অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বগুড়ায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে শাহনাজ পারভিন সিমা (৪৫) নামে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে ‘ধর্মভাই’ টুটুলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে শহরের দক্ষিণ বৃন্দাবনপাড়ায় এ ঘটনার পর টুটুল আত্মগোপন করেছে।
বিকালে পুলিশ গৃহবধূকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতারের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, গৃহবধূর, মুখ, পিঠ, বুক, পেট, হাতসহ শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এখানে বার্ন ইউনিট না থাকায় সন্ধ্যায় তাকে ঢাকার মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধে এ হত্যাচেষ্টা হতে পারে। তবে এলাকাবাসীরা বলেছেন, স্বামী দেশে না থাকায় ওই গৃহবধূর সঙ্গে ধর্মভাইয়ের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এ নিয়ে বিরোধেই তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বগুড়া শহরের দক্ষিণ বৃন্দাবনপাড়ার আবদুর রহমান দীর্ঘদিন দুবাই চাকরি করেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি প্রতিবেশী মৃত সবেদ আলীর ছেলে টুটুলের কাছে জায়গা কিনে বাড়ি করেন। সেখানে স্ত্রী শাহনাজ বেগম সিমা দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। ছেলে আবদুর রউফ সোহাগ রাজশাহীর এক কলেজে এবং মেয়ে রাফি স্থানীয় ভাণ্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।
টুটুল প্রবাসীর স্ত্রী সিমাকে ‘ধর্মবোন’ বানান। বর্তমানে সে দুপচাঁচিয়ায় বসবাস করলেও ‘ধর্মবোন’ সিমার বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
ফুলবাড়ি ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ সিমাকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ছাড়াও বিছানায় থাকা পাটি এবং ওড়না পুড়ে গেছে।
মেয়ে রাফি জানিয়েছে, টুটুল শুক্রবার দুপুরের আগে বাড়িতে আসে। তখন সে ভাত খাচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ টুটুল ঘরে বোতলে থাকা কেরোসিন তার মায়ের গায়ে ঢেলে দিয়ে আগুন দেয়। এরপর সে (টুটুল) পালিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে পাশের ঘরে থাকা তাহমিনা বেগম বের হন।
টুটুল কেন সিমার শরীরে আগুন দিল, সে ব্যাপারে পরিবারের কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, বাড়ির জমি বিক্রির টাকা নিয়ে টুটুলের সঙ্গে প্রবাসী আবদুর রহমানের স্ত্রী সিমার বিরোধ ছিল। তার ধারণা, এর জের ধরেই এ হত্যাচেষ্টা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আহত সিমা কথা বলতে পারলে ও টুটুলকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে এ রহস্য উদঘাটিত হবে। সন্ধ্যায় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। থানায় কোনো মামলা হয়নি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















