ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্রাশফায়ারে নিহত ইউপিডিএফের বিদ্রোহী প্রধানসহ ৫

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গুলিতে নিহত রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে ব্রাশফায়ারে নিহত হয়েছেন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) প্রধান তপনজ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন।

নিহত অন্য চারজন হলেন মহালছড়ির সেতু লাল চাকমা (৪০), কনক চাকমা (৩৮) ও সুজন চাকমা (৩০) এবং খাগড়াছড়ির পানছড়ি নিবাসী মাইক্রোবাসচালক বাঙালি সজীব (৩৪)।

এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। এর মধ্যে দিগন্ত চাকমা (৩০), অর্চিন চাকমা (২৮), অর্জুন চাকমা (৩০) ও মিহির চাকমার (২৮) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া জীবন্ত চাকমা (৩০), শান্তিরঞ্জন চাকমা (৩৪) ও প্রীতি কুমার চাকমা (৩৮) খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নানিয়ারচরের বেতছড়ি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নানিয়ারচরের ওসি আবদুল লতিফ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হতাহতরা একটি মাইক্রোবাসে করে আগের দিন গুলিতে নিহত নানিয়ারচরের উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

মাইক্রোবাসটি রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সীমান্তের কাছে বেতছড়ি এলাকায় পৌঁছলে সেখান আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।

হামলাকারী প্রথমে মাইক্রোবাসের বাঙালি চালক সজীবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। চালক গুলিবিদ্ধ হলে গাড়িটি উল্টে যায়। এর পর দুর্বৃত্তরা আরোহীদের লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) প্রধান তপনজ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা, কনক চাকমা ও সুজন চাকমা নিহত হন। তাদের লাশ রাঙামাটি সদর হাসপাতালে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাকিদের খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চালক সজীব ও সেতু লাল চাকমা মারা যান। এ হাসপাতালেই তাদের লাশ রাখা হয়েছে।

নানিয়ারচরের ওসি আবদুল লতিফ জানান, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলে এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চালক ও আরও একজন খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতালে মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে গঠিত জনসংহতি সমিতি এমএন-লারমার প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

ব্রাশফায়ারে নিহত ইউপিডিএফের বিদ্রোহী প্রধানসহ ৫

আপডেট সময় ০৩:৫০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গুলিতে নিহত রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে ব্রাশফায়ারে নিহত হয়েছেন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) প্রধান তপনজ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন।

নিহত অন্য চারজন হলেন মহালছড়ির সেতু লাল চাকমা (৪০), কনক চাকমা (৩৮) ও সুজন চাকমা (৩০) এবং খাগড়াছড়ির পানছড়ি নিবাসী মাইক্রোবাসচালক বাঙালি সজীব (৩৪)।

এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। এর মধ্যে দিগন্ত চাকমা (৩০), অর্চিন চাকমা (২৮), অর্জুন চাকমা (৩০) ও মিহির চাকমার (২৮) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া জীবন্ত চাকমা (৩০), শান্তিরঞ্জন চাকমা (৩৪) ও প্রীতি কুমার চাকমা (৩৮) খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নানিয়ারচরের বেতছড়ি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নানিয়ারচরের ওসি আবদুল লতিফ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হতাহতরা একটি মাইক্রোবাসে করে আগের দিন গুলিতে নিহত নানিয়ারচরের উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

মাইক্রোবাসটি রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সীমান্তের কাছে বেতছড়ি এলাকায় পৌঁছলে সেখান আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।

হামলাকারী প্রথমে মাইক্রোবাসের বাঙালি চালক সজীবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। চালক গুলিবিদ্ধ হলে গাড়িটি উল্টে যায়। এর পর দুর্বৃত্তরা আরোহীদের লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) প্রধান তপনজ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা, কনক চাকমা ও সুজন চাকমা নিহত হন। তাদের লাশ রাঙামাটি সদর হাসপাতালে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাকিদের খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চালক সজীব ও সেতু লাল চাকমা মারা যান। এ হাসপাতালেই তাদের লাশ রাখা হয়েছে।

নানিয়ারচরের ওসি আবদুল লতিফ জানান, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলে এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চালক ও আরও একজন খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতালে মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে গঠিত জনসংহতি সমিতি এমএন-লারমার প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন।