নেতা, আপনার নেতার ছেলেরাই পাহারা দিচ্ছে; আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। আপনি যেহেতু বাইরে ছিলেন তাই বাস্তবের সঙ্গে আপনি এখনো পরিচিত হতে পারেন নাই।

কর্নেল অলি বলেন, আমি অনুরোধ করব সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে আপনি জনগণের প্রধানমন্ত্রী হন। বিএনপির প্রধানমন্ত্রী না হয়ে জনগণের প্রধানমন্ত্রী হতে হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান একেএম আমজাদুল ইসলাম চান। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগের নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সকাল থেকেই সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন।

সিলেটের সমাবেশে বিভাগের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য, অবকাঠামোগত বঞ্চনা এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও জোটের নেতারা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’

আপডেট সময় ১০:১০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সিলেটে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে সরকারের উদ্দেশে ‘হুংকার’ দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেছেন, ডা. শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম ও মামুনুল হক এই তিনজন যদি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একসঙ্গে হয়ে যায় তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার সরকারের পতন হবে। এটা অনিবার্য, এটা ধরে রাখতে পারবেন না।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্নেল অলি বলেন, তারা যেকোনো সময় ঢাকাতে ২০ থেকে ৩০ লাখ লোকের সমাবেশ ঘটাইতে পারবে। টঙ্গীর রাস্তা বন্ধ করে দেবে, সায়দাবাদের রাস্তা বন্ধ করে দেবে, মিরপুরের রাস্তা বন্ধ করে দেবে, আপনি কোন দিকে দেশে থাকবেন? আপনাকে বুঝতে হবে, আপনি অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।

তিনি বলেন, সংস্কার করতে হলে একটা বিষয় শুধু আপনার অসুবিধা হতে পারে সেটা হলো একাধারে প্রধানমন্ত্রী, একাধারে সংসদের নেতা, একাধারে দলীয় প্রধান। আমাদের প্রস্তাব ছিল যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি দলীয় প্রধান হতে পারবেন না। এই বিষয়টা নিয়ে আপনি ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সঙ্গে কথা বলেন। বাকি কোনো দফা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নাই। আপনি এটা গ্রহণ করেন। গ্রহণ করে তা থেকে মুক্তি দেন।

এ সময় তিনি প্রধামন্ত্রীকে উদ্দেশ‍্য করে বলেন, আপনি একটা জিনিস বুঝতে পারছেন না, জামায়াতের রাজনীতি ১৯৯৫ সালের পর থেকে আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। আজকে তাদের যে শৃঙ্খলা, তাদের দলের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী তো নাই। আজকে যদি শফিকুর রহমানের (জামায়াত আমির) নেতৃত্বে আমাদের ছোট ছেলে নাহিদ এবং শাইখুল হাদিস মামুনুল হক সাহেব- তিনজন যদি এক হয়ে যান, তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার সরকারের পতন হবে; এটা অনিবার্য। এটা ধরে রাখতে পারবেন না। কারণ, তারা যেকোনো সময় ২০-৩০ লাখ লোকের সমাবেশ ঢাকাতে ঘটাইতে পারবে, টঙ্গীর রাস্তা বন্ধ করে দেবে, সায়েদাবাদের রাস্তা বন্ধ করে দেবে, মিরপুরের রাস্তা বন্ধ করে দেবে- আপনি কোন দিকে থাকবেন আপনাকে বুঝতে হবে, আপনি অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।

এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে; টাকা দিয়ে নয়, পদ দিয়ে নয়। আপনি প্রধানমন্ত্রীর জন্য জনগণের মধ্যে বেঁচে থাকবেন না। আপনাকে বেঁচে থাকতে হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আপনার কর্মের মধ্যে প্রতিফলিত হতে হবে, সেটা হলো জনগণ যে সংস্কার চায় সে সংস্কার করেন। অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন। এখনো আপনি দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেন নাই, চাঁদাবাজি বন্ধ হয় নাই।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি এবং আপনার দলের লোকেরা দুর্নীতিবাজ যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা আছে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো পাহারা দিচ্ছে। আপনি খবর নিয়ে দেখেন। আপনার নেতা, আপনার নেতার ছেলেরাই পাহারা দিচ্ছে; আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। আপনি যেহেতু বাইরে ছিলেন তাই বাস্তবের সঙ্গে আপনি এখনো পরিচিত হতে পারেন নাই।

কর্নেল অলি বলেন, আমি অনুরোধ করব সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে আপনি জনগণের প্রধানমন্ত্রী হন। বিএনপির প্রধানমন্ত্রী না হয়ে জনগণের প্রধানমন্ত্রী হতে হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান একেএম আমজাদুল ইসলাম চান। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগের নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সকাল থেকেই সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন।

সিলেটের সমাবেশে বিভাগের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য, অবকাঠামোগত বঞ্চনা এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও জোটের নেতারা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।