ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস রাজনৈতিক পরিবর্তনে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে : ড্যান মজিনা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : সালাহউদ্দিন ‘অনিবার্য কারণে’ জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার সংবাদ সম্মেলন স্থগিত যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না, সবাই সহযোগিতা করলে শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’,বক্তব্যের অন্তর্নিহিত গোমর ফাঁস করলেন হামিম গোপালগঞ্জে মা-বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে গ্রেফতার আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, যে ভারতে ঝুঁকি আছে: আসিফ নজরুল বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু

প্রবাসীর স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা ধর্মভাইয়ের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে শাহনাজ পারভিন সিমা (৪৫) নামে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে ‘ধর্মভাই’ টুটুলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে শহরের দক্ষিণ বৃন্দাবনপাড়ায় এ ঘটনার পর টুটুল আত্মগোপন করেছে।

বিকালে পুলিশ গৃহবধূকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতারের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, গৃহবধূর, মুখ, পিঠ, বুক, পেট, হাতসহ শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এখানে বার্ন ইউনিট না থাকায় সন্ধ্যায় তাকে ঢাকার মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধে এ হত্যাচেষ্টা হতে পারে। তবে এলাকাবাসীরা বলেছেন, স্বামী দেশে না থাকায় ওই গৃহবধূর সঙ্গে ধর্মভাইয়ের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এ নিয়ে বিরোধেই তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বগুড়া শহরের দক্ষিণ বৃন্দাবনপাড়ার আবদুর রহমান দীর্ঘদিন দুবাই চাকরি করেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি প্রতিবেশী মৃত সবেদ আলীর ছেলে টুটুলের কাছে জায়গা কিনে বাড়ি করেন। সেখানে স্ত্রী শাহনাজ বেগম সিমা দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। ছেলে আবদুর রউফ সোহাগ রাজশাহীর এক কলেজে এবং মেয়ে রাফি স্থানীয় ভাণ্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।

টুটুল প্রবাসীর স্ত্রী সিমাকে ‘ধর্মবোন’ বানান। বর্তমানে সে দুপচাঁচিয়ায় বসবাস করলেও ‘ধর্মবোন’ সিমার বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

ফুলবাড়ি ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ সিমাকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ছাড়াও বিছানায় থাকা পাটি এবং ওড়না পুড়ে গেছে।

মেয়ে রাফি জানিয়েছে, টুটুল শুক্রবার দুপুরের আগে বাড়িতে আসে। তখন সে ভাত খাচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ টুটুল ঘরে বোতলে থাকা কেরোসিন তার মায়ের গায়ে ঢেলে দিয়ে আগুন দেয়। এরপর সে (টুটুল) পালিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে পাশের ঘরে থাকা তাহমিনা বেগম বের হন।

টুটুল কেন সিমার শরীরে আগুন দিল, সে ব্যাপারে পরিবারের কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, বাড়ির জমি বিক্রির টাকা নিয়ে টুটুলের সঙ্গে প্রবাসী আবদুর রহমানের স্ত্রী সিমার বিরোধ ছিল। তার ধারণা, এর জের ধরেই এ হত্যাচেষ্টা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আহত সিমা কথা বলতে পারলে ও টুটুলকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে এ রহস্য উদঘাটিত হবে। সন্ধ্যায় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। থানায় কোনো মামলা হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়ংকর অবস্থায় ফ্রান্সের অর্থনীতি

প্রবাসীর স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা ধর্মভাইয়ের

আপডেট সময় ১১:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে শাহনাজ পারভিন সিমা (৪৫) নামে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে ‘ধর্মভাই’ টুটুলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে শহরের দক্ষিণ বৃন্দাবনপাড়ায় এ ঘটনার পর টুটুল আত্মগোপন করেছে।

বিকালে পুলিশ গৃহবধূকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতারের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, গৃহবধূর, মুখ, পিঠ, বুক, পেট, হাতসহ শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এখানে বার্ন ইউনিট না থাকায় সন্ধ্যায় তাকে ঢাকার মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধে এ হত্যাচেষ্টা হতে পারে। তবে এলাকাবাসীরা বলেছেন, স্বামী দেশে না থাকায় ওই গৃহবধূর সঙ্গে ধর্মভাইয়ের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এ নিয়ে বিরোধেই তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বগুড়া শহরের দক্ষিণ বৃন্দাবনপাড়ার আবদুর রহমান দীর্ঘদিন দুবাই চাকরি করেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি প্রতিবেশী মৃত সবেদ আলীর ছেলে টুটুলের কাছে জায়গা কিনে বাড়ি করেন। সেখানে স্ত্রী শাহনাজ বেগম সিমা দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। ছেলে আবদুর রউফ সোহাগ রাজশাহীর এক কলেজে এবং মেয়ে রাফি স্থানীয় ভাণ্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।

টুটুল প্রবাসীর স্ত্রী সিমাকে ‘ধর্মবোন’ বানান। বর্তমানে সে দুপচাঁচিয়ায় বসবাস করলেও ‘ধর্মবোন’ সিমার বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

ফুলবাড়ি ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ সিমাকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ছাড়াও বিছানায় থাকা পাটি এবং ওড়না পুড়ে গেছে।

মেয়ে রাফি জানিয়েছে, টুটুল শুক্রবার দুপুরের আগে বাড়িতে আসে। তখন সে ভাত খাচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ টুটুল ঘরে বোতলে থাকা কেরোসিন তার মায়ের গায়ে ঢেলে দিয়ে আগুন দেয়। এরপর সে (টুটুল) পালিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে পাশের ঘরে থাকা তাহমিনা বেগম বের হন।

টুটুল কেন সিমার শরীরে আগুন দিল, সে ব্যাপারে পরিবারের কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, বাড়ির জমি বিক্রির টাকা নিয়ে টুটুলের সঙ্গে প্রবাসী আবদুর রহমানের স্ত্রী সিমার বিরোধ ছিল। তার ধারণা, এর জের ধরেই এ হত্যাচেষ্টা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আহত সিমা কথা বলতে পারলে ও টুটুলকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে এ রহস্য উদঘাটিত হবে। সন্ধ্যায় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। থানায় কোনো মামলা হয়নি।