আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জুলাই সনদে নানা ধরনের ফাঁকফোকর ছিল বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের সাগর-রুনি মিলনায়তনে সোনার বাংলা পার্টির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম মীরাজুল ইসলাম আব্বাসীর স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জুলাই সনদে বলা হয়েছে কোনো দল যদি জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তবে তারা তাদের কর্মসূচি অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। আমরা যে সনদটিতে স্বাক্ষর করেছিলাম, সেখানে শুরুতেই অনেক ফাঁকফোকর ছিল।
বিএনপির এক নেতার সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের যে সচিবালয় গঠন করা হয়েছিল, তা বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে এক নেতা আমাকে বলেন— শাসন পরিচালনাকারীদের তো ক্ষমতা থাকতে হবে। আমি যখন প্রশ্ন করলাম, সেই ক্ষমতা কি বিচার বিভাগের ওপরও থাকবে? তখন তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন— বিচার বিভাগকে একচ্ছত্র অধিকার দিলে কি দেশ চালানো যাবে? বিএনপির অন্য নেতাদের মধ্যেও আমি কথার প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছি, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেসব অধ্যাদেশ দিয়েছিল, তার মধ্যে প্রধানত বিচার বিভাগ সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জুডিশিয়াল কাউন্সিল, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য অধিকার কমিশন ও দুদক নিয়ে বিষয়টি চেপে রাখা হচ্ছে। সরকার পরিচালনাকারীরা যদি মনে করেন নির্বাহী প্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর হাতে সব প্রতিষ্ঠানের ওপর একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকতে হবে, তবে সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধের বিষয়ে মান্না বলেন, কেবল আওয়ামী লীগ ফিরলেই যে ফ্যাসিবাদ আসবে, তা নয়। শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা উভয়েই গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, কিন্তু ক্ষমতার ব্যবহারে শেষ পর্যন্ত তা স্বৈরাচারে রূপ নেয়। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এসে যেকোনো রাজনীতিবিদই যেন স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হতে না পারেন, সেভাবেই আইন ও রাষ্ট্র মেরামত করতে হবে।
সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, মানুষের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও মানসিকতায় পরিবর্তন না এলে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটানো সম্ভব নয়। শুধু ভালো আইন বা সংবিধান সংশোধন করলেই হবে না, সামরিক শাসন বা স্বৈরাচার ঠেকানোর জন্য সার্বিক রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। আবু সাঈদের মতো শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের এই দেশ বদলানোর প্রেরণা দেয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন-অর-রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলু, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ডা. মোস্তাক, রাগিব হাসান মুন্না প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















